somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নতুন দেখা দুইটা ভালোলাগা মুভি এবং দুইটা বিরক্তিকর মুভি

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৪:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
The Constant Gardener (2005)



এই ধরণের মুভিগুলো দেখতে বেশ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে কিছু ফ্ল্যাশব্যাক আর বর্তমান এই দুই মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া গল্প। মনে হয় যেন আমি কোন গল্পের বই পড়ছি, বইটা এতোটাই ভালো যে মনে হয় পাশে বসে কেউ একজন গল্প বলছে আর আমি মুগ্ধ হয়ে গিলছি। এই মুভিটাও সেরকম। মুভিটা দেখতে গেলে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন অনুভব তৈরী হবে। কখনও মনে হবে টান টান উত্তেজনাময় কোন থ্রিলার, আবার হঠাৎ করে মনে হবে যেন বেখেয়ালে হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার কষ্ট। সাদা দৃষ্টিতে বলা যায় একজন ডিপ্লোম্যাট এবং একজন মানবাধিকার কর্মীর প্রেমের গল্প। যেখানে মানবাধিকার কর্মী (প্রেমিকা) খুন হলে ডিপ্লোম্যাট প্রেমিক সেই খুনের রহস্য উদঘাটনে নেমে আবিষ্কার করেন আফ্রিকার মানুষদের গিনিপিগ বানানোর ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।

Monster's Ball (2001)



এই মুভির জন্য হ্যালী বেরি অস্কার জিতেছিলেন। সেই আগ্রহ থেকেই মুভি দেখতে বসা। এবং এক কথায় চমৎকার লেগেছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে ছেলে অতি অল্প বয়সে বাবার মনে আসে বিরাট পরিবর্তন। পারিবারিকভাবে রেসিস্ট মনোভাব পোষণ করা হ্যাংক এক দূর্ঘটনায় সাহায্য করতে গিয়ে প্রেমে পড়ে যায় লেটিসিয়ার সাথে। এই লেটিসিয়ার স্বামী আবার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামী ছিলো, যে কারাগারের দেখাশোনা হ্যাংক করতো। লেটিসিয়া যখন জানতে পারে তার স্বামীর মৃত্যুদণ্ডের সময় হ্যাংক উপস্থিত ছিলো কি হয় তখন? সাবেক স্বামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হ্যাংককে কি সে ভালোবাসতে পারবে? জীবনের প্রয়োজনে হয়তো কিছু সত্য চুপ করে গিলে ফেলতে হয়।

The 5th Wave (2016)



সায়েন্স ফিকশন মুভির প্রতি বরাবরই একটা দূর্বলতা কাজ করে। সেই হিসেবে মুভিটা দেখা। এলিয়েনরা দুনিয়া দখল করে ফেলছে অলরেডি। চারটা বড় বড় প্রাকৃতিক দূর্যোগের মাধ্যমে তারা দুনিয়া থেকে মানব সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করে স্বল্প সংখ্যায় কমিয়ে আনে। এখন পাঁচ নাম্বার বড় দূর্যোগের জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মাধ্যমে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

মুভিটা দেখে ভালো লাগে নাই, ভেবেছিলাম বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে পাবো। দুনিয়া ধ্বংস হচ্ছে দেখতেই মজা লাগে! তার তেমন কিছুই পাই নাই। আর কাহিনী প্রচণ্ড দূর্বল, এই মুভির পোষ্টারে লেখা উচিত ছিলো মুভিটা ১৩ বছরের বাচ্চাদের জন্য প্রযোজ্য!

Mr. Right (2015)



আমার প্রিয় নায়িকা আনা কেন্ড্রিকের মুভি। আই লাভ হার একচুয়েলি, আমি ভেবে রাখছি জীবনে কখনও তার সামনাসামনি হইতে পারলে আই লাভ ইউ বলবো! 50/50 (2011) মুভিটা দেখে তার ওপর ক্রাশ খাইছিলাম, স্টিল বিদ্যমান। যাই হোক, মিস্টার রাইট হলো একশন প্রেমের সাদা মাটা কাহিনী। আনা কেন্ড্রিক আমার মতো চিটিংয়ের শিকার হয়ে ছ্যাঁকা খেয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে থাকে। তারপর এক হিটম্যান তাকে দেখে তার প্রেমে পড়ে। এইভাবে মাঝেমাঝে অল্প বিস্তর মারামারি ঢিসাঢিসি'র সাথে প্রেম কাহিনী এগোতে থাকে। এই মুভিতে আসলে আমার আনা কেন্ড্রিক ছাড়া আর কিছুই ভালো লাগে নাই!

একটা এক্সট্রা রিভিউ Rockstar (2011)



রকস্টার প্রচণ্ড হাহাকারের একটা মুভি। রেটিং সেই তুলনায় অনেক কম। আইএমডিবিতে রেটিং আর একটু বেশী আশা করছিলাম। পুরা মুভি ইমোশন, অনুভূতি। আর এই অনুভূতিগুলাতে এক্সট্রা মেদ নাই। এই লেভেলের ইমোশন ১৬/১৭ বছর বয়সে একদম খাঁটি থাকে। পুরা মুভি দেখার পর রেটিং কম হবার কারণ খুঁজতে গিয়ে মনে পড়লো মুভিতে নায়িকার অভিনয়। এতো যত্ন করে মুভিটা বানানো মুভিতে নায়িকার অভিনয় কিছু সময় যথেষ্ট বিরক্তিকর ছিলো। এক্সপ্রেশনগুলো মাঝেমাঝে মনে হয়েছে অতি নাটুকে। এই একটা খুঁত ছাড়া মিউজিক বেজ অসাধারণ মুভি রকস্টার। মুভির মিউজিক ডিরেক্টর ছিলেন এ আর রহমান। এই ধরণের পিনিকের মুভির মিউজিক ক্যাপচার করার ক্ষমতা এ আর রহমানেরই ছিলো। মুভি দেখতে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে ইচ্ছে করলেইতো দুজন দুজনার হয়ে যায়, হচ্ছে না কেন। এইটা আসলে পরিচালকের দক্ষতা, সে আপনাকে আটকে রাখবে এবং মুভি শেষে আপনাকে দিবে এক গুহা ভরা হাহাকার।

মুভি ডাউনলোডের লিঙ্ক পাওয়া এখন কোন ব্যাপারনা। তারপরেও কেউ না পেলে কমেন্টে বলবেন, আমি দিয়ে দিবো।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৫:০৭
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×