somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাবা না থাকলে কেউই চিনে না

১২ ই আগস্ট, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০০৮ সাল। আমার এস এস সি পরীক্ষার ১ মাস আগেই আমার বাবা মারা যায়। আমাদের তিন ভাইয়ের ভিতর সবার ছোট ভাই তখন আম্মুর পেটেই ছিলো।

আব্বু যখন হাসপাতালে ছিলো তখন আমারব ছোট চাচাই দেখাশুনা করত আব্বুকে। আর মাঝে মাঝে এসে হাসপাতালের বিলের টাকা নিয়ে যেতো ১লাখ/২লাখ করে। অনেক ডাক্তার দেখিয়েও মূল রোগটা ধরা পড়েনি। পরে যানা গেছে তাকে ব্ল্যাক ম্যাজিক করা হয়েছিলো তার সম্পদের জন্য।

আব্বু মারা গেলো ১৩ই ফেব্রুয়ারী। মাঝে মাঝে ছোট চাচা ফোন করে জিজ্ঞাস করত কি খেয়ছি। শুধু এতটুকু জেনেই কথা শেষ করত। ছোট চাচা একদিন বাসায় আসে। আবার বিকালের ভিতর চলেও যায়। উনি যেয়ে সবাইকে বলতে লাগলেন আমার মা তাকে দেখে ভ্রু কুচকিয়ে রেখেছেন। তাকে আপ্যায়ন করা হয় নি ইত্যাদি ইত্যাদি। এই ঘটনার ৪/৫ দিন আগেই আমার ছোট ভাই জন্ম নেয়। সিজারের অপারেশন ছিলো। তাই ব্যাথায় সময় কাটত বেশির ভাগ সময়।

উনি আমাদের এই অপবাদ দিয়ে সবার কাছে চোখের বালিতে পরিণত করে। শুধু তাই না। উনি আমার ছোট ভাইয়ের জন্ম নিয়েও কথা তুলেছিলেন। এরকম আরও নানা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের পরিবারকে আলাদা করে দেয়। তখন বুঝিনি কেন এমন করেছিলো। এখন বুঝতে পেরেছি কেন এমনটা করেছিলো। সব ছিলো সম্পদের লোভ।

দাদু বেচে ছিলো তাই কোনো সম্পদ তখন ভাগ হয় নি। দাদু মারা যাওয়ার পর সবাই সবার ভাগ নিয়ে গেলেও আমাদের ভাগের দলিল তারা আটকিয়ে দেয়। দিনের পর দিন মিথ্যা বলে আজও দেয়নি। এমনকি আমাদের ফোনও ধরত না।

এইভাবে চললো অনেক দিন। একবার আমার ফুপা তাদেরকে বলেছিলো আমাদের সম্পদ বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। সেই থেকে উনার বাসায়ও অশান্তি শুরু হয়ে। আর, আমাদের ফুফাত ভাই বোনদের মাঝে অনেক মিল ছিলো। ঐ ঘটনার পর আমার নিজেকে আর নিজের পরিবারকেই অনেক ছোট লাগছিলো এই ভেবে যে, আমাদের জন্য তাদের পরিবারে আজ অশান্তি। আর তার ছাড়াও বয়স আর সময়ের ব্যস্ততার কারনে আমরা ভাই বোনরা সবাই বিভিন্ন জায়গায়। অবশ্য তাদের সাথে আমার কখনোই মনমালিন্য হয় নি।

এই তো বেশ কিছু দিন আগের কথা, চাচাদের অনেক অনুরধের পর তাদের বলিয়ে খুবই অল্প কিছু জমি বিক্রি করিয়েছিলাম। পরে জানতে পেরেছিলাম, জমির পরিমান অনুযায়ী আমাদের প্রাপ্য টাকার পরিমান ছিলো প্রায় ১২ লাখ টাকা। কিন্তু তখন তারা আমাকে দলিল পড়তে দেয়নি। অনেকবার বলেছিলাম একবার দলিলটা পড়ি। কিন্তু না, জোড় করে সাইন করিয়ে নেয়। অবশেষে ৩লাখ টাকা দিয়ে বলে "এইটাই হলো জমির দাম"।

তারা সব সময়ই বলে, আমি কেন তাদের সাথে যোগাযোগ করি না? অবাক লাগে আমার, তারা আমার চাচা, আমার বংশ, কই তারা কি পারে না আমাদের খোজ নিতে??? সেই ২০০৮ সালের পর আজও কোনোদিন খবর নেয়নি আমারা বেচে আছি নাকি মরে গেছি।

আমার বড় ফুপ্পিকে আম্মু বলেছিলো যেন আমাদের হোকটা আমাদের দিয়ে দেক। বেশ কিছুদিন পর উনি জানিয়েছেন, "তোমাদের টাকা/জমি দিয়ে দিলে ওরা কিভাবে চলবে?? ওদের বাচ্চারা কিভাবে চলবে???" এইটা কোনো কথা হইলো??

এসব ছাড়াও আরো হাজার হাজার কাহিনী বলে/লিখে শেষ করা যাবে না। তবে এটা বুঝলাম, আজ আমাদের টাকা পয়সা নেই বলে আমাদের এত তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে। তারা হয়ত ভুলে গেছে সবার একভাবে দিন যায় না। দিন বদলায়। আল্লাহ চাইলে অবশ্যই একদিন প্রতিষ্ঠিত হবো। তখন হয়ত এতো অভাব/কষ্ট থাকবে না। মানুষ অভ্যাসের দাস হওয়ার কারণেই তারা আবার আমার দিকে মুখ তুলে তাকাবে। তখন আমার তাদের আর দরকার হবে না। আমার দুখের দিনে যারা আমার পাশে ছিলো না; আমার সুখের দিনে আমি তাদের পাশে রাখব না। কারন তারা তখন আমাকে চিনবে না, চিনবে আমার টাকাকে।

আমার পড়ালেখা প্রায় শেষের দিকে। আর কয়েক মাসের মাঝেই চাকরি/ব্যাবসা শুরু করবো ইনশা_আল্লাহ। সবাই দোয়া করবেন যেনো মাথা তুলে দাড়াতে পাড়ি। পায়ের মাটিটা যেন শক্ত করতে পারি।

আল্লাহ হাফেজ।
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×