somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিগত ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশে এক আশ্চার্য গণতন্ত্র খেলা চলছে!!!

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তোমাদের কারো মুখেই গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না। নব্বই পর্যন্ত যদি বাংলাদেশের গণতন্ত্রে উত্তরণের পূর্বাবস্থা ধরি, তাহলে ১৯৯০ সালে থেকে ২০১৪ পর্যন্ত এই ২৫ বছর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নামে যে সন্ত্রাসবাদ, জোরজবরদস্তি, দুর্নীতি, খুন, গুম, লুটপাট, জ্বালাও, পোড়াও, হরতাল, অবরোধ, মিটিং-মিছিল, জনসভা করা হয়েছে, এর সবকিছুই করেছে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় যাবার সিঁড়ি হিসেবে অথবা ক্ষমতাকে ধরে রাখার বাসনা হিসেবে। মূলত এই ২৫ বছরে গোটা বাংলাদেশে এক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আর দুবৃত্তায়নকেই কেবল পাকাপোক্ত করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এই ২৫ বছর যা যা করেছে, যা যা করছে এর কোনোটাকেই গণতন্ত্রের ভাষা বলা যায় না। একে এক কথায় বলা যায় ক্ষমতার মাস্তানি অথবা ক্ষমতায় যাবার মাস্তানি। একপক্ষ ক্ষমতা পাকাপাকি করতে চায়। আরেক পক্ষ ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হয়ে পুনরায় ক্ষমতায় যাবার রাস্তা তৈরি করে। বাংলাদেশের নিরিহ অশিক্ষিত কুশিক্ষিত কুসংস্কারচ্ছন্ন সাধারণ মানুষকে আমাদের দুবৃত্তায়নে ভরপুর রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের নামে এক ভুল ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়ে মুখে গণতন্ত্রের ফেণা তুলে কেবল নিজেদের আখের গুছিয়েছে। এই ২৫ বছরে দেশে দুর্নীতি স্থায়ী আকার লাভ করেছে। এই ২৫ বছরে দেশে দুবৃত্তায়ন শক্তিশালী হয়েছে। এই ২৫ বছরে দেশে চাঁদাবাজি বেড়েছে, টেন্ডারবাজি বেড়েছে, ছিনতাই বেড়েছে, লুটপাট বেড়েছে, সরকারি অর্থের অপচয় বেড়েছে, সরকারি সম্পত্তির ভোগ দখল বেড়েছে, রাষ্ট্রীয় যন্ত্রগুলোকে ধ্বংসের চূড়ান্ত দোরগোড়ায় নিয়ে গেছে আমাদের মুখে ফেণা তোলা রাজনৈতিক দলগুলো।
এসব কাজ করতে গিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ মানুষকেই কেবল জিম্মি করেছে। জনগণ এটা চায়, জনগণ ওটা চায়, এসব বলে বলে জোর করে জনগণের নামে নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার একটা প্রচলন পাকাপাকি হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে সিন্ডিকেটের শক্তিশালী দুবৃত্তায়ন। পরিবহণ সিন্ডিকেট, বাজার সিন্ডিকেট, ঘাট সিন্ডিকেট, মাঠ সিন্ডিকেট, সংস্কৃতি সিন্ডিকেট, রাজনৈতিক সিন্ডিকেট, ছাত্র সিন্ডিকেট, যুব সিন্ডিকেট, ব্ল্যাকমানি সিন্ডিকেট, চোরাচালান সিন্ডিকেট, সম্পদ পাচার সিন্ডিকেট, সেকেন্ড হোম সিন্ডিকেট, টু-পাইস সিন্ডিকেট, কমিশন সিন্ডিকেট, ৫% সিন্ডিকেট, ১০% সিন্ডিকেট, ভিভিআইপি সিন্ডিকেট, ভিআইপি সিন্ডিকেট, সিআইপি সিন্ডিকেট, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, মার্কেট সিন্ডিকেট, অ্যাসোসিয়েশন সিন্ডিকেট, সমিতি সিন্ডিকেট, হাজার হাজার দুবৃত্ত সিন্ডিকেট মূলত বাংলাদেশকে নিজেদের ইচ্ছেমত খাবি খুবলে খাচ্ছে। আর এই চক্র মুখে ফেণা তুলছে, গণতন্ত্র-গণতন্ত্র-গণতন্ত্র!!! দেশ গণতন্ত্রের জোয়ারে ভাসছে।
এই ২৫ বছরে এসব দুবৃত্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিলুপ্ত হয়েছে বিবেকবোধ। মানুষের মানবিক বিচার বিবেচনার যে বোধ, সেই বোধ বা বিবেক সম্পূর্ণরূপে হারিয়েছে বাংলাদেশের এসব সিন্ডিকেট থেকে। জনগণের জন্য তাদের এসব অবৈধ আবদার যতই অত্যাচার-নির্যাতনমূলক হোক না কেন, তাতে এদের কোনো বিকার নেই। উল্টো এরা সবাইকে মিথ্যা বুঝিয়ে এই সত্য প্রচার করতে চাইছে যে, এরা যা করেছে, যা করছে সবই গণতন্ত্রের স্বার্থে! আহা মরি মরি!! গণতন্ত্রের বুঝদারগণ, দয়া করে আপনাদের এসব ভেলকিবাজি ধোকাবাজি বন্ধ করুন। আপনাদের মুখোশটা এখন সারা দেশের মানুষের কাছে দিবালোকের মত সুস্পষ্ট। এই ২৫ বছরে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি আস্থা হারিয়েছে রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের উপর।
