somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেসবুক অণুকাব্য

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



-
-
-

তোমার শরীরে এতো আলো
কার বুকে আগুন জ্বালো?
তোমার চুলের এতো ঘ্রাণ
কে মাতোয়ারা ওষ্ঠাগত প্রাণ?

***

পোড়া চোখ যদি সমুদ্রেই গেলো
তবে ভোর কেন এলো
চোখভরা লাল আলো
কার চুমুতে জাগবে বলো...

***

তবুও প্রতিদিন ভোর আসে
কি আশায় মৃত নদীতে রোদ ভাসে
ওপাড়ে কেউ ছুটে যায় তীব্র উল্লাসে
এপাড়ে কার আত্মা ধুলোয় যায় মিশে...

***

আমার হলো না উৎসবের পর জেগে থাকা
বৃষ্টির মাঠে একা তোমার ঠোঁটে চিহ্ন আঁকা...

***

নির্জনতায় পড়ে থাকে বিষাদের নদী
মরে গেলে তুমি ফিরে আসো যদি,
চোখের জলে ভাসিয়ে শোকার্ত ফুল
কথার ফাঁকে কথা গেঁথে ভাঙাবে কার ভুল?

***

আমি হয়েছি উদাস হাওয়ার দল
বুকের ভেতর নদী শুকিয়ে নির্জল
তুমি একলা ছাদের একলা গাঙচিল,
তোমার নাম ধরে ডাকে মেঘের মিছিল।

***

তুমি বুঝি ভাবনার নদী
বয়ে যাও নিরবধি,
তোমাকে চায় একরোখা সন্ধ্যামালতি।

তুমি বুঝি রোদের আলো
নদীর বুকে জ্বলো,
তোমার পিছু নিয়ে মাঝি জলে ডুব দিলো।

***

নদীরাও ভিড় করে রোদের হাটে
সন্ধ্যা লেগে থাকে তোমার ঠোঁটে,
বিষণ্ণ রাত যদি শেষ হয় প্রলাপে
ভোরের শিশিরে তুমিও ধুয়ে যাবে।

***

তোমার সাথে নেই কোন স্মৃতিকথা
চুপকথা বা রূপকথা,
তবু তোমার জন্য যতো বিষণ্ণতা।

***

তোমার সাথে আমার হাজার কথা
তবু সামনে এলে শুধুই নীরবতা,
নীলগিরি মাঠে তোমার সাথে দেখা
কার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলে একা?
হাতের ওপর হাতের পরশ না পেয়ে
বুঝি চোখে বিষাদ জমালে,
কসম খেলো যে তোমার চিবুক ছুঁয়ে
কেন তার স্মৃতি মুছে দিলে?

***

বুকের ভেতর ভীষণ রাত
চোখের ভেতর তীব্র বাতাস,
এক হাতে নেই অন্য হাত
নেই আবেগের তীব্র উল্লাস।

***

তোমার অনেক ধার
আমি কেটে যাই তীব্রতায়,
তোমার অনেক আঁধার
লিখে রাখি চোখের পাতায়।

***

ফিরবে বলে আশায় আছি
আলোর বৈঠা বায় মাঝি,
তোমায় নিয়ে সর্বস্ব বাজী
তোমার চোখে আমি বাঁচি।

***

রোদ্দুর পথ যতোদূর
তুমি গিয়েছ ততোদূর,
আমি আর যাবো কতোদূর
কোথায় তুমি কোন সমুদ্দুর?

***

কবে কখন তুমি ছিলে
ঘুমেরও অধিক আপন,
জড়ানো আঙুলে আঙুলে
আমাদের উজান মন।

***

পথ পেরোলে আকাশ আলিঙ্গন
তোমার আমার উজান মন,
এমন দিনে রোদের আলো
রোদ পোহাবার গল্প বলো।

***

তোমার যখন ভাল্লাগেনা সন্ধ্যাবেলা,
আমার তখন একাকিত্বের হাওয়া খেলা।

***

চোখের ভেতর বাতাস ধরি
ঘুমের জন্য বায়না করি,
অসুখী রাতে শহর ছাড়ি
জোনাক সেজে ফিরছি বাড়ি।

***

থাকো বুকে জড়িয়ে
রাখো বুকে মুড়িয়ে,
আঁকো কল্পনা মিশিয়ে
ডেকো নাম স্বপ্ন উড়িয়ে।

***

মেঘের গায়ে যখন হাহাকার
তুমি তখন কাহার?
ভর দুপুরে যখন বিষাদ যাপন
অবরোধে কি তোমারও মন?

