somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুরালির শততম টেস্টের প্রথম দিনটা আশরাফুলের!

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ৮:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সে এক দেখার মতো দৃশ্য! মোহাম্মদ আশরাফুল স্ট্রাইকে আসলেই শ্রীলঙ্কান ফিল্ডাররা সব পড়িমরি করে চলে যাচ্ছেন বাউন্ডারি লাইনে। 136 রানের ইনিংসে যার 15 বাউন্ডারি আর 3 ছক্কা থাকে তার জন্য এমন প্রতিরোধ ব্যবস্থা তো নিতে হবেই। বাংলাদেশ ইনিংসের 70 ওভারের পর থেকে আশরাফুল আউট হওয়ার আগপর্যনত্দ এই ছিলো মাঠের নিয়মিত চিত্র! কিন্তু ততোনে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরীর দেখা পেয়ে গেছেন টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকণিষ্ঠ সেঞ্চুরীয়ান। একপর্যায়ে বোলার আর উইকেটকিপার ছাড়া বাকী 9 জনকেই দেখা গেছে বাউন্ডারি ঠেকাতে ব্যসত্দ! এটা মনে হয় শ্রীলঙ্কানদের একটু বেশী বাড়াবাড়ি! তারপরও মুরালির শততম টেস্টের প্রথম দিনটা হয়ে থাকলো আশরাফুলের!
দিনের খেলা শেষে নিজের তিন সেঞ্চুরীর মধ্যে তুলনা করতে বলা হলে একটু যেন সিদ্ধানত্দহীনতায় পড়ে যান তিনি। 'মায়ের কাছে সব সনত্দান সমান' ওই কথাটার মতো করে বললেন,' আসলে একেকটা সেঞ্চুরীর মজা ও গুরুত্ব একেক রকম। তুলনা করাটা কঠিন। হয়তো ঠেকও না।' আসলেই তো 114 রানের ইনিংসটা তো শুধু আশরাফুলের জন্যই না, পুরো ক্রিকেট বিশ্বের জন্যই অনন্য এক রেকর্ড। 17 বছর 61 দিন বয়সে টেস্ট অভেষেকেই সর্বকণিষ্ঠ হিসাবে সেঞ্চুরী করেন এই শ্রীলঙ্কার বিপ।ে এরপর ভারতের বিপ েকরা তার 158* রানের ইনিংসটা বাংলাদেশী কোন ব্যাটসম্যানের সবের্াচ্চ রানের ইনিংস। সেই বিবেচনায় গতকালের ইনিংসটাকেই তো রাখতে হয় তিন নম্বরে। কিন্তু যারা 136 রানের ইনিংসটা দেখেছেন তারা ভালো করেই বুঝবেন আলোচিত ওই দুই ইনিংসের তুলনায় মানে গুনে কোন অংশে কম ছিলো না এটা। তাই আশলাফুলই ঠিক, কোনটা সঙ্গে কোনটা তুলনা করা ঠিক হবে না!
দিনের প্রায় অর্ধেকটা সময় থার্ডম্যান রেখে বল করেছেন সফরকারী বোলাররা। লঙ্কানদের এই ডিফেন্সিভ আপ্রোচই বলে দিচ্ছে গতকাল কেমন ব্যাট করেছেন 21 বছরের এই তরুণ। তবে আর একটু বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিলে আজও একরাশ টেনশন মাথায় নিয়ে মাঠে নামতে হতো মাহেলা জয়াবর্ধনেকে! কিন্তু দিনের খেলা শেষ হওয়ার 4 ওভার বাকী থাকতে উইকেট থ্রো করে তাদেরকে সেই টেনশন থেকে মুক্তি দিয়ে গেছেন অ্যাশ। কিন্তু কেন এমনটা করলেন তিনি ? আশরাফুলের জবাবটা এরকম,' আসলে ওভার কনফিডেন্স থেকে ওটা হয়েছে। ওয়ানডে সিরিজে পরপর দুইটা হাফসেঞ্চুরীর পর আমার কনফিডেন্স লেভেল ছিলো অনেক উঁচুতে। উচিত ছিলো দিনটা পার করে আসা। কিন্তু পারলাম না।' একবছরেরও বেশী সময় আগে এই চট্টগ্রামে আশরাফুল ব্যাট থেকে এসেছিলো দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরী। এর পরের 6 টেস্টে অবশ্য বলার মতো আর কোন ইনিংস নেই তার। আবার সেই চট্টগ্রামই তাকে উপহার দিলো তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার। বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের জন্য চট্টগ্রামের মাটিকে পয়া ধরা হয়। এখন থেকে অবশ্য তার একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িয়ে গেলো!
