somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রেজাউল করিম সাগর
হাড্ডি খিজিরের মত ঠোঁটকাটা হইতে চাই শেষমেশ ওসমান অরফে রঞ্জু হয়াই দিন কাটে। রোগা শালিকের বিবর্ণ ইচ্ছা কী আছিলো সেইটা অনুভব করার খুব শখ আছিলো, জীবনদা তো আর নাই। তার কথা মনে হইলেই শোভনার ব্যর্থ প্রেমিক, লাবণ্যের ব্যার্থ স্বামী মনে হয়।

চিন্তার বুনন - ১

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে মাঝে কিছু ছোটখাটো চিন্তাভাবনা ফোনের নোটপ্যাডে লিখে রাখি। লুতফুর রহমানের একটা প্রবন্ধ পড়েছিলাম বছর দুই আগে, সেখানে তিনি বলেছিলেন," নিজের চিন্তাগুলোকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ বাক্যে ধরে রাখো। অনেক বছর পর তা একটি সুন্দর গ্রন্থ হয়ে যেতে পারে।" এই কথাটা পড়ে শুরু করলেও প্রতিদিন লেখা হয়নি। কোন গ্রন্থও হয়নি। তবুও নিজের চিন্তাগুলোকে পরবর্তীতে পড়তে খারাপ লাগেনা। অনেক বছর পর মনে হয় আরে আমি এভাবেও ভাবতাম? তাই কিছু চিন্তার বুনন এখানে থাকুক। হুমায়ূন আজাদের প্রবচনগুচ্ছ আছে আর আমার চিন্তার বুনন।



১। বুদ্ধিবেশ্যারা এই সমাজের প্রতিটি স্তরে স্তরে অবস্থান করছে।
নিজেদের ঘেন্নাকর কাজ নিয়ে এরা আবার প্রকাশ্যে গর্ববোধও করে !
সমাজ থেকে পতিতা পল্লী তুলে দেয়ার আগে এসব বুদ্ধিবেশ্যাদের তাড়ানো উচিৎ ,
তাহলে বরং সমাজ অধিক নিষ্কলুস হবে।
এদের চেয়ে দেহব্যবসায়ীরা অনেক ভালো, পবিত্র।

২। নিজের সৃষ্টিকর্মের প্রতি সবারই কমবেশি ভালোবাসা থাকে । কিন্তু যখন কেউ নিজের সেই সৃষ্টিগুলোকে আক্রোশ/অবহেলার সাথে ধ্বংস করতে থাকে তখন তাকে ঠিক স্বাভাবিক বলা যায়না।

৩। পাকিস্তানি হানাদার ও রাজাকাররা তাদের রক্তখেকো বেয়নেট-রাইফেল নিয়ে পালিয়েছে,
অথচ এখন এই স্বাধীন বাংলাদেশেও দেখি মনখেকো বিমূর্ত রাইফেল-বেয়নেটের ছড়াছড়ি । এখনকার বিমূর্ত অস্ত্রে দেহের মৃত্যু হয়না-মৃত্যু হয় মনের , যে মনের জন্য আমরা নিজেদের মানুষ দাবি করি।
#বিমূর্ত_অস্ত্র।

৪। অন্য মানুষ কবির কবিত্বকে যতটাই পছন্দ করে, কবি বেচারাকে ঠিক ততটাই অবহেলা,করুণা কিংবা অপছন্দ করে । অথচ কবিরা যুগের সবচেয়ে অগ্রগামী মানুষ; সমাজ-সভ্যতার সবচেয়ে আধুনিক মানুষটিই কবি হয়।

