ঘটনা এক
কিছুদিন আগে দেশের স্বনামধন্য একটি আইটি ফার্মে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ পদে যোগদানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য তাদের অফিসে গিয়েছিলাম। সর্বমোট তিনটি পর্যায়ে বাছাই পর্ব হওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই আমরা চাকুরি প্রার্থিরা হাজির হয়ে পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছি। অনেকেই অপেক্ষা করছি। এর মাঝে একটি ছেলে আমি সহ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করল। ছেলেটির বিশেষত্ত্ব সে সাধারণ। সে বাদে বাকি যারা গিয়েছি তারা প্রত্যেকেই পরিপাটি পোশাকে। ব্যতিক্রম সেই ছেলেটা। প্রায় জীর্ণ এবং অপরিচ্ছন্ন একটি প্যান্ট, একেবারে বেমানান এবং নানা জায়গায় দাগওয়ালা একটি সাদা শার্ট এবং পোলিশ বিহীন একজোড়া ছেঁড়া জুতা। সবার মাঝে অনেকটা লাজুক ভঙ্গিতে জড়োসড়ো হয়ে বসে ছিল সে।
এরপর আমরা পরীক্ষা হলে ঢুকলাম এবং পর পর দুটি পরীক্ষা শেষে যখন ভাইভার জন্য ওয়েটিং রুমে সবাই অপেক্ষা করছিলাম, তখন মনের ভুলেই ছেলেটিকে খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু তাকে কোথাও দেখতে পেলাম না। অবশেষে জানতে পারলাম ছেলেটির পোশাকের জন্য তাকে পরীক্ষা হলেই ঢুকতে দেয়া হয়নি। সুতরাং চাকুরির তো প্রশ্নই আসে না।
ছেলেটিকে পরীক্ষার জন্য যেহেতু ডাকা হয়েছে, এর অর্থ এটাই তার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো। কারণ প্রাথমিক বাছাই করেই ডাকা হয়েছে। কিন্তু তার অযোগ্যতা একটাই, সে দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পরীক্ষা হলে সুন্দর পোশাক পরে আসার সঙ্গতি ও তার নাই। সে বেকার। সে অসহায়। সে তার দারিদ্রতার জন্য কর্পোরেট হাউজে কাজ করার অযোগ্য। অথচ এ অযোগ্যতা কি তার, নাকি আমাদের সমাজ ব্যবস্থার।
আমরা জানি ছেলেটি অনেক আশা নিয়ে এসেছিল। এবং আশাহত ই শুধু নয়, সমাজ ব্যবস্থায় প্রহৃত হয়ে অনেক কষ্ট ও পেয়েছে। আর এ জন্যই হয়ত বাড়িতে ফেরার সময় সারা পথ তার দারিদ্রতাকে ঘৃণা করতে করতে গিয়েছে। তার সে ঘৃণায় সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তণ হবেনা জানি, কিন্তু অভিষপ্ত হবে নিশ্চয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১২:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



