somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৬ বছর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেও শিক্ষক হওয়ার সুযোগ নেই—এ কেমন বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা??

১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৬ বছর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেও শিক্ষক হওয়ার সুযোগ নেই—এ কেমন বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা??

একজন শিক্ষার্থী ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিষয়ে ৪ বছর পড়াশোনা করে বিএসসি ইন এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করলেন। এরপর একই বিষয়ে আরও ১.৫–২ বছর পড়াশোনা করে মাস্টার্স ডিগ্রি নিলেন। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রায় ৬ বছর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করলেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত দীর্ঘ সময় ধরে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার পরও তিনি যদি সেই বিষয়ের ইন্সট্রাক্টর পদে আবেদন করার সুযোগ না পান, তাহলে এই উচ্চশিক্ষার মূল্যায়ন কোথায়?

এটি শুধু একজন কৃষি প্রকৌশলীর কর্মসংস্থানের প্রশ্ন নয়; এটি যোগ্যতার স্বীকৃতি, সমান সুযোগ এবং ন্যায্য নিয়োগব্যবস্থার প্রশ্ন।

১. উচ্চতর ডিগ্রি কি যোগ্যতা, নাকি অযোগ্যতা?

প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় কিংবা কলেজে শিক্ষকতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট পদের নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। সেখানে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের আবেদন করার সুযোগ সাধারণভাবে অস্বীকার করা হয় না; বরং প্রাসঙ্গিক যোগ্যতা ও নিয়োগবিধির শর্ত পূরণ করাই মূল বিষয়।

অথচ ডিপ্লোমা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিষয়ে ইন্সট্রাক্টর হতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিএসসি ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী কৃষি প্রকৌশলীদের জন্য আবেদন করার সুযোগই না থাকলে, সেই যোগ্যতা নির্ধারণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

একজন প্রার্থী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বেশি পড়াশোনা করেছেন বলেই তিনি কেন নিয়োগের সুযোগ থেকে বাদ পড়বেন?

অবশ্যই, প্রতিটি পদের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সেই যোগ্যতা নির্ধারণের ভিত্তি হওয়া উচিত বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, পাঠদানের সক্ষমতা ও পদের প্রকৃত চাহিদা—কোনো একটি শিক্ষাগত পরিচয়কে অযৌক্তিকভাবে একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা নয়।

২. ইন্সট্রাক্টর (ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি) পদে নিয়োগ কোথায়?

ইন্সট্রাক্টর (ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি) ৯ম গ্রেডের পদে সর্বশেষ ৪১তম বিসিএসের নন-ক্যাডার প্রক্রিয়ায় ২২টি পদে নিয়োগের তথ্য রয়েছে। এরপর থেকে বিসিএস বা পিএসসির নন-ক্যাডার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এ পদে নতুন নিয়োগের সুযোগ না থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কৃষি প্রকৌশলীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

দীর্ঘদিন সরাসরি নিয়োগ না হওয়ার ফলে এ বিষয়ে বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী কৃষি প্রকৌশলীরা সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, পদ শূন্য থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যোগ্য প্রার্থী থাকলে নিয়মিত নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে না কেন?

৩. পদোন্নতি থাকবে, কিন্তু সরাসরি নিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হবে কেন?

জুনিয়র ইন্সট্রাক্টরদের পদোন্নতির মাধ্যমে ইন্সট্রাক্টর পদ পূরণ করা হতে পারে—এটি সরকারি চাকরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ, যদি তা প্রযোজ্য নিয়োগবিধি অনুযায়ী হয়।

কিন্তু পদোন্নতির ব্যবস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি সরাসরি নিয়োগের সুযোগও বিধি অনুযায়ী নিশ্চিত করা জরুরি। পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে, যাতে অভ্যন্তরীণ কর্মীদের ন্যায্য সুযোগ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং বাইরে থেকে যোগ্য বিশেষজ্ঞরাও প্রতিযোগিতার সুযোগ পান।

৩৩% পদোন্নতির বিধান বা এ-সংক্রান্ত কোনো আইনি বিরোধকে কেন্দ্র করে যদি সরাসরি নিয়োগ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিধান, মামলার অবস্থা ও শূন্য পদের প্রকৃত চিত্র স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা উচিত।

পদোন্নতির অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি যোগ্য নতুন প্রার্থীদের ন্যায্য প্রতিযোগিতার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ। একটির অজুহাতে অন্যটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকা উচিত নয়।

৪. এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কারা?

ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেইসব কৃষি প্রকৌশলী, যাঁরা ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিষয়ে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাঁদের দীর্ঘদিনের পড়াশোনা, দক্ষতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং পেশাগত ভবিষ্যৎ।

একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে কারিগরি শিক্ষার মান নিয়েও। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান ও বিশেষায়িত দক্ষতাসম্পন্ন প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করার সুযোগ না দিলে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণব্যবস্থা কতটা উপকৃত হবে?

আমরা কারও চাকরির অধিকার কেড়ে নিতে চাই না। আমরা চাই, পদোন্নতির অধিকার বজায় রেখেই সরাসরি নিয়োগের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।

✊ #আমাদের যৌক্তিক দাবি

১। যোগ্যতার বিধি পুনর্বিবেচনা: ইন্সট্রাক্টর (ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি) পদে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিএসসি ইন এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করতে হবে।

২️। বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতার স্বীকৃতি:শুধু ডিগ্রির নাম বা শিক্ষাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান, দক্ষতা, ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ও পাঠদানের সক্ষমতার ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করতে হবে।

৩। নিয়মিত সরাসরি নিয়োগ: ইন্সট্রাক্টর (ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি) পদে অনুমোদিত শূন্য পদের সংখ্যা, নিয়োগবিধি ও পদোন্নতির হিসাব প্রকাশ করে বিধি অনুযায়ী দ্রুত সরাসরি নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

৪️। নিয়োগবিধি ও মামলার স্বচ্ছতা: ৩৩% পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিধান, পদ বণ্টন এবং চলমান আইনি জটিলতা থাকলে তার বর্তমান অবস্থা পরিষ্কার করতে হবে। আইনি বাধা দূর করার উদ্যোগ নিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া সচল করতে হবে।

৫️। বৈষম্যহীন নীতিমালা: ডিপ্লোমা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা এমন হতে হবে, যাতে ডিপ্লোমাধারীদের পদোন্নতির সুযোগ এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারী বিষয়বিশেষজ্ঞদের সরাসরি নিয়োগের সুযোগ—উভয়ই ন্যায্যভাবে বিবেচিত হয়।

#নীতিনির্ধারকদের কাছে প্রশ্ন:

একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রায় ৬ বছর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে অর্জিত জ্ঞান যদি সেই বিষয়ের শিক্ষকতার পদে আবেদন করার যোগ্যতাই না দেয়, তাহলে সেই শিক্ষার কর্মক্ষেত্রভিত্তিক মূল্যায়ন কোথায়?

আমরা কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নই। আমরা কোনো বৈধ পদোন্নতির বিরোধীও নই। আমরা চাই না কারও ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হোক। আমরা শুধু চাই, বিশেষায়িত জ্ঞান ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হোক এবং নিয়োগব্যবস্থায় সবার জন্য ন্যায্য প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হোক।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও কৃষির টেকসই উন্নয়নে কৃষি প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই তাঁদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের স্বার্থেই জরুরি।

✊ #আমাদের দাবি—যোগ্যতার মর্যাদা চাই, বৈষম্য নয়।
ন্যায্য নিয়োগ চাই, অনির্দিষ্ট অপেক্ষা নয়।
পদোন্নতির সুযোগ থাকুক, পাশাপাশি সরাসরি নিয়োগও চালু হোক।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যৌক্তিক সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি।

#কৃষি_প্রকৌশলী
#ফার্ম_পাওয়ার_অ্যান্ড_মেশিনারি
#ন্যায্য_নিয়োগ_চাই
#যোগ্যতার_মর্যাদা_চাই
#ইন্সট্রাক্টর_নিয়োগ_চাই
#বৈষম্যহীন_নিয়োগব্যবস্থা
Source: https://www.facebook.com/share/p/18p3V6HZoz/
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"জামায়াতে Cockroach" ............... বাংলাদেশের নতুন Cockroach পার্টি

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:০১

রবীন্দ্রনাথ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাও চেয়ে থাকেন (তর্কের খাতিরে) তো তাতে *জামায়াতে cockroach এর কোন বা/লটা ছিড়লো…? জামায়াত যেমন বাংলাদেশ চায়নি, তেমনি পাকিস্তানও চায়নি। মওদুদী এর নাম নামকরন করেছিলো নাপাকিস্তান….।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদির আকাশে সংঘাতের কালো মেঘ আর প্রবাসীদের পুরনো বন্দিদশা: আমাদের শ্রমবাজারের নতুন সংকট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৮

বাইরে যুদ্ধাবস্থা, রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হুতিদের লাগাতার ড্রাফট-মিসাইল হামলা, আর অন্যদিকে সৌদি আরবগামী ফ্লাইটগুলো একে একে বাতিল বা স্থগিত—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অভিবাসন খাতে আবারও এক মারাত্মক অন্ধকারের ছায়া নেমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×