নির্বাচনের আগে এরা দলীয় নমিনেশান নিয়ে চাঁদাবাজি করে। যে চাঁদা বেশি দেয়, সে-ই এদের দলীয় নমিনেশান পায়। সে যত বড় দুবৃত্ত হোক না কেন, তার দেওয়া চাঁদার অংকই এখানে বিরাট ফ্যাক্টর। আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট নিঃসংশতায় হত্যা বা খুনের বিচার হয়নি। মানে রাজনৈতিক দলগুলো এই ২৫ বছরে দেশে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যত হত্যাকাণ্ড করেছে, সেই সকল হত্যাকে তারা বৈধ করে ফেলেছে। যে যত বেশি হত্যা করতে পারছে, সে তত বড় নেতা বা নেত্রী। যে যত বড় কুকর্ম করতে পারছে, সে তত বড় হিরো। রাষ্ট্রীয়ভাবে এখানে এক লুটপাটের অভয়ারণ্য তৈরি করা হয়েছে। তাই ক্ষমতা থেকে কেউ একবার ক্ষমতার বাইরে গেলেই পুনরায় ক্ষতায় আসার জন্যে মরিয়া হয়ে ওঠে। তখন এদের যে কোনো অন্যায্য দাবিকেও এরা রাজনৈতিক অধিকারের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে।
এই ২৫ বছরে এরা দেশের আইন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের ন্যূনতম ভরসাও তৈরি করতে পারেনি। বরং আইনকে দলীয় সুবিধাভোগের একটি মর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। দেশের বিচার ব্যবস্থাকে করা হয়েছে ক্ষতাসীন দলের প্রাইভেট থিয়েটার। এই ২৫ বছরে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনগুলো দেশের পুলিশের মত আচরণ করেছে। আইনকে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করেছে। বিচার মানেনি। আইনকে তোয়াক্কা করেনি। কেবল ক্ষমতাকে পুঁজি করে এরা এক প‌্যারালাল পুলিশি ক্ষমতা ভোগ করেছে।
এসব সম্মিলিত ধারাবাহিক দুবৃত্তায়নের হাত ধরেই বাংলাদেশে এখন রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের এক অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়েছে। এখন বাংলাদেশের এক ইঞ্চি ভূমিতেও সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। এই ২৫ বছরে দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে। পাশাপাশি দুবৃত্তরা তাদের নিজেদের নিরাপত্তাকে এই সময়ে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে।
সবাই এখানে একটি গন্তব্যকেই কেবল মুখ্য হিসেবে নিয়েছে। যে করেই হোক পুঁজি বানাও। টাকা বানাও। গণতন্ত্রের নামে বাংলাদেশে চলছে টাকা বানানোর এক আজব ধারাবাহিক নাটক। এই নাটকের প্রধান কলাকুশলী আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। পুঁজিকে এরা সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে ধ্যান করেছে। তাই দুবৃত্তায়নের সকল ক্ষেত্রে এই পুঁজির চলাচলকেই এরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় দুবৃত্তায়নের ফলে রাষ্ট্রের কাছে মানুষের জীবনের স্বাভাবিক যে পাওনাগুলো যেমন ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ, নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার, শিক্ষা, মানবাধিকার ও শান্তি, এই জিনিসগুলোই কেবল দিন দিন বিলুপ্ত হয়েছে, হচ্ছে। বিপরীতে সকল সেক্টরে এসব দুবৃত্তায়ন আরো হাজারগুণ শক্তিশালী হয়েছে। গণতন্ত্রের নামে এরা এই দুবৃত্তায়নকে জোর করে জনগণের উপর চাপিয়ে দিয়েছে, দিচ্ছে।
আজ আমরা উন্নয়নের নামে যেসব চিত্র দেখি, তার প্রতিটি সেক্টরেই এই দুবৃত্তায়ন মৌমাছির বাসার মত জট পাকিয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ধর্মীয় অনুভূতিকে প্রবলভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। মানুষের সেন্টিমেন্ট নিয়ে তামাশা করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। এখন আর সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগ বা বিএনপিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে মনে করে না। মনে করে দেশের সবচেয়ে বড় দুই দুবৃত্ত। যাদের কাছে দেশের মানুষ একপ্রকার জিম্মি। এরা রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে যা ঠিক করবে, সেই ব্যবস্থাকেই দেশের মানুষকে নিয়তি হিসেবে ভোগ করতে হবে। এ যেন এক মহা তামাশার রাজ্যে চলছে তামাশার বলৎকার। রাজা যায় রাজা আসে মাগার তামাশা বন্ধ হয় না। বরং নতুন নতুন তামাশা দেখে দেখে দেশের মানুষ এখন অনেকটা গিনিপিক হয়ে গেছে। উপায় নেই গোলাম হোসেন। তাই বিরক্ত হয়ে মানুষ কয় বছর পরপর এক দলকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাচ্ছে বা বিপক্ষ দলকে ভোট দিয়ে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা থেকে নামাচ্ছে। এ যেন এক মহা সিরিয়াল। মাগার আকাম কুকাম আর বন্ধ হয় না। বাংলাদেশে বিগত ২৫ বছর ধরে গণতন্ত্র-গণতন্ত্র খেলা চলছে। এরা নিজেরা না পারলে বিদেশি শক্তির সাহায্য নিচ্ছে। আহা গণতন্ত্র! তোমার চেহারা আমরা ২৫ বছরে চিনে ফেলেছি। এই যদি হয় গণতন্ত্রের নমুনা। তাহলে এমন গণতন্ত্রের গুষ্ঠি কিলাই। আর কোনো দিন ভোট কেন্দ্রে যামু না। যামু না, যামু না।

.....................................
১৫ জানুয়ারি ২০১৫
ঢাকা
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×