কান্নামাখা দৃষ্টি নিয়ে যে মা ছেলের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, তার জন্য আমার কিছু করার নেই! ইজ্জত হারানো মেয়ের বাবা চিৎকার করে এর বিচার চাইতে পারছেন না বলে আমার কিছুই করার নেই! স্বামী হারা বোন বিনিদ্র রজনী কাটাচ্ছেন বলে আমার কিছু করা নেই! কিছুদিন আগে কিছু করতে না পারা তীব্র আক্রোশে চলে গেছেন সাংবাদিক মীনার। কিছু করতে গিয়েছিলেন বলে চলে যেতে হয়েছে সাগর-রুনিকে। তবে আর আমাদের বেঁচে থেকেই বা লাভ কিসে! ষোল কোটি মানুষের এক সঙ্গে আত্নহত্যা করা উচিত!
কিন্তু আত্নহত্যাই সমাধান নয়। মরে যাওয়া যদি সমাধান হতো তবে অনেক আগেই এমন কোন ঘটনা ঘটে যেতো। আমরা বলতে পারি বটে, তবে মরে যাওয়া এত সহজ নয়। কিন্তু আমাদের কি করা উচিত? অসংখ্য সমস্যার সমাধানে কেউ এগিয়ে আসে না (আমিও নই)। কেন? আমরা জাতি হিসেবে এমন কেন? সভ্যতার এই চরম উৎকর্ষের যুগে এ কেমন অসভ্য হয়ে উঠলাম আমরা? নারীদেরকে অপমান করছি অহর্নিশি। নদীর বুকে পেরেক ঠুকছি প্রতিনিয়ত। গরিবের পেটে লাথি মারছি। আর কত অপরাধ করলে উপচে পরবে আমাদের পাপের ঘটি? অসভ্যতারও নাকি শেষ আছে। আমাদের অপরাধের দেখছি শুরু আছে, শেষ নেই।
শিরোণামটি আমার লজ্জায় নত হওয়া মস্তক থেকে বের হওয়া। কোথায় ঢালব এই বেহুদা ক্ষোভ? ব্লগ লিখেও কোন লাভ নেই। এমন বেহুদা ব্লগ কেউ পড়েও দেখবে না। নিজেকে শান্তনা দেয়ার জন্য লেখা এই শিরোণাম। আমাদের ধ্বংস যে অনিবার্য, তা বর্তমান পরিস্থিতিই বলে দিচ্ছে। কোন জাতির সামগ্রিক অপরাধ কখনো ক্ষমার যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে না। আমরা জাতি হিসেবে অপরাধী। একজন নারীকে অপমান করার অপরাধে অপরাধী। একজন মাকে ধর্ষণ করার অপরাধে অপরাধী (কিছুদিন আগে একজন মাকে তার শিশু ও বাবার সামনে ধর্ষণ করা হয়েছে। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে)। আমরা নদী খেকো। আমরা জাতীর শত্রু। এতসব অপরাধের কি বিচার হওয়া উচিত? এই বিচারের ভারও আমাদের উপর দেয়া যায় না। দেয়া উচিত সেই শিশুর কাছে, যার মা ধর্ষিতা হয়েছেন। দেয়া উচিত নদীর কাছে। দেয়া উচিত একদল মৃতের (অন্যায়ভাবে নিহত) কাছে!
এসব নিষ্ফল আক্রোশ দমনের বেশ ভাল উপায়। অন্তত এক সপ্তাহ পর্যন্ত বেশ আরামে কেটে যাবে। মনে শান্তি পাব, বাহ্ কি কাজটাই না করলাম। হয়ত বার কয়েক চেক করে দেখবো ব্লগটাকে কেমন মন্তব্য এসেছে। এ লজ্জা রাখবো কোথায়? পালিয়ে যাওয়ার স্থান থাকলে তাই যেতাম। ভীরুদের জন্য এ স্থান নয়। এখান থেকে তাদের চলে যাওয়াই উচিত।
আমার না হয়, সাহস নেই। আমি না হয় ভীরু-কাপুরুষ। কিন্তু যাদের সাহস আছে, তারা কেন বসে আছে? যাদের মুরোদ আছে, তারা কেন কিছু করছে না? এ প্রশ্নের জবাব কেবল তারাই দিতে পারে। বাংলাদেশে যে মাৎসন্যায়ম চলছে, তার শেষ কবে? এ প্রশ্নের উত্তরও হয়ত শক্তিমানেরাই দিতে পারে। হে শক্তিমান, তোমাদের আগমন কবে হবে? এক অসভ্য জাতিকে সভ্যতা শিক্ষা দিতে এস।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



