
সকল সম্পদের মালিক আল্লাহ তা’আলা। তিনি যাকে ইচ্ছা সম্পদ দান করেন। এজন্য এ সম্পদ অর্জন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে তাঁর বিধি-নিষেধ মেনে চলা আবশ্যক। গরীব দুঃখী মানুষকে দান করা প্রত্যেক মানুষের মানবিক দায়িাত্ব। গোপন-প্রকাশ্যে যে কোনভাবে দান করা যায়। দান করার ক্ষেত্রে মানুষকে উৎসাহ প্রদান বা অন্যরা যাতে এগিয়ে আসে সে ক্ষেত্রে দান করার বিষয়ে মানুষের কাছে প্রচার করা যায়। তবে গোপনে দান করা উত্তম।
দান-সদকা করলে সম্পদ কমে না বরং বৃদ্ধি পায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন: “যারা আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ ব্যয় করে তার উদাহরণ হচ্ছে সেই বীজের মত যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়। আর প্রতিটি শীষে একশতটি করে দানা থাকে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অতিরিক্ত দান করেন। আল্লাহ সুপ্রশস্ত সুবিজ্ঞ।” (সূরা বাকারা, আয়াত ২৬১)। আবু কাবশা আল আনমারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি শুনেছেন রাসূল সা. বলেন, “সদকা করলে কোন মানুষের সম্পদ কমে না।” (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)। রাসূল সা. বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোন কিছু ব্যয় করবে তাকে সাতশত গুণ সওয়াব প্রদান করা হবে।” (আহমাদ, সনদ ছহীহ)।
দানকারীর জন্য ফেরেশতা দু’আ করেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, “প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাদের একজন দানকারীর জন্য দু’আ করে বলে, “হে আল্লাহ দানকারীর মালে বিনিময় দান কর (বিনিময় সম্পদ বৃদ্ধি কর)।” আর দ্বিতীয়জন কৃপণের জন্য বদ দু’আ করে বলে, “হে আল্লাহ কৃপণের মালে ধ্বংস দাও।” (বুখারী ও মুসলিম)।
গোপন-প্রকাশ্যে যে কোনভাবে দান করা যায়। সকল দানেই সওয়াব রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ”যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর, তবে তা কতই না উত্তম। আর যদি গোপনে ফকীর-মিসকিনকে দান করে দাও, তবে এটা বেশী উত্তম। আর তিনি তোমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা করে দিবেন।” (সূরা বকারা, আয়াত ২৭১)। তবে গোপনে দান করা উত্তম। রাসূল সা. ইরশাদ করেন, “কিয়ামত দিবসে সাত শ্রেণীর মানুষ আরশের নীচে ছায়া লাভ করবে। এর মধ্যে এক শ্রেণী হচ্ছে- “এক ব্যক্তি এত গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কি দান করে বাম হাত জানতেই পারে না।” (বুখারী ও মুসলিম)।
দান-সদকা গুনাহ মাফ করে ও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচা যায়। রাসূল সা. বলেন, “খেজুরের একটি অংশ দান করে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা কর।” (বুখারী ও মুসলিম)।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


