somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইভটিজিং প্রতিরোধ ও বোরকার ব্যবহার: একটি সামগ্রিক আলোচনা

২৬ শে নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একাত্তরের গণধর্ষণ আমি দেখিনাই/ টাঙ্গাইলের গণধর্ষণ আমি দেখিনাই/ দিল্লির গণধর্ষণ আমি দেখিনাই/ কাশ্মীরে বি এস এফ এর গণধর্ষণ আমি দেখিনাই/ সাভারের বোরকা পড়া সেই মেয়েটির ইভটিজিং হওয়া আমি দেখিয়াছি/ তাই আজ লেখিতে বসিয়াছি। এ লাইন গুলো দেখে হয়তবা অনেকেই ভাববেন আমি হয়তবা কবিতা লেখছি আসলে তা নয়। ইতোপূর্ব বেশ কয়েকটি ব্লগ আমি লেখেছি কিন্ত তাতে কোন বাস্তব অভিজ্ঞতা আমার ছিলনা। আজকে আমি একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরব।গত ১৫ই জানুয়ারি আমি একটি রাস্তা দিয়ে হাটছিলাম। নিয়মিতই আমি এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। আমার ১০গজ সামনে দিয়ে স্থানীয় মাদ্রাসার পোশাক বোরকা পরিহিতা একটি মেয়ে হাটছিল।হঠাৎ মেয়েটির সাথে একটি ছেলে যোগ দিল প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তবা তার আত্মীয় হবে। কিন্ত আমার ধারনা তখনই ভুল প্রমানিত হল যখন দেখলাম ছেলেটি যতই মেয়েটির কাছে যাচ্ছে মেয়েটি ততই দূরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আমি ঘটনা বুঝার জন্য দ্রুত হাঁটলাম। কাছাকাছি গিয়ে শুনতে পারলাম ছেলেটি বলছে, আপু প্লিজ ফোন নাম্বার টা দেন এ কথা বেশ কয়েকবার বলল ছেলেটা। মেয়েটা বলল আপনি যান এখান থেকে।তাতেও কোন কাজ হলনা। ছেলেটি এবার তার নিজের মোবাইল নাম্বার দেওয়ার চেষ্টা করল কিন্ত মেয়েটি নিলনা। আমি প্রতিবাদ করতে চাইলাম কিন্ত পারলাম না কারণ এর মধ্যেই একটু পাশেই দাড়িঁয়ে থাকা ৫ জন ছেলের মধ্য থেকে একটি ছেলে এসে মেয়েটাকে বলল আপনি যদি তাকে না ভালবাসেন তাহলে সে আজকেই আত্মহত্যা করবে। মেয়েটি নির্বাক হেঁটে চলল। আমার ইচ্ছে হচ্ছিল মেয়েটিকে তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করি কিন্ত সাহস হলনা আবার সে যদি আমাকেও ইভটিজার ভেবে বসে। এটা ছিল প্রকৃত ঘটনা। এখন বিষয়টা হল আমরা বলে থাকি যে, মেয়েরা বোরকা পড়লে ইভটিজিং এর শিকার হবেনা। কিন্ত তা কি আজ ভুল প্রমাণিত হল? নাকি অন্য কোন কারণ আছে? আমার বিশ্বাস মেয়েটি তার বাবা কে বা কোন মিডিয়াতে এ বিষয়টি প্রকাশ করবেনা। কারণ সে যেহেতু বোরকা পড়ে তাই তার আত্মসম্মানবোধ একটু বেশী।আমার লেখাটি বোরকা বা হিজাবের বিরুদ্ধে নয়, ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে ও কিভাবে ইভটিজিং প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়ে। ২০১০ সালে যখন ইভটিজিং এর মাত্রা অনেক বেড়ে যাচ্ছিল তখন আইন প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেটে পুলিশ মোতায়েন করা হবে। কিন্ত এখন তো পুলিশই ইভটিজিং করে। তাহলে ইভটিজিং কি অপ্রতিরোধ্য? আমি বলব অবশ্যই না।কিন্ত কিভাবএ প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা অনেক সহজ কিন্ত বাস্তবায়ন মোটেই সহজ নয়। আমাদের সমাজ পুরুষ শাসিত হওয়ার কারণে আমরা খুব সহজেই মেয়েদেরকে বোরকা পড়তে বাধ্য করতে পারি। কিন্ত ছেলেদেরকে খুব সহজে ধর্মীয় বিধি বিধান মানতে বাধ্য করতে পারিনা। সেজন্যই বোরকা পড়ার পরও অনেকেই ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছেন। ইভটিজিং প্রতিরোধের একমাত্র্র উপায় হল ছেলে মেয়ে উভয়কেই ধর্মীয় বিধান মেনে চলতে হবে। যে সকল বক্তারা হিজাবের কথা বলেন তারা যেন তাদের ছেলেদের কেও পর্দার বিধান মেনে চলতে বলেন। আর অনেক মেয়েরা আছেন যারা বোরকা পড়ার পরেও প্রেম করে বেড়ান যাতে কেও চিনতে না পারে তারা যেন প্রেম করা ছেড়ে দেন অথবা বোরকা পড়া ছেড়ে দেন। বোরকার মত মহৎ একটি পোশাক কে অপমান করবেননা।সবশেষে যে কথাটি বলব তা হচ্ছে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। প্রত্যেক ব্যক্তিকেই নিজ নিজ ধর্মের অনুশাসন/ আইনগুলো মেনে চলতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ৮:৩৩
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×