সেঞ্চুরীর অনুভূতি জানাতে গিয়ে ম্যাচ পরবতর্ী সংবাদ সম্মেলনে আশরাফুল বলেন,' উইকেট আসলে বেশ ভালো ছিলো। বল পুরোনো হওয়ার পর একটু স্লো হয়ে ব্যাটে আসছিলো। যেমন উইকেট ছিলো তাতে আমাদের আরো ভালো ব্যাট করা উচিত ছিলো। কিন্তু শুরুতে আমরা বেশ কয়েকটা উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যাই।' নিজের তিন সেঞ্চুরীর দুটোই লঙ্কানদের বিপ।ে তাহলে কি ওদের বিপ েবাড়তি কোন মোটিভেশন কাজ করে? আরো বললেন,' আসলে আমি স্পিনটা ভালো খেলি। তার মানে এই নয় যে পেস খারাপ খেলি। আর শ্রীলঙ্কা দলে স্পিনার সংখ্যা সবসময়ই বেশী থাকে। এটা আমার জন্য সুবিধা হয়। ভারতের বিপ েআমি যে 158* রানের ইনিংস খেলি সেখানেও ওদের দলে দুইজন স্পিনার ছিলো।'
এবার শ্রীলঙ্কার বিপ েঅ্যাশ যতোটা ধারাবাহিক আগে কখনো ততোটা ছিলেন না। আশরাফুলের এই পরিবর্তন যিনি সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেছেন সেই কোচ ডেভ হোয়াটমোর বিষয়টি ব্যাখ্যা করছেন এভাবে,' আসলে ইনার ফিলিংসে একটা পরিবর্তন এসেছে। আর এটাই সার্মথ্যের সঙ্গে অবস্থানের সমন্বয় করে।' আর শুধুমাত্র কালকের ইনিংসের মূল্যায়নে বললেন,' দারুন ইনিংস। দুভর্াগ্য যে দিনের শেষভাগে এসেছে মনোসংযোগ হারিয়ে ফেলে ও।' শেষপর্যনত্দ মুরালির বলে আউট হলেও তাকে খেলতে সারাদিন কোন সমস্যা হয়নি এমনটাই জানালেন আশলাফুল। বললেন,' সারাদিনে মুরালির বল বুঝতে তেমন কোন সমস্যা হয়নি আমার। শেষদিকে শুধুমাত্র অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারনেই তাকে উইকেট দিয়ে আসলাম। নইলে আরো ভালো অবস্থানে থাকতে পারতোম আমরা।' একটুখানি আপে যেন বেরিয়ে এলো ডেভের গলা থেকেও,' প্রথমবারের মতো টেস্টের প্রথম দিনে 300-র বেশী রান করাটা নিঃসন্দেহে উন্নতির ল্নণ। তবে আরো 3/4টা উইকেট কম হারানো উচিত ছিলো আমাদের।'
তারপরও 9 উইকেটে 315 রান, প্রথম দিনের স্কোর হিসাবে খারাপ না। ব্যাটসম্যানরা তাদের কাজটা মোটামুটি করেছেন। এই কমপ্লিমেন্ট তারা পাচ্ছেন শুধুমাত্র আশরাফুলের কারনে। এবার বোলারদের পালা !
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়ের বুকের ওমে শেষ ঘুম

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯



আমার নাম তৃশান। সবে তো স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। আজ আমার খুব আনন্দ! বাবা-মা, দিদি আর দাদু-দিদুন মিলে আমরা মস্ত বড় একটা নৌকায় ঘুরছি। দিদি বলছিল এই জায়গাটার নাম জবলপুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×