***

হুটহাট জোয়ারে জাগে যদি
আবেগী নদী,
মনে রেখো ভুল ছিলো সবই
খুব আপন ছবি।

***

হাতের রেখায় গেঁথেছ অবাধ চলাচল
সেইসব আবর্তে তোমায় আমন্ত্রণ,
শীত ও শিশিরের গল্পে যখন ভোর
তোমায় নিয়ে বুকভরা বুনো শিহরণ।

***

সমুদ্ররাত পেরিয়ে যে পাখি গান ফিরিয়ে নিলো, তার শুণ্যতায় এখন বৈরী হাওয়ার দখল। চমকানো পায়ের চিহ্ন মুছে গেলে কার চোখে জেগে ওঠে আধখাওয়া চাঁদ?

***

মুছে গড়ি আগামী
মৃত্ঘুমপুরীতে বয়ে যায়
বিষণ্ণ নদী,
একা ফিরে এসে
দেখি বৃষ্টি তোমার চোখে।

***

শেষবার সূর্যোদয় দেখার আমন্ত্রণ
সমস্তকে ছুটি দিয়ে শুণ্যতায় ভ্রমণ,
খুব নিরিবিলি জলে শব্দ ফুরোয় একা
হাহাকারে বেদনা মুছে বুঁদ হয়ে থাকা।

এইসব অনুভূতি খামে বন্দী
এঁকেবেঁকে যায় নির্জল নদী,
নিঃস্ব ফুল হারালে হাসি
মৃত্যুর গল্পে কে দিলো ফাঁসি?

***

তুমুল আয়োজনে ভাঙলে সীমান্ত
ঠোঁটে ঠোঁট রেখে কে উত্তপ্ত?
তবু উষ্ণতা ফিরিয়ে হলে নির্লিপ্ত
কামনা ফিরিয়ে রইলে অতৃপ্ত!

***

তোমাকে নিয়ে আমার ভয়
কি হয় না হয়!
তোমার পৃথিবী আমার নয়
এই আক্ষেপ কি শেষ হয়?

***

অমাবশ্যা হোক আর জোছনা
এসব ফাঁদে পা দিইনা,
শীত চাই তীব্র শীত
কুয়াশায় মুছবো অতীত।

***

ব্যস্ত শহরে ব্যস্ত জীবন,
একলা প্রহরে একলা মন!

***

তুমি নৈঃশব্দ্যের গান
আর হাওয়া ভরা শুণ্যতা,
ভেঙে সান্ধ্য অভিমান
গাও জোছনার শোকগাঁথা।

***

কথা দিওনা ভয় লাগে
ছেড়েতো যাবেই,
সন্ধ্যা নামার আগে
হৃদয় ভাঙবেই।

***

যা বলার চুপিসারে বলো
দেয়াল না শুনলেই ভালো,
যখন হবে আমাদের ভাঙন
দেয়াল কি ঠেকাবে তখন?

***

তুমিতো আমার নও
কিন্তু তুমি যে কার!
তুমিতো কারও নও
মুখস্ত করি বারবার!

***

কিছু ভালোবাসা দিনে কিছু রাতে,
হাতে হাত ছাড়াও ঠোঁট চাই ঠোঁটে।

***

আমি লিখি তোমার কবিতা
তুমিই বুঝলেনা,
মানিব্যাগে তোমার ছবিটা
কোনদিন জানলেনা!

***

একটা সিনেমা বানাবো
তুমি হবে খলনায়িকা,
তোমার ছলচাতুরী প্রেমে
খেয়ে যাবো ধোঁকা।

***

তুমি কেটেছ দাগ
বুকে আর পিঠে,
কাউকে দিইনি ভাগ
তোমার একক রাজত্বে।

***

তুমি আমার নরম অনুভূতি
মনজুড়ে তুমুল আকুতি,
চোখের ভেতর জেগে থেকে
অলিখিত শব্দরা ভাঙ্গে।

***

তুমি রাত্রি আমি দিন
দেখা হয়নি কোনদিন,
তুমি বর্ষা আমি রোদ্দুর
হাঁটা হলোনা বহুদূর।

***

এসেছে বসন্ত দিন
বেদনালীন
তুমিহীন।
সাঁঝের বেলায়
মন হারায়
না দেখে তোমায়।
স্মৃতির দেয়ালে
কারে এঁকেছিলে
মুছে গেছে ভুলে?

***

জোছনা
তুমি ফিরে আর এসোনা,
শেষ রাতে
সে চলে গেলো কালো পথে,
আমি বসে থাকি একাকী
কাগজ ভরে লিখে রাখি
হাহাকারের আঁকিবুঁকি।

***

দুহাতে জমানো শতস্পর্শ
রেখে গেলো কতো অনুভূতি,
আমাকে দিয়ে সব রহস্য
ভুলে যাবে সে নিয়ন স্মৃতি।

***

সিঁড়ি ভেঙে ধেয়ে আসে
তার রেখে যাওয়া চিঠি,
শোকার্ত বর্ণমালায় ভেসে
আমি অতীতদিনে হাঁটি।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০১৭ ভোর ৫:০৫
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×