
সদ্য টিনএজ ছেড়ে আসা বা কলেজে ২য়/৩য় বর্ষে পড়া ছেলেমেয়ে গুলির ভালোবাসা ও ভালোবাসার মানুষের প্রতি হাহাকার দেখে খুব হাসি পায়।
নাহ, ওদের প্রতি না, হাসিটা আমার নিজের প্রতি!
এই বয়সটাই এমন, আমার ঐবয়সে কত কবিতা লিখেছি চোখের জলে তা শুধু আল্লাহ জানে, আমার গ্রামের বাড়িটা ছিল বাগানে ঘেরা, বাগানের একটা বড় নারিকেল গাছের গোড়ায় বসে থাকতাম, কবিতা লিখতাম, সেই বাগানের নিতান্তই কোন গাছের পাতা বাকি ছিল আমার কলমের আঁচড় থেকে, প্রায় প্রতিটা গাছের পাতায় থাকতো আমার লেখা পংতিমালা! এখনো গ্রামের বাড়ি গেলে আমি সেই গাছটার গোড়ায় বসে থাকি একা একা।
দুচোখে দেখতে পারতামনা আসিফকে, পরে দেখি চিৎকার করে করে আসিফের গান গাইতেছি (বাই দা রাস্তা আসিফ তখন গ্রামে গঞ্জে খুব ফেমাস)!
একদিন একজনকে কয়েকটা চকলেট দিয়েছিলাম, সে নেয়নি, সেদিন থেকে চকলেট খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি! মেলা দিন চকলেট খাইনাই, পরে একবার সে দিয়েছিলো চকলেট।
তার বাড়ির সামনে দিয়ে যাবার সময় সাইকেলের বেল বাজাইতাম খুব জোরে (আমার সাইকেলে ৩টা বেল ছিল), সে একদিন বললো তার মা নাকি তাকে জিজ্ঞেস করেছে, এই ছেলে এখান দিয়ে যেতে বেল বজায় কেন এতো? সেদিন সাইকেলের সব বেল খুলে ফেলেদিছিলাম, বাকি জীবনে বেল ছাড়া সাইকেল চালাইছি, আমার বন্ধুরা খুব হাসতো, অনেকের কাছে অবাক লাগতো বেল ছাড়া কিভাবে সাইকেল চালাই!
আরো কত পাগলামি, সারাটা দিন কোনমতে কেটে যেত, কিন্তু সন্ধ্যাটা নামা শুরু হলেই বুকের মাঝে উথাল পাথাল শুরু হয়ে যেত, কারণ দিনে তাকে একটু আধটু দেখা যেত, সন্ধ্যার পরেতো ছিটে ফোটাও না, তখনতো মোবাইল ছিলোনা, ফেবুর ও জন্ম হয়নি।
আমার সেই সদ্য কৈশোর পেরিয়ে আশা যৌবন আর এক সাগর সমান আবেগ যথেষ্ট ছিলোনা তাকে ধরে রাখার জন্যে। সে অবশ্য বলেছিলো সব ছেড়ে পালিয়ে যেতে তার হাত ধরে, ঐটুকু সাহস ছিলোনা তখন। যেদিন তার বিয়ের সংবাদ শুনেছি, সেদিন থেকে টানা ৬দিন অসুস্থ ছিলাম। এরপর কতজন এলো গেলো জীবনে, কত ঝড় ঝাপ্টা এখন আর অসুস্থ হইনা আমি!
তবে হ্যা, তার চলে যাবার ৬ বছর পরে আমি তখন কর্মঠ সামর্থ বান পুরুষ, তখন কেউ একজন আবার স্বপ্ননিয়ে গেলো আমাকে আগা গোড়া নাড়িয়ে দিয়ে, সেটা অন্য আরেকদিন শুনাবো।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