৫। যে লেখার প্রেরণা বাইরের তাতে মৌলিকতার অভাব থাকতে পারে।।

৬। পিচগলা রোদ আর ঠোঁটগলা চুম্বনের প্রথমটা অসহ্য,দ্বিতীয়টি একান্ত কাম্য । অথচ প্রথমটা সহ্য করেই কাটাতে হয় ২০-২১ বর্ষীয় বাঙালি যুবকদের। দ্বিতীয়ের আশা করাই যায়না । লোভনীয় ওষ্ঠ পানের প্রচন্ড তৃষ্ণা চেপে ভন্ড সাধু হয়ে বিয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়। এদেশে ভন্ডরাই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট বিবেচিত হয়। ওষ্ঠপানের বৈধতা দেওয়াটা সব যুবকের প্রাণের দাবি কিন্তু মান হারাবার ভয়ে সবাই ছাই দিয়ে আগুন চাপা দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে । ইংলিশ মুভির/নীল ছবির অন্তরঙ্গ চুম্বন দৃশ্য দেখে দেখে ওরা অতৃপ্তিতে ঠোঁট কামড়ায় । তবু ওষ্ঠের তৃষ্ণা থেকে মুক্তি মিলেনা । মিলবেওনা জানি।
০৬ জুন ২০১৬

৭। একজন লেখকের লেখক সত্ত্বাটি অন্য সব সত্ত্বার চেয়ে সেরা । লেখার মধ্য দিয়ে তিনি তার সীমাবদ্ধতাগুলো অতিক্রম করে যান

৮। সবাই সাধারণের মাঝে অতিসাধারণ হয়ে মিশে যেতে পারেনা, কেউ কেউ পারে । তারা অসাধারণ ।

৯। সুখের মাঝে বেঁচে থেকেও সবাই সুখি হতে পারেনা অথবা হতে চায়না । তারা ইদুরদৌড়ে বিজয়ী হতে গিয়ে সুখটুকু বিসর্জন দিতে রাজি আছে । কিন্তু বিমূর্ত বিজয় মুকুট কখনো হাতছাড়া করবেনা ।

১০। আমরা শিক্ষার্থী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করি, চার-পাঁচ- ছয় বছরে নির্যাতিত হয়ে শেষে এক একজন শৃঙ্খলিত মানুষ হয়ে বেড়িয়ে যাই। অনেকেই মুক্তভাবে চিন্তা করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলি।


১১। শ্রদ্ধেয় বুদ্ধিজীবীরা সেই একাত্তরেই হারিয়ে গেছেন। এখন যাদের আমরা সেভাবে চিনি তাদের অধিকাংশই বুদ্ধিবেশ্যা । আরো অনেকেই ভবিষ্যত বুদ্ধিবেশ্যা হবার স্বপ্নে ব্যয় করছে তাদের ক্ষুদ্র জীবনটুকু। শিক্ষিত সমাজের একটি বিরাট অংশই তা করছে । কেননা নষ্ট সমাজে বেশ্যারাই শ্রেষ্ঠ ।
#বুদ্ধিবেশ্যা।

১২। রাজনৈতিক সভায় বক্তব্যের মাঝে পয়েন্ট অফ অর্ডার, প্রিভিলেজ এবং ইনফরমেশন তোলার সুযোগ রাখা উচিত।

১৩। আমরা বর্তমানে যে সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতার খরার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি , তাতে খুব বড়সড় সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছাড়া এ থেকে উত্তরণ রীতিমত অসম্ভব।তবে হাংরি আন্দোলনের মত একটি শক্তিশালী কিন্তু ছোট আন্দোলন করতে পারলেও চলতে পারে । শূন্যতার গহ্বর দিনদিন বড় হয়ে যাচ্ছে। একে আর বাড়তে দেয়া যাবেনা।

১৪। আমরা যে কোনো মূল্যে ভালো থাকার জন্য এতটাই ব্যতিব্যস্ত থাকি যে, ভালো থাকাটাই অসম্ভব হয়ে যায়! এবং এত ব্যস্ত থেকেও ভালো থাকা বলতে কি বোঝায় এবং ভালো থাকতে হলে কী প্রয়োজন তা অধিকাংশ মানুষই জানিনা!

