সে এক দেখার মতো দৃশ্য! মোহাম্মদ আশরাফুল স্ট্রাইকে আসলেই শ্রীলঙ্কান ফিল্ডাররা সব পড়িমরি করে চলে যাচ্ছেন বাউন্ডারি লাইনে। 136 রানের ইনিংসে যার 15 বাউন্ডারি আর 3 ছক্কা থাকে তার জন্য এমন প্রতিরোধ ব্যবস্থা তো নিতে হবেই। বাংলাদেশ ইনিংসের 70 ওভারের পর থেকে আশরাফুল আউট হওয়ার আগপর্যনত্দ এই ছিলো মাঠের নিয়মিত চিত্র! কিন্তু ততোনে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরীর দেখা পেয়ে গেছেন টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকণিষ্ঠ সেঞ্চুরীয়ান। একপর্যায়ে বোলার আর উইকেটকিপার ছাড়া বাকী 9 জনকেই দেখা গেছে বাউন্ডারি ঠেকাতে ব্যসত্দ! এটা মনে হয় শ্রীলঙ্কানদের একটু বেশী বাড়াবাড়ি! তারপরও মুরালির শততম টেস্টের প্রথম দিনটা হয়ে থাকলো আশরাফুলের!
দিনের খেলা শেষে নিজের তিন সেঞ্চুরীর মধ্যে তুলনা করতে বলা হলে একটু যেন সিদ্ধানত্দহীনতায় পড়ে যান তিনি। 'মায়ের কাছে সব সনত্দান সমান' ওই কথাটার মতো করে বললেন,' আসলে একেকটা সেঞ্চুরীর মজা ও গুরুত্ব একেক রকম। তুলনা করাটা কঠিন। হয়তো ঠেকও না।' আসলেই তো 114 রানের ইনিংসটা তো শুধু আশরাফুলের জন্যই না, পুরো ক্রিকেট বিশ্বের জন্যই অনন্য এক রেকর্ড। 17 বছর 61 দিন বয়সে টেস্ট অভেষেকেই সর্বকণিষ্ঠ হিসাবে সেঞ্চুরী করেন এই শ্রীলঙ্কার বিপ।ে এরপর ভারতের বিপ েকরা তার 158* রানের ইনিংসটা বাংলাদেশী কোন ব্যাটসম্যানের সবের্াচ্চ রানের ইনিংস। সেই বিবেচনায় গতকালের ইনিংসটাকেই তো রাখতে হয় তিন নম্বরে। কিন্তু যারা 136 রানের ইনিংসটা দেখেছেন তারা ভালো করেই বুঝবেন আলোচিত ওই দুই ইনিংসের তুলনায় মানে গুনে কোন অংশে কম ছিলো না এটা। তাই আশলাফুলই ঠিক, কোনটা সঙ্গে কোনটা তুলনা করা ঠিক হবে না!
দিনের প্রায় অর্ধেকটা সময় থার্ডম্যান রেখে বল করেছেন সফরকারী বোলাররা। লঙ্কানদের এই ডিফেন্সিভ আপ্রোচই বলে দিচ্ছে গতকাল কেমন ব্যাট করেছেন 21 বছরের এই তরুণ। তবে আর একটু বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিলে আজও একরাশ টেনশন মাথায় নিয়ে মাঠে নামতে হতো মাহেলা জয়াবর্ধনেকে! কিন্তু দিনের খেলা শেষ হওয়ার 4 ওভার বাকী থাকতে উইকেট থ্রো করে তাদেরকে সেই টেনশন থেকে মুক্তি দিয়ে গেছেন অ্যাশ। কিন্তু কেন এমনটা করলেন তিনি ? আশরাফুলের জবাবটা এরকম,' আসলে ওভার কনফিডেন্স থেকে ওটা হয়েছে। ওয়ানডে সিরিজে পরপর দুইটা হাফসেঞ্চুরীর পর আমার কনফিডেন্স লেভেল ছিলো অনেক উঁচুতে। উচিত ছিলো দিনটা পার করে আসা। কিন্তু পারলাম না।' একবছরেরও বেশী সময় আগে এই চট্টগ্রামে আশরাফুল ব্যাট থেকে এসেছিলো দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরী। এর পরের 6 টেস্টে অবশ্য বলার মতো আর কোন ইনিংস নেই তার। আবার সেই চট্টগ্রামই তাকে উপহার দিলো তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার। বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের জন্য চট্টগ্রামের মাটিকে পয়া ধরা হয়। এখন থেকে অবশ্য তার একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িয়ে গেলো!
