somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বইমেলার ডায়েরি (৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫) !!!

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, রবিবার।
আজ বইমেলা ধন্য। শিল্পী ধ্রুব এষ আজ বইমেলায় এসেছিলেন। অবশ্য আমি বইমেলায় পৌঁছানোর আগেই ধ্রুবদা মেলা থেকে চলে গেছেন। খবরটি আমাকে দিয়েছিলেন ঢালী ভাই। উদ্যানে ঢুকে মাধবদার সঙ্গে কথা বলছি। তখন ঢালী ভাই (লেখক ও কবি হুমায়ুন কবির ঢালী) জানালেন, ধ্রুবদা মেলায় আছে। একাডেমি প্রাঙ্গনে আছে। আমি দ্রুত ছুটি। বাংলা একাডেমির সামনে পাই দুই কমরেডকে। শিল্পী শেইখ শাহেদ আর রম্য লেখক ও উন্মাদ পত্রিকার সম্পাদক আহসান হাবিবকে। আহসান হাবিবকে আমি ডাকি শাহীন ভাই। রাস্তার আইল্যান্ডে বসে অনেকক্ষণ আমরা আড্ডা দিলাম। চা-সিগারেট খেলাম। শাহীন ভাই জানালেন, ধ্রুবদা বের হয়ে গেছেন।
এবার বাংলা একাডেমি উন্মাদ পত্রিকাকে কোনো স্টল বরাদ্দ দেয়নি। এজন্য শাহেদ ভাই, শাহীন ভাইয়ের মত একনিষ্ঠ উন্মাদভক্ত আমারও খুব মন খারাপ। শাহীন ভাইকে বললাম, চলেন, মিছিল করি। শাহীন ভাই বললেন, তার চেয়ে চা খাই, কোরিয়ান সিগারেট খাই, আড্ডা মারি, সেই অনেক ভালো। কিছুক্ষণ আড্ডা মেরে আমি নন্দন স্টলে গিয়ে বই সাজাতে সাজাতেই আসল নন্দন সম্পাদক বন্ধু কবি আলফ্রেড খোকন। খোকন বলল, বই আনতে পারি নাই। তুই পারলে একবার সময় করে অফিসে আয়। খোকন মেলা থেকে বের হয়ে গেল।
দেখি বর্ধমান হাউজের সিঁড়িতে বসে আছে শিল্পী সব্যসাচী হাজরা, কবি তনুজা, সব্য-তনুজার কন্যা পৌষ। ওদের ঘিরে বিশাল জটলা। জটলায় ঢুকে জানলাম, সব্য'র বইটার মোড়ক উন্মোচন করতেই ধ্রুবদা আজ বইমেলায় এসেছিলেন। থাকতে না পেরে খুব খারাপ লাগল। লিটল ম্যাগ স্টল থেকে সব্য'র বইটা হাতে নিয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখলাম। নিঃসন্দেহে এবারের বইমেলার সেরা প্রোডাকশন এটি। শিশুদের চিত্রবর্ণ পরিচয় করাতে সব্যসাচী হাজরা এক ব্যতিক্রমী বই প্রকাশ করেছেন। বইয়ের নাম চিত্রলিপি। স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের প্রতিটি অক্ষরকে এক-একটা ছবি আকারে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সব্য। যাতে শিশুরা চেনাজানা পাখি, প্রাণী, প্রজাপতি এসব দেখে দেখে অক্ষর চিনতে পারে। বইটির প্রকাশক সব্যসাচী হাজরা নিজেই। বইটি যারা দেখেননি, তারা লিটল ম্যাগ চত্বরে ভিন্নচোখ স্টলে ঢু মারতে পারেন। আপনার যদি ছোট্ট শিশু থাকে, যার এখন অক্ষর শেখার বয়স, বইটি তার জন্য খুুবই প্রয়োজনীয়। এই সময়ের, এবারের বইমেলার সেরা উপহার এটি। বইটির প্রচ্ছদ, অংকন, শিল্পভাবনা সবকিছুই সব্য করেছে। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর বাংলা ভাষার বর্ণ পরিচয়ে সব্যসাচী হাজরা এক নতুন উদ্যোগ গ্রহন করল। সব্যকে প্রাণ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আশা করি, বাংলা একাডেমি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঠশালা ও বাংলাদেশের ও বাইরের সকল স্তরে যারা বাংলা বর্ণ পরিচয় শিখতে চায়, তাদের জন্য, বিশেষ করে শিশুদের জন্য বইটি দারুণ উপকারে আসবে। বইটির মূল্য ধরা হয়েছে দুইশো টাকা।
দেখা হল, আড্ডা হল মুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির প্রেসিডেন্ট বেলায়েত হোসেন মামুনের সঙ্গে। কবি জুয়েল মোস্তাফিজ, কবি আহমেদ স্বপন মাহমুদ, কবি মাহবুব কবির, কবি মামুন খান, কবি মাসুদ হোসেন, কবি তানিম কবির, লেখক স্বকৃত নোমান, লেখক ঋষি এস্তেবান, কবি সাফি সমুদ্র, শিল্পী চারু পিন্টু, কবি শামিমুল হক শামীম, শামীম ভাইয়ের দুই ছেলে সহ অনেকের সঙ্গে। আজ ঐতিহ্য প্রকাশনী থেকে মেলায় এসেছে কবি মাহবুব কবিরের কাব্যগ্রন্থ 'আয়নার দিকে'। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী ধ্রুব এষ। মাহবুব ভাই জানালেন, এডিট করতে গিয়ে কিছু কবিতা ফেলে দিয়েছেন। তাই বইটি হয়েছে ৪০ পৃষ্ঠার। কিন্তু বইটি হাতে নিলেই যে কারো মন ভালো হয়ে যাবে।
বইমেলায় পরিচয় হল কবি কবির য়াহমদ ও অনুপ্রাণন পত্রিকার সম্পাদক প্রকৌশলী ইউসুফ ভাইয়ের সঙ্গে। তারপর জুলেল, মামুন, পিন্টুদের সঙ্গে আড্ডা মারতেই মেলার ছুটির ঘণ্টা বেজে গেল। আজও কোনো বেচাবাট্টা হয়নি। সো, স্টল বন্ধ করে মেলা থেকে বের হলাম দলবেধে।
জুয়েল, মামুনদের সঙ্গে ছবিরহাটে এসে পেলাম চলচ্চিত্র নির্মাতা ও কবি টোকন ঠাকুর ও ফটোগ্রাফার সূর্যকে। সেখানে দেখা হল বন্ধু লেখক ও সাংবাদিক তরুণ সরকারের সঙ্গে। কবি কামরুজ্জামান কামু'র সঙ্গে। পরে ঠাকুর আর আমি ধ্রুবদার বাসায় গেলাম। জি-বাংলায় আজ ছিল মিরাক্কল-৮ এর ফাইনাল রাউন্ড। ধ্রুবদা আর শিল্পী মামুন হোসাইন বসে বসে মিরাক্কল দেখছিলেন। পরে আমরাও তা দেখার জন্য বসে গেলাম। পরে সেখান থেকে সোজা বাসায়।

................................
৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
ঢাকা
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১:৩৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

×