জ্বিন ভূত নিয়ে আমার কোনোদিন রস-কস ছিলো না। আমি কখন জ্বিন ভূত নিয়ে হরর কোনো বইও পড়িনি। কিন্তু মানুষের মুখে দুই একটা কাহিনী শুনে আমার রাতের ঘুম হারাম হয়ে যেতো। আর জ্বিন ভূত নিয়া মুভি দেখার প্রশ্নই আসে না।
যেই আমি জ্বিন ভূত থেকে ১০০গজ দূরে থাকতাম, সেই আমার সাথেই নাকি ভূত থাকে
এক হুজুরের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কাজেই আসলো না। হুজুরের ঝার-ফুকের পরেও বুঝতাম, আমি যখন শুয়ে থাকতাম তখন স্পষ্ট টের পেতাম আমার পাশে কেউ আছে, কেউ নড়ছে। মাথা ঘুড়ালে আবার গায়েব। যখন গভীর ঘুমে থাকতাম, তখন আমার বিছানা নাড়া দিয়ে ঘুম ভাঙ্গায় দিতো।
একবার ঘুমিয়া ছিলাম। ঐদিন আর বিছানা ঝাকায় নায়। ঐদিন আমাকে ডেকে উঠায়ছে। আম্মুর কন্ঠ নকল করে। কৌতুহল নিয়ে উঠে রুম থেকে বের হইলাম। কিছু দেখতে পেলাম না। শুধু দেখলাম একটা ছায়া রান্না ঘড়ের ভিতর দিয়ে দ্রুত চলে গেলো। তখন ঘড়িতে রাত ২.৪৮মিনিট।
আমার মোবাইলে হেডফোনটা লাগানই থাকে। আর হেডফোন দিয়ে মোবাইলটা পেচিয়ে রাখি। আমি প্রায় সময় দেখেছি, ঘুম ভাঙ্গার পর হেডফোনটা আমার গোলা পেচিয়ে আছে। আমি দরজা লাগিয়ে ঘুমাই। আর মাঝ রাতে দরজা ধাক্কাবে, নোক করবে। শুধু তাই না, আমাদের মেইন গেটের দরজাও এমনি ধাক্কাবে, নোক করবে, আর আমাকে ডাক দিবে।
একদিন রাতে পানি খেতে উঠছিলাম। পানি খেতে খেতে দেখলাম বারান্দার দরজাটা খোলা, আর নড়া নড়ি করতেছে। হালকা উকি দিলাম। কিন্তু ঐ ছায়া ছাড়া আর কিছুই দেখি নাই।
এখন আর বেশি আমার রুমে থাকি না। আম্মুর রুমে চলে যাই। একবার যাওয়ার সময় কম্পিউটারের ছোট সাউন্ড বক্স দিয়ে ঢিল দিছিলো। এছাড়া সিড়ি দিয়ে নামার সময়, উঠার সময় ধাক্কা দেয়া; জুতা হারায় যাওয়া; বই অন্য জায়গায় পাওয়া; অটোমেটিক লাইট ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
দিনের আলোতে কোখনো কোনো সমস্যা করে নাই। কিন্তু রাত হলেই যত প্রকার ঝামেলা শুরু কইরা দেয়। বিরাট পেরায় আছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


