somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভুয়া ISBN নম্বর দিয়ে আর কতকাল চলবে বাংলাদেশ? মাননীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী দয়া করে কিছু একটা করুন!!!

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ISBN কি? International Standard Book Number। প্রকাশিত বইয়ের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ইউনিক নম্বর। প্রতিটি বই শুধুমাত্র এই একটি নম্বর দিয়ে সারা বিশ্বে পরিচিত হয়। বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত কোনো বইয়ের ISBN নম্বর সঠিক নয়। কারণ তেরো ডিজিটের এই ISBN নম্বর ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে বাংলাদেশের কোনো বইয়ের পরিচয় জানা যায় না। তাহলে আমরা কেমন ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরি করছি, এটা একটি মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন বটে!!!

বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বইপত্রে যে সকল ISBN নম্বর দেওয়া হয়, সবগুলোই বাতিল জিনিস ভুয়া নম্বর।। ইন্টারনেটে বাংলাদেশের কোনো বইয়ের ISBN নম্বর দিয়ে সার্চ দিলে কিছুই দেখায় না। মানে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বইয়ের এসব ISBN নম্বরের কোনো পরিচয় জানা যায় না। কারণ টা কি? প্রধান কারণ, সরকারিভাবে যে ISBN নম্বরটি একটি বইয়ের জন্য দেওয়া হয়, সেটি ভুল। যার সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো স্বীকৃতি নেই। থাকলে আপনার বইয়ের ISBN নম্বরটি ইন্টারনেটে সার্চ দিলে আপনার বইয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচয় জানা যেত। আমাদের মহান প্রকাশকগণ বই প্রকাশের সময় যে ISBN নম্বরটি বইয়ে ব্যবহার করেন, এটার কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। ৪৩ বছর ধরে একটি দেশে ভুয়া ISBN নম্বর ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যা নিয়ে সরকার বা আমাদের লেখক, প্রকাশক কারো কোনো আগ্রহ নেই। বিষয়টা সত্যিসত্যিই খুব পিড়াদায়ক। তাহলে আপনার বই প্রকাশ পেলেও আপনার বইয়ে যে ISBN নম্বর সেটি ভুয়া। ভুয়া ISBN নম্বর দিয়ে আপনি ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে এই বইয়ের কোনো পরিচয় জানতে পারবেন না।

এজন্য এখন কী করতে হবে? সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ISBN নম্বর ব্যবহার করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ যাবত প্রকাশিত সকল বইয়ের ISBN নম্বর সংশোধন করতে হবে। আর নতুন প্রকাশিত বইয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ISBN নম্বর ব্যবহার করতে হবে। নইলে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত কোনো বইয়ের পরিচিতি ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে জানার উপায় নাই। বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত সকল বই, টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও, প্রকাশনা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য উপাত্তের কপিরাইট সংরক্ষণ, লাইসেন্সিং এবং পুনঃপ্রকাশের ক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারকেই এখন উদ্যোগ নিতে হবে। নতুবা বছর বছর আমরা যা কিছু প্রকাশ করি না কেন, আন্তর্জাতিকভাবে এটার কোনো স্বীকৃতি নেই।

আমাদের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আগারগাঁওয়ের শেরে বাংলা নগরে যে নামকাওয়াস্তে একটি অথর্ব আরকাইভস ও জাতীয় পাঠাগার আছে, সেখানে আলাদা একটি বিভাগ থেকে কপিরাইট ও ISBN নম্বর দেওয়ার প্রচলন আছে। সরকারিভাবে সেখান থেকে প্রকাশকদের/লেখকদের জন্য যে ISBN নম্বর দেওয়া হয়, সেটি ভুয়া। সেটি ঠিক করার কোনো উদ্যোগ বিগত ৪৩ বছরে নেওয়া হয় নাই। কেন নেওয়া হয় নাই, তা জানার উপায় নাই। হয় আমাদের সরকার এই বিষয়টি বোঝে না। অথবা এটি কার্যকর করার জন্য যে সব উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, সে ব্যাপারে কোনো আগ্রহ নেই।

কয়েক বছর ধরে অমর একুশে গ্রন্থমেলার সময় মেলায় আমাদের জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় পাঠাগারের একটি স্টল দেখা যায়। জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় পাঠাগার অধিদপ্তর থেকেই আমাদের সকল ISBN নম্বর প্রদান করা হয়। কিন্তু তারা যে ISBN নম্বরটি প্রদান করেন, সেটি ভুয়া। যার কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। যদি থাকতো তাহলে সেই ISBN নম্বর দিয়ে ইন্টারনেটে সার্চ দিলে সেই প্রকাশনার সংক্ষিপ্ত পরিচয় জানতে পাওয়ার কথা।

মাননীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর, আমাদের ISBN নম্বর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত করার যথাযথ উদ্যোগ নিবেন বলেই আমরা আশা করি। নইলে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত কোনো কিছুরই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না থাকলে ডিজিটাল উন্নয়নের নামে আমরা যা কিছু করব, সব আবর্জনা হবে। ৪৩ বছরে বাংলাদেশে যে বিষয়টি ঠিক করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, সেটি এখন কিভাবে ঠিক হবে তা এখন দেখার বিষয়।

এ ব্যাপারে আমাদের প্রকাশক ও লেখকদের আরো সচেতন হবার এখনই সময়। নইলে প্রতি বছর আমরা যেসব বই প্রকাশ করছি, তার কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া যাবে না। কারণ, বইয়ে প্রকাশিত বা প্রদানকৃত ISBN নম্বরটি যে ভুয়া। ভুয়া ISBN নম্বর দিয়ে আর কতকাল চলবে বাংলাদেশ???

..............................
৫ জানুয়ারি ২০১৫
ঢাকা
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:৩৬
১৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মানুষের মধ্যে এমন কেউ কী আছেন, যাঁরা AI-এর কাছে নিজেদের জ্ঞান, লেখার দক্ষতা কিংবা সৃজনশীলতার শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর ভয় পাচ্ছেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৪




এআইকে বলে ছিলাম- তুমি বলতে গেলে একটা গেদা বাচ্চার মত। এর মধ্যে অনেক মানুষ তোমাকে হিংসা করে। বিষয়টা কি?

উত্তরে এআই বলল- হা হা! আপনার কথাটা শুনে হাসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুজুরের কি শরিয়াহ আইনে বিচার হবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১২


মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমীর জন্য খারাপ লাগছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ এবং এ নিয়ে লাইভ করার অভিযোগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×