সেঞ্চুরীর অনুভূতি জানাতে গিয়ে ম্যাচ পরবতর্ী সংবাদ সম্মেলনে আশরাফুল বলেন,' উইকেট আসলে বেশ ভালো ছিলো। বল পুরোনো হওয়ার পর একটু স্লো হয়ে ব্যাটে আসছিলো। যেমন উইকেট ছিলো তাতে আমাদের আরো ভালো ব্যাট করা উচিত ছিলো। কিন্তু শুরুতে আমরা বেশ কয়েকটা উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যাই।' নিজের তিন সেঞ্চুরীর দুটোই লঙ্কানদের বিপ।ে তাহলে কি ওদের বিপ েবাড়তি কোন মোটিভেশন কাজ করে? আরো বললেন,' আসলে আমি স্পিনটা ভালো খেলি। তার মানে এই নয় যে পেস খারাপ খেলি। আর শ্রীলঙ্কা দলে স্পিনার সংখ্যা সবসময়ই বেশী থাকে। এটা আমার জন্য সুবিধা হয়। ভারতের বিপ েআমি যে 158* রানের ইনিংস খেলি সেখানেও ওদের দলে দুইজন স্পিনার ছিলো।'
এবার শ্রীলঙ্কার বিপ েঅ্যাশ যতোটা ধারাবাহিক আগে কখনো ততোটা ছিলেন না। আশরাফুলের এই পরিবর্তন যিনি সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেছেন সেই কোচ ডেভ হোয়াটমোর বিষয়টি ব্যাখ্যা করছেন এভাবে,' আসলে ইনার ফিলিংসে একটা পরিবর্তন এসেছে। আর এটাই সার্মথ্যের সঙ্গে অবস্থানের সমন্বয় করে।' আর শুধুমাত্র কালকের ইনিংসের মূল্যায়নে বললেন,' দারুন ইনিংস। দুভর্াগ্য যে দিনের শেষভাগে এসেছে মনোসংযোগ হারিয়ে ফেলে ও।' শেষপর্যনত্দ মুরালির বলে আউট হলেও তাকে খেলতে সারাদিন কোন সমস্যা হয়নি এমনটাই জানালেন আশলাফুল। বললেন,' সারাদিনে মুরালির বল বুঝতে তেমন কোন সমস্যা হয়নি আমার। শেষদিকে শুধুমাত্র অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারনেই তাকে উইকেট দিয়ে আসলাম। নইলে আরো ভালো অবস্থানে থাকতে পারতোম আমরা।' একটুখানি আপে যেন বেরিয়ে এলো ডেভের গলা থেকেও,' প্রথমবারের মতো টেস্টের প্রথম দিনে 300-র বেশী রান করাটা নিঃসন্দেহে উন্নতির ল্নণ। তবে আরো 3/4টা উইকেট কম হারানো উচিত ছিলো আমাদের।'
তারপরও 9 উইকেটে 315 রান, প্রথম দিনের স্কোর হিসাবে খারাপ না। ব্যাটসম্যানরা তাদের কাজটা মোটামুটি করেছেন। এই কমপ্লিমেন্ট তারা পাচ্ছেন শুধুমাত্র আশরাফুলের কারনে। এবার বোলারদের পালা !
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


