somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রজকিনীর দেখা

১১ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নমনীয় এক সৌন্দর্য ছিল তার পুরো অঙ্গে। সি্নগ্ধ ত্বকে পাউরুটির মত তুলতুলে আমেজ ও পটলচেরা চোখের চাহনীর গভীরে আমি তা দেখেছি। সেই সঙ্গে কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া সোজা কালো চুলে এক চিরন্তন সৌন্দর্যের ঢেউ খেলছিল। হয়তো ইন্দোনেশিয়া বা আন্দিনের মত প্রাচীন সে সৌন্দর্য, তবে মহাকালিক। তার পরিধেয় প্রতিটি পোশাকে ছিল সূক্ষ্ম রুচির পরিচয়-সূক্ষ্ম ফুল অঙ্কিত কালো রঙের ওড়না, চিকন ডোরা বিশিষ্ট ঢিলেঢালা জামা আর জিন্স কাপড়ের ট্রাউজার। আমি দরজার পাশের একটি রিডিং রুমে অপেক্ষা করছিলাম। আর ঠিক তখনই আমি তাকে দেখলাম, জান্নাতী হুরের মত ছোট ছোট পা ফেলে সন্তর্পণে হেঁটে আসছে। আমার মন তখন অবচেতনভাবেই বলে উঠল, ‘এ পর্যন্ত দেখা সকল মেয়ের মধ্যে তুমি সবচেয়ে সুন্দর’।
ঠিক অতি প্রাকৃত কোন আত্না এ মুহুর্তের জন্য এল আর চোখের নিমিষে সামনে থাকা চেয়ারে বসে গেল।

তখন রাত আট’টা বাজে। এ বছরের প্রথম রোজা। মাত্র দশ দিন আগে এপেনডি সাইড অপারেশন হওয়ায় রোজা রাখিনি। রমজান মাস হওয়া সত্বে ও সারাদিন বৃষ্টি ঝরার কারণে সন্ধার দিকে রাস্তায় যানবাহন তুলনামূলক বেশিই ছিল। হাইওয়েগুলোতে গাড়ির গতি ছিল বেশ ধীর। রাস্তার দু’পাশে ট্রাকগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। বৃষ্টির আধিক্যে অটোমোবাইলগুলোও নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। তবে রুমের ভিতরের আবহাওয়াটা বসন্তের মেজাজেই ছিল।

নাস্তা আনতে আন্টি চলে গেলো পাশের ঘরে। একটা গান চলছিল পাশের রুমে, কেউ শুনছিলো না। শুধু আমরা দু’জন, এক … জগতে, একাকী…।
শতাব্দীর বড় ঝড় থেমে গিয়েছিল । সে মূহূর্তে আমি তাকে দেখলাম। নিবিড়ভাবে। শরীরের প্রতিটি ইঞ্চি মেপে। তার কপালে স্বপ্ন উড়ে যাচ্ছিল। পানির ওপর ভেসে থাকা মেঘের ছায়ার মত। জীবনের স্পন্দনও শুধু সেখানেই ছিল। গলার হারটি সোনালি ত্বকের মাঝে ডুবেছিল। শুভ্র চেরী ফুলের মত আঙ্গুল থেকে গোলাপী আভা ছড়াচ্ছিল। আর বাম হাতের লম্বা সাদা নখগুলো প্রকৃতির দেয়া অলংকার স্বরূপ রুপের দ্যূতি ছড়াচ্ছিলো। সব মিলে ষোল বছরের বেশি মনে হল না। আমি জেরার্দো ডিয়েগোর চমৎকার সনেটটি মনে মনে আবৃত্তি করছিলাম। তখন শ্যাম্পেনের উপর জমে থাকা বুদ্বুদের চূড়ার দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘আমার অপলক দৃষ্টির সামনে বসে থাকা তোমার প্রতি আমার নিঃস্বার্থ অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততা প্রমাণ করাটাই আমার স্বস্তি।’ তারপর আমি সামনের দিকে কিছুটা হেলে বসলাম। এতো কাছে তবু অনের দূরে মনে হলো আমার। কণ্ঠের মতই গম্ভীর ছিল তার শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি। আর ত্বক থেকে বেরিয়ে আসা কোমল গন্ধটা ছিল তার সৌন্দর্যের একরকম বিশেষায়ন। সে সময় ইয়াসুনারি কাউয়াতার একটা উপন্যাসের কথা মনে পড়ে গেল। বইটা আমি গত বসন্তে পড়েছিলাম। প্রাচীন কিয়োটা বুর্জোয়াদের ওপর লেখা। সেখানে তারা শহরের সবচেয়ে সুন্দর মেয়েদের ঘুমন্ত ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে প্রচুর সময় ব্যয় করত কিন্তু তারা সেই মেয়েগুলোকে স্পর্শ করে জাগানোর চেষ্টা করত না। ঘুমন্ত রমণীদের অবলোকন করার মাঝেই ছিল তাদের সুখ। সেই সন্ধায় সুন্দরীকে অবলোকন করতে গিয়ে আমিও ঠিক একই জরাগ্রস্ত আনন্দ খুঁজে পেয়েছিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১:৪৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=পাপের ওজন কমিয়ে ভারী করো নেকির পাল্লা, ও রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫০


বহু পাপে জীবন হয়ে গেল আধেক পার,
জেনেও না জানার ভান ছিল,
মোহ আঁকড়ে ধরে রেখেছি, ধরার সুখে যে আচ্ছন্ন!
পাপ জেনেও পাপ সমুদ্দুরে কেটেছি হরদম সাঁতার!

চোখের পাপ, হাতের পাপ, আহা ঠোঁটেরও যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই/ঝুলাই

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৯



আমরাই মারবো,লাশ করবো গুম,
আমরাই জানাবো শোক!

আমরাই বলবো , গলা ফাটা চিৎকারে-
ওরা ছিলো আমাদেরই লোক॥

আমরাই বাঁধাবো দু’তরফা দাঙ্গা,
... ...বাকিটুকু পড়ুন

সবিই জানে চিলে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯


কি খেলা খেলছি মুই
নাকে সরিষার তেলদিয়ে
তবুও চোখে ঘুম আসে না
সারা রাত ধরে খাচ্ছি খই
কি খেলা খেলছি মুই!
আনন্দটা পেট ব্যথার মতো না
যেখানে খেয়ে যায়, বাঘ পানি-
কুমিরটা ও অপেক্ষায় থাকে
জলে জলহস্তী... ...বাকিটুকু পড়ুন

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×