বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বইপত্রে যে সকল ISBN নম্বর দেওয়া হয়, সবগুলোই বাতিল জিনিস ভুয়া নম্বর।। ইন্টারনেটে বাংলাদেশের কোনো বইয়ের ISBN নম্বর দিয়ে সার্চ দিলে কিছুই দেখায় না। মানে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বইয়ের এসব ISBN নম্বরের কোনো পরিচয় জানা যায় না। কারণ টা কি? প্রধান কারণ, সরকারিভাবে যে ISBN নম্বরটি একটি বইয়ের জন্য দেওয়া হয়, সেটি ভুল। যার সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো স্বীকৃতি নেই। থাকলে আপনার বইয়ের ISBN নম্বরটি ইন্টারনেটে সার্চ দিলে আপনার বইয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচয় জানা যেত। আমাদের মহান প্রকাশকগণ বই প্রকাশের সময় যে ISBN নম্বরটি বইয়ে ব্যবহার করেন, এটার কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। ৪৩ বছর ধরে একটি দেশে ভুয়া ISBN নম্বর ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যা নিয়ে সরকার বা আমাদের লেখক, প্রকাশক কারো কোনো আগ্রহ নেই। বিষয়টা সত্যিসত্যিই খুব পিড়াদায়ক। তাহলে আপনার বই প্রকাশ পেলেও আপনার বইয়ে যে ISBN নম্বর সেটি ভুয়া। ভুয়া ISBN নম্বর দিয়ে আপনি ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে এই বইয়ের কোনো পরিচয় জানতে পারবেন না।
এজন্য এখন কী করতে হবে? সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ISBN নম্বর ব্যবহার করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ যাবত প্রকাশিত সকল বইয়ের ISBN নম্বর সংশোধন করতে হবে। আর নতুন প্রকাশিত বইয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ISBN নম্বর ব্যবহার করতে হবে। নইলে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত কোনো বইয়ের পরিচিতি ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে জানার উপায় নাই। বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত সকল বই, টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও, প্রকাশনা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য উপাত্তের কপিরাইট সংরক্ষণ, লাইসেন্সিং এবং পুনঃপ্রকাশের ক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারকেই এখন উদ্যোগ নিতে হবে। নতুবা বছর বছর আমরা যা কিছু প্রকাশ করি না কেন, আন্তর্জাতিকভাবে এটার কোনো স্বীকৃতি নেই।
আমাদের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আগারগাঁওয়ের শেরে বাংলা নগরে যে নামকাওয়াস্তে একটি অথর্ব আরকাইভস ও জাতীয় পাঠাগার আছে, সেখানে আলাদা একটি বিভাগ থেকে কপিরাইট ও ISBN নম্বর দেওয়ার প্রচলন আছে। সরকারিভাবে সেখান থেকে প্রকাশকদের/লেখকদের জন্য যে ISBN নম্বর দেওয়া হয়, সেটি ভুয়া। সেটি ঠিক করার কোনো উদ্যোগ বিগত ৪৩ বছরে নেওয়া হয় নাই। কেন নেওয়া হয় নাই, তা জানার উপায় নাই। হয় আমাদের সরকার এই বিষয়টি বোঝে না। অথবা এটি কার্যকর করার জন্য যে সব উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, সে ব্যাপারে কোনো আগ্রহ নেই।
কয়েক বছর ধরে অমর একুশে গ্রন্থমেলার সময় মেলায় আমাদের জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় পাঠাগারের একটি স্টল দেখা যায়। জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় পাঠাগার অধিদপ্তর থেকেই আমাদের সকল ISBN নম্বর প্রদান করা হয়। কিন্তু তারা যে ISBN নম্বরটি প্রদান করেন, সেটি ভুয়া। যার কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। যদি থাকতো তাহলে সেই ISBN নম্বর দিয়ে ইন্টারনেটে সার্চ দিলে সেই প্রকাশনার সংক্ষিপ্ত পরিচয় জানতে পাওয়ার কথা।
মাননীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর, আমাদের ISBN নম্বর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত করার যথাযথ উদ্যোগ নিবেন বলেই আমরা আশা করি। নইলে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত কোনো কিছুরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না থাকলে ডিজিটাল উন্নয়নের নামে আমরা যা কিছু করব, সব আবর্জনা হবে। ৪৩ বছরে বাংলাদেশে যে বিষয়টি ঠিক করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, সেটি এখন কিভাবে ঠিক হবে তা এখন দেখার বিষয়।
এ ব্যাপারে আমাদের প্রকাশক ও লেখকদের আরো সচেতন হবার এখনই সময়। নইলে প্রতি বছর আমরা যেসব বই প্রকাশ করছি, তার কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া যাবে না। কারণ, বইয়ে প্রকাশিত বা প্রদানকৃত ISBN নম্বরটি যে ভুয়া। ভুয়া ISBN নম্বর দিয়ে আর কতকাল চলবে বাংলাদেশ???
..............................
৫ জানুয়ারি ২০১৫
ঢাকা
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


