somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিরকুট

০৫ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৮:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গ্রামীনফোন কাস্টমারকেয়ার, সেকেন্ড টোকেনটা ফেলে থার্ড টোকেনটা নিয়ে এসে বসলাম আমি, আমার ছেলেমানুষি কর্মকান্ডে গার্ডটা কিছুটা বিরক্ত, বিরক্ত হলেও কিছু করার নাই। একটা পারটিকুলার কাউন্টারে যেতেই হবে আমাকে.. টোকেনটা উল্টিয়ে নম্বরটা দেখে নিলাম, টোকেন নম্বর ৫০।

-৫০ হাজার, ৫০ হাজার টাকার মত আছে আমাদের আকাউন্টে। ফ্লাশব্যাকের মত সকালে বলা শুভ্রর কথা গুলো মনে পরে গেল আমার।
-শ্রাবনের বিয়ে হল একবছর হয়ে গেছে শুভ্র, এখন বাদ দে, লাইফটা কারো জন্য থেমে থাকে না।
-শুভ্র হাসল, হেসে সিগনেচার করা শুরু করল চেকবইটাতে, শ্রাবন আর শুভ্রর জয়েন্ট একাউন্ট ছিল একটা, কথা ছিল সুখের দিনগুলোতে কিছু টাকা জমা হবে একাউন্টে, সুখের দিনগুলো চলে যায়, স্মৃতিগুলো থেকে যায়... কি মনে করে জমা স্লিপগুলো উল্টানো শুরু করলাম আমি। প্রতিটা জমা স্লিপের পিছনে কিছু কথা লেখা-

২৩ জুন -তোমার engagement উপলক্ষে ৫০০ টাকা জমা দিলাম, মাসের শেষ, তাই বেশি কিছু দিতে পারলাম না।
২৫ জুন- আজ তোমার বিয়ে, ভালো থেকে শ্রাবন।
১৪ই আগস্ট- তোমার জন্মদিন, ৬য় বছরে প্রথম তোমাকে উইশ করতে পারলাম না, মোবাইল বন্ধ, ফেসবুক একাউন্টটাও ডিএক্টিভ করা. হ্যাপি বার্থডে শ্রাবন।
৬ই জানুয়ারী- তোমার নতুন ফেসবুক প্রফাইল খুজে পেলাম আজকে, তোমার হাসবেন্ডের টাইটেলের সাথে ম্যাচ করে নাম রাখা প্রফাইলের, হাসবেন্ডের সাথে তোলা সেলফিগুলো দেখেও ভালো লাগল। ভালই আছ তুমি..

-তুই এখনও টাকা জমা দিস একাউন্টে? শ্রাবনের সইগচেনার ছাড়া এই টাকা তুলতে পারবি না এইটা জেনেও একাউন্ট টাকা জমা দিস তুই?
- শুভ্র আবারও হাসে, হেসে কিছু না বলে চুপ করে থাকল।
- এখনই যখন ভালবাসতি বিয়ে কেন করলি না শ্রাবনকে? ও তোকে ছেড়ে যায় নি। কেন ফিরায় দিলি ওরে?
- আব্বু মানে নাই, কিছুতেই মানে নাই, চাইলে বিয়ে করতে পারতাম হয়ত, বাসা থেকে বের হয়ে যেতে হত.. ব্রোকেন ফ্যামিলির ছেলে আমি, অনেক কিছু চিন্তা করতে হয়, ফ্যামিলিকে সাপোর্ট দিতে হয়..পালিয়ে বিয়ে করলে ছোট বোনটাকে বিয়ে দিতে প্রবলেম হত। সাহস করতে পারি নাই আমি। জানিস শ্রাবনের খুব শখ ছিল একটা পার্লের নেকলেসের, ৫০ হাজার টাকায় নেকলেস হবে কিনা আমি জানি না, শুধু জানি ও এখন আমাকে চিটার ভাবে, বাস্টার্ড ভাবে, কাওয়ার্ড ভাবে..

টোকেন নম্বর ৫০, উঠে দাড়ালাম আমি। হ্যা এই কাউন্টারেই যেতে হবে আমাকে।

গ্রামীনফোনে শ্রাবনের ডেস্কে রেখে আসা চেকবইটাতে ও সিগনেচার করেছিল কিনা আমার জানা নেই, জানা নেই জমা স্লিপগুলো ও একবার পড়ে দেখেছিল কিনা, আমি শুধু জানি বাস্টার্ড শুভ্রর ডেস্কে একটা ছোট মাটির ব্যাংক আছে, শুভ্রর ভাষায় দু:খ ব্যাংক। প্রতিদিন রাতে এই দু:খ ব্যাংকে কিছু চিরকুট জমা পরে, এই চিরকুটের কথা শ্রাবনরা জানে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৮:৫৬
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাসিত নক্ষত্রের শহর !

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯



রাতের শেষে যে শহর জেগে থাকে
তার ভাঙা নীয়ন আলোয়
আমি দেখেছি মানুষের মুখ—
অথচ দেখিনি মানুষ ।
দেখেছি ক্লান্ত আত্মারা,
ধীরে ধীরে আত্মহুতি দেয় প্রতিরাতে।

চারদিকে শব্দ ছিল,
হাজার কথার বিষাক্ত ভিড় ছিল,
কর্পোরেট... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×