somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি, রূপা আর আমরা দুজন

২২ শে আগস্ট, ২০১৪ বিকাল ৪:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"রুপা" এই নামটার উপর অনেক অনেক আগে থেকেই আমার এক প্রকার দূর্বলতা কাজ করতো। দূর্বলতার পেছনে অবদান বা দায়ী হুমায়ুন আহমেদ স্যার। উনার বই পড়েই নিজেকে হিমু ভাবতাম। আর রুপার উপর দূর্বলতা অনুভব করতাম। রাস্তা-ঘাটে চলতি পথে 'রুপা' নামটা শুনলেই আমার চোখ আর কান রাডারের মত সার্চিং করতে শুরু করত। কিন্তু কখনই কোনো রুপার স্পর্শে যাওয়া হয় নি।

তবে হ্যা, রুপাও আমাকে দেখত। কিন্তু কখনো ও ভাবেনি আমরা দুজন এক হতে যাচ্ছি। ওত গভীরে যাবনা। তবে এক পর্যায়ে আমাদের কাছে আসা হয়। একসাথে চলা শুরু হয়। তবে আমরা মৌখিক ভাবে কখন কমিটমেন্ট করিনি। আমাদের কমিটমেন্ট আমাদের ভালোবাসা, আমাদের আন্তরিকতা, শ্রদ্ধা, সম্মান, কেয়ারিং, শেয়ারিং ইত্যাদির মাধ্যমে বুঝে নেই।

সত্যি বলতে আমি রুপাকে নিয়ে সব সময় গর্ব করি। নিজের ভালোবাসার মানুষ বলে বলছি তা না। আমি ছাড়াও যদি অন্য কেউ থাকত তাহলে আমার মতই গর্ব করত। একজন ছেলে হিসেবে আমি বা আপনি কোন ধরনের মনের মানুষ আশা করেন?? ঠিক তেমনি রুপা।

রুপা অনেকটাই চঞ্চল, ছটফটে, হাসি-ঠাট্টা করা একজন। তবে ওর সকল প্রকার চঞ্চলামী, দুষ্টামি, ছটফটানি সব কিছুই আমাকে ঘিড়েই। আমার এই জিনিসটা খুবই অবাক লাগে। রুপার বন্ধু, বান্ধবী, শত্রু, বয়ফ্রেন্ড, হাজবেন্ড ইত্যাদি ইত্যাদি সবই আমি। আর তাই হয়ত ওর সব কর্মকান্ড গুলা আমাকে নিয়েই করে। হুমায়ুন আহমেদ স্যারের ভাষায় বলতে গেলে " বালিকার প্রথম প্রেমের মত সর্বগ্রাসী প্রেম আর হয় না।"

কিছু কিছু বিষয়ে আমাদের অনেক ওমিল। আমি উত্তর মেরু হলে রুপা দক্ষিণ মেরু। তাই মাঝে মাঝেই মনে হয় আমাদের ভালোবাসাটা অনেকটাই বিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল। ঐযে নাইন টেনে থাকতে পড়ছিলাম, "চুম্বকের বিপরীত মেরু পরষ্পরকে আকর্ষণ করে।" তবে ওমিল থাকাটা ভালো। ভালোবাসায় একপ্রকার টুইষ্ট কাজ করে। সবকিছু মিলে গেলে একঘেয়ামিতা এসে যেতে পারে।

আমি একটা জিনিস খেয়াল করি সব সময় যে, সকালে যদি রুপার ফোন পাওয়া ছাড়া ঘুম ভাঙ্গে তাহলে আমার পুরা দিনটাই মাটি যায়। কোনো না কোনো বিপদ, ঝামেলা, আসহনীয় প্যারা লাগেই থাকে। হতে পারে এটা আমার চেতন/অবচেতন মনের বিশ্বাস।

আমরা একসাথে ঘুড়তে গেলে অনেক মজা করি। হা হা, হি হি, হো হো লেগেই থাকে। রাস্তার এপার-ওপার থাকা, বাসের জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকা, ফুটপাথে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো কিছুক্ষণের জন্য স্তম্ভিত হয়ে যায়। একদিন রিকশা পাচ্ছিলাম না, অনেকক্ষন পর একটা পাওয়ার পর জিজ্ঞাস করলাম "মামা যাবা?? মামা বলল, হো যামু। আর আমরা বললাম, তাইলে যান।" :D আরো ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমাদের মাঝে ঝগড়া যে হয় না তা না। আর ঝগড়া না থাকলে ভালোবাসা জমে উঠে না। মাঝে মাঝে এমনটা করি আমরা যে, আন্তাজে একটা কথা বানায়া ঝগড়া করি। হঠাত করেই ঐটা সিরিয়াস অবস্থায় চলে যায়। আর সেটা চলে অনেকক্ষন। হতে থাকে কিছু মান আভিমানের মেসেজ। একটু পর ফোন করে স্যরি বলা। আস্তে আস্তে আবার সব আগের মতই ঠিক।

আমাদের একটা বড় মিল হলো, আমরা দুজনই অনেক স্বপ্ন বিলাসী। তবে সেই স্বপ্নটা জেগে জেগেই দেখি। কেউ একজন বলেছিল, "স্বপ্ন সেটাই যা তুমি জেগে জেগে দেখো।" আমরা আমাদের ভবিষ্যত সাজাই মনের রঙ নিয়ে। পরিবার-পরিজন নিয়ে, ঘড় সাজানো নিয়ে, বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে, ঘুড়তে যাওয়া নিয়ে আরো ইত্যাদি ইত্যাদি কতই না কি।

আর আমাদের সবচেয়ে বড় সাপোর্ট হলো আমাদের পরিবার। আনন্দ লাগে খুব যখন ভাবি, তারা আমাদের সাথেই আছেন। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আর কয়েক মাসের মাঝেই গ্র্যাযুয়েশন শেষ করে বের হবো। আর, আল্লাহ যদি চান, যদি বেচে থাকি, তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনাদের দোয়ায় আমাদের এই ভালোবাসাকে স্বার্থকতা দিতে পারবো। দোয়া করবেন। :)

আল্লাহ হাফেজ।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×