১৫। কবির কবিতার বিষয় হতে সবাই উৎসাহী, কিন্তু কেউই কবি বেচারার সাথে সম্পর্কে জড়াতে চায়না । কেননা তাতে তাদের ভবিষ্যত,কবির অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সাথে মিলে অনিশ্চিত হয়ে যাবে । তাদের অবহেলাগুলো জমিয়ে জমিয়ে কবিরাও আরো অনেক কালজয়ী লেখা লিখে চলেন।
ওদের দানকৃত কষ্টগুলোই তাঁদের খাতায় কবিতা হয়ে ঝরে পড়ে। অন্যভাবে বলতে গেলে অবহেলাগুলোই ক্রমে তাদের কালজয়ী কবি করে তোলে ।

১৬। কাউকে ভালোবাসার জন্য 'ভালোবাসা'-ই সবচেয়ে বড় যোগ্যতা । ভালোবাসা থাকলে অন্য সবকিছু তুচ্ছ হয়ে যায় । কিন্তু ভালোবাসা না থাকলে অন্য সব যোগ্যতার পেছনে ছোটা লাগে । অন্য অর্থে ওই সব যোগ্যতাকেই ভালোবাসতে হয়; মানুষটিকে আর ভালোবাসা হয়ে ওঠেনা ।
০৮-০৯-১৬

১৭। অনেক কিছু নিয়ে,অনেকরকম বোধ,আবেগ অনুভূতি নিয়েই গল্প,কবিতা,গান কিংবা স্রেফ দিনপঞ্জি লেখা যেতে পারে । কিন্তু সেই সেসবের যদি গভীরতা না থাকে তাহলে তেমন সাহিত্য রস সমৃদ্ধ হবেনা । তেমনভাবে হৃদয় ছুঁয়ে যাবেনা এবং খুবই সস্তা ,খুবই খেলো হয়ে যাবে লেখাটি । তাই কিছু লেখার আগে সে বিষয়ে চিন্তা,বোধ,আবেগ এবং অনুভূতির গভীরতা থাকাটা খুবই প্রয়োজন ।
১৬-০৯-১৬

১৮। প্রথম প্রথম যেকোন বই পেলেই পড়ে ফেলতাম । এখন বেছে বেছে পড়ছি । এখন আবার মনে হচ্ছে সে বাছাই প্রক্রিয়া আরো কঠোর হতে হবে-ছাকনি লাগবে আরো সূক্ষ্ম। কারণ সময়ের সল্পতা এবং বিশ্বসাহিত্যের অসীমতা । তাই ভাবছি ক্লাসিকগুলোই বেছে বেছে পড়বো। কিন্তু শুধু ক্লাসিকে পরে থাকলেও চলবেনা বর্তমান বিশ্বসাহিত্য সম্পর্কে খোঁজ না রাখলে পিছিয়ে পরতে হবে । এমনিতেও অন্য অনেকের চেয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে আছি । তাহলে এই মুহূর্তে
১৬-০৯-১৬ইং

১৯। সবাই টিচার নয়, কেউ কেউ টিচার - বাকী সবাই চিটার ।

২০। নিয়মকে মেনে নিয়ে, নিয়মের শত বখাট্য অনিয়ম ভাঙার অবাধ্য অসুখ দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:৪০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রসায়ন পরীক্ষায় রসটাই আসল :D

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:০৩

রসায়ন পরীক্ষায় রসটাই আসল। না দেখলে মিস!! =p~


সালোকসংশ্লেষণ B-)

...বাকিটুকু পড়ুন

নক্ষত্রের বিদায়!

লিখেছেন এম টি উল্লাহ, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:৫২


দেশবরেণ্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি, সাবেক স্পীকার, সাবেক মন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য, ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকার স্যার রাত ৪ টা ১০ ঘটিকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা আলোচনায় থাকারই কৌশল মাত্র

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৮

চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া সাবেক স্বৈরশাসক ও বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার আগামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মান্তরের ক্ষুধা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:০৮




ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, সেই সাথে গুমোট আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন  আবহ । একটানা টুপটাপ আওয়াজ ছাড়া চারদিক সুনসান।বৃষ্টি তার ক্লান্তি কাটাতে  যেই একটু থমকে দাঁড়িয়েছে অমনি বুনো শালিকেরা নেমে এলো খাবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা খাদক ছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আজকে সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু একটা এমন তথ্য দিলেন যেটা শুনে বাংলাদেশের আমজনতা রীতিমতো ক্যালকুলেটর হাতে বসে গেল। কথা হচ্ছে শেখ হাসিনার খাবার খরচ নিয়ে। কোন সালে কত টাকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×