somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রিমন সাঁই
সেচ্ছাসেবক(এফওএসএস বাংলাদেশ), গণিত বিভাগে পড়াশুনা করি, প্রচুর পরিমাণে কফি খাই, সোজাসাপটা কথা বলি, আর্চ লিনাক্স ব্যবহার করি, মন ফুরফুরা থাকলে কোডিং শিখি

সমাজের বিভিন্ন দিক

২৯ শে আগস্ট, ২০১৬ সকাল ১১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমেই আমাদের জেনে নেয়া দরকার সমাজ কাকে বলে অর্থাৎ সমাজের সঙ্গা।
সমাজঃ ম্যাকাইভার এবং পেজ বলেছেন, "সমাজ হলো মানুষের আচার ও কার্যপ্রণালী, কর্তৃত্ব ও পারস্পরিক সাহায্য, বিভিন্ন সংঘ ও বিভাগ, মানব আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতা- এসব কিছুর সমন্বয়ে গঠিত সদা পরিবর্তনশীল একটি জটিল ব্যবস্থা। সমাজ সদা পরিবর্তনশীল সামাজিক সম্পর্কের একটি ধারা।"
সমাজবিজ্ঞানী গিডিংস এর মতে, "সমাজ হলো সম-মনোভাবাপন্ন এমন একদল লোকের সমাবেশ, যার সদস্যরা তাদের অভিন্ন মানসিকতা সম্পর্কে জানে এবং সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা করে।"

আদিমযুগঃ প্রাচীনকালে মানুষ ছিল প্রকৃতি নির্ভর। খাদ্যের যোগান,বাসস্থান,পরনের কাপড় থেকে শুরু করে সকল কিছুর জন্যই নির্ভরশীল ছিল প্রকৃতির উপর। তারা এককভাবে পশু শিকার করতো। একসময় তারা সঙ্গবদ্ধ আক্রমণের কৌশল রপ্ত করতে শিখে। জীবনযাত্রার পরিবর্তন হতে শুরু হতে থাকে। জীবনকে সহজ করার লক্ষে , প্রথমে তারা ছোট-ছোট দলে এবং পরবর্তীতে বৃহৎ দলে সঙ্গবদ্ধভাবে বসবাস করতে থাকে। ফলে হিংস্র পশুর আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারাটা সহজ হয়। একে অন্যেকে সহযোগীতার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করতে থাকে।

সমাজ গঠন,কারন ও বর্তমান অবস্থাঃ সমাজের সূচনা কিংবা জন্ম হয়েছিল প্রধানত একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগীতার জন্য। একটু ভেঙ্গে বললে, সমাজ নামক একটা বিষয় থাকবে যাকে কেন্দ্র করে লোকজন সঙ্গবদ্ধভাবে বসবাস করবে। এই সমাজে, একজন প্রধান থাকবে; যে সমাজস্থ সকল সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে জ্ঞাত থাকবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করবে। সমাজের প্রত্যেকটি সদস্য তার কথা মানতে বাধ্য থাকবে। প্রত্যেকটি সমাজে অসচ্ছল কিছু লোক আছে, তাদের সহায়তা ও কল্যাণমূলক কাজ করার জন্য একটি ফান্ড থাকে। ফান্ডটির দায়িত্বে থাকে সমাজের কর্তাব্যক্তি/ব্যক্তিরা। সমাজের সচ্ছল সদস্যরা বছরে একবার/দু'বার এই ফান্ডে অর্থ দিয়ে থাকে। ফান্ডটির কাজ হলঃ ১) ইমামের মাসিক হাদিয়া প্রদান ২) সমাজস্থ দুস্থ, দরিদ্রের অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করা। কিন্তু সমাজের কর্তাব্যক্তি/ব্যক্তিরা প্রথমটি করলেও দ্বিতীয়টি করে না অর্থাৎ অস্বচ্ছল, দুস্থ, দরিদ্রদের সহায়তা করে না।

সমাজ ব্যবস্থার দ্বারা শোষণঃ এছাড়া সমাজের উন্নয়নের নামে বিভিন্ন প্রকার চাঁদা নেয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে চাঁদা দিতে না পারলে সমাজে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।(***সমাজে বন্ধ হচ্ছে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা অর্থাৎ যাকে সমাজ থেকে বন্ধ করা হচ্ছে সে ব্যক্তি /পরিবার, সমাজের অন্য সদস্য / পরিবারের কাছ থেকে কোন প্রকার সাহায্য-সহযোগীতা পাবেনা। ) এই চাপের ফলে একরকম বাধ্য হয়েই ঋণ করে হলেও সেই চাঁদা পরিশোধ করা হয়। এতে দরিদ্র পরিবারগুলো দিনদিন আরো দরিদ্র হচ্ছে। অপরদিকে এই টাকায়, সমাজ প্রধান দিব্বি আরাম-আয়েশ করে বেড়াচ্ছে। কারণঃ এই টাকার হিসাব সাধারণত অন্য সকল সদস্যরা রাখে না; যদি কেহ এই বিষয়ে মুখ খোলে অর্থাৎ কথা বলে তবে তাকে ফেলা হয় village politics নামক নোংরা রাজনৈতির মধ্যে। village politics হচ্ছে এমন একটা নোংরা রাজনৈতি যার ফলে একজন মানুষ পুরোপুরিভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।

সমাজের কর্তাব্যক্তি /ব্যক্তিদের দ্বারা দূর্নীতিঃ সামাজের কর্তা ব্যক্তিরা সাধারণত বয়স্কভাতা, রাস্তা সংস্কার খাত, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ইত্যাদি থেকে অর্থ আত্মসাধ করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কেউ প্রতিবাদ করে না বা করতে পারে না।

সামাজিক বিচার ব্যবস্থাঃ বিচার ব্যবস্থা বলতে কিচ্ছু নেই। যার/যাদের ক্ষমতার (টাকা+লোকবল) জোর আছে তারা নেয় বিচার পায়, যাদের সে জোর নেই তারা কখনো ন্যায় বিচার পায় না। আর একটি কথা, সামাজিক বিচার ব্যবস্থায় আজকাল ঘুষের প্রচলন বৃদ্ধিপাচ্ছে। ঘুষ হচ্ছে ন্যায় বিচারের চাবিকাঠি।
nb: মাঝেমধ্যে sympathy খুব কাজে দেয়।

####প্রথম লিখতেছি, হয়তো সবকিছু গুছিয়ে লিখতে পারিনি; ভুলত্রুটি থাকাটা স্বাভাবিক।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১৬ সকাল ১১:১৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×