শীতের ভোরে সেহরী খেয়ে ফজর নামাজ পরতে যখন মসজিদে যেতাম আমি থাকতাম বাবার চাদরের ভিতরে। বাবা বলতেন, তুই এভাবে আমার চাদরে ঢুকলে বাতাসও যে ঢুকে পরে। আমি রেগে যেতাম। চাদর থেকে বেরিয়ে যেতাম। বাবা আবার আমাকে বুকে টেনে নিতেন। এ ঘটনার সময় আমি ১২ বছরের। কিংবা তার চেয়ে কিছুটা আগ-পিছ হবে হয়তো। বাবা বলতেন, এসব কথা কি তোর মনে থাকবে বড় হয়ে? আমি চুপ থাকতাম। কেন থাকতাম? আমি হয়তো বড় হওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। বাবাকে প্রমাণ দিতে চেয়েছিলাম, আমি তোমার সেই শীতের রাতের কষ্টের কথা ভুলিনি বাবা। কিন্তু আমি যে বড় হতে পারলাম না। তার আগেই বাবা আমাকে ছেড়ে চলে গেলেন। আজ প্রায়ই ভাবি, আহা আমি কেনো আরও আগেই বড় হয়ে উঠলাম না।
বাবার সঙ্গে শেষ যে রাতে আমার কথা হয়, বাবা চেয়েছিলেন আমি যেনো তাকে বুকে জড়িয়ে ঘুমাই। মা দেননি। সে রাতে খুব দেরি করে বাড়ি ফিরেছিলাম। মা বলেছিলেন, তুই ক্লান্ত। ঘুমিয়ে পড়। আহা, সে রাতে যদি বাবার কথা রাখতাম! বাবাকে বুকে জড়িয়ে ঘুমানো ছিলো আমার সবচেয়ে প্রিয়। বাবারও হয়তো প্রিয় ছিলো। আমি বাবাকে জড়িয়ে শেষবারের মতো একটা রাত ঘুমাবার মতো বড় হয়ে উঠতে পারলাম না। বাবাকে বুঝাতে পারলাম না, আমি বড় হয়েও শীতের রাতের সেসব কথা ভুলে যাইনি।
বাবাকে হারানোর পর আমি কখনো মা কিংবা ছোটো বোনের সামনে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করিনি। নিজের ভিতরেই নিজেকে লুকিয়ে রেখেছি। হয়তো আমার মা আর ছোটো বোনও নিজেদের ভিতরেই লুকিয়ে রেখেছে নিজেদের! তারাও কখনো আমাকে নিজেদের কষ্ট বুঝতে দেয় না। এভাবেই চলছে আমাদের দিনকাল।
দিবস নিয়ে আমি কখনোই তেমন একটা ভাবি না। আজ ভাবলাম। কেন? যাদের বৃদ্ধ বাবা আছে, অথচ বাবাকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরার ফুরসৎ পায় না, বাবাকে আদর করে নিজের ছোটোবেলার কথা মনে করে না, ভাবে না এখন আমি বড় হয়ে গেছি, তাদের জন্যই।
যারা সৌভাগ্যবান, তাদেরকে বাবা দিবসের শুভেচ্ছা।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৪:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



