somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ থেকে গড়ে প্রতি বছর বৈদেশিক মুদ্রায় অর্জিত আয়ের অন্তত এক তৃতীয়াংশ হজ উপলক্ষ্যে খরচ হচ্ছে !!!

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ভোর ৪:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন হ্জযাত্রী অফিসিয়ালি হ্জ করার জন্য টাকা জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে সরকারি কোটায় তিন হাজার এবং বেসরকারি কোটায় ৯৮ হাজার ৭৫৮ জন হজযাত্রী টাকা জমা দিয়েছেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি হজ প্যাকেজ রয়েছে। একটি প্যাকেজে হজযাত্রীর খরচ হবে তিন লাখ ৫৪ হাজার ৩১৬ টাকা। অন্যটিতে খরচ হবে দুই লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৬ টাকা। এ ছাড়া কোরবানির জন্য প্রতিটি প্যাকেজে আরও খরচ হবে (৫০০ রিয়াল) সাড়ে ১০ হাজার টাকা। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একাধিক প্যাকেজ রয়েছে। ন্যূনতম প্যাকেজ হলো দুই লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৬ টাকা। এ ছাড়া তিন লাখ ৫৪ হাজার ৩১৬ টাকা থেকে আরও বেশি টাকার প্যাকেজ রয়েছে।

যদি সরকারি প‌্যাকেজের অর্ধেক ১৫০০ জন হজযাত্রী প্রথম প‌্যাকেজে হজ করতে যান তাহলে, তাদের খরচ হবে ৫৪ কোটি ৭২ লাখ ২৪ হাজার টাকা। আর দ্বিতীয় প‌্যাকেজে বাকি অর্ধেক ১৫০০ জন হজযাত্রীর খরচ হবে ৪৫ কোটি ৯৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা। অর্থ্যাৎ সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিন হাজার হজযাত্রীর অন্তত মোট খরচ হবে একশো কোটি ৬৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

যদি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮০ হাজার হজযাত্রী ন্যূনতম খরচ প‌্যাকেজে হজ করতে যান, তাহলে তাঁদের মোট খরচ হবে দুই হাজার চারশো পঞ্চাশ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এবং বাকি ১৮ হাজার ৭৫৮ জন হজযাত্রী যদি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ খরচে হজ করতে যান, তাঁদের মোট খরচ হবে অন্তত ছয়শো ৮৪ কোটি ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৫২৮ টাকা। অর্থ্যাৎ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯৮ হাজার ৭৫৮ জন হজযাত্রীর কমপক্ষে খরচ হবে তিন হাজার একশো ৩৪ কোটি ৫২ লাখ ৯৮ হাজার ৫২৮ টাকা।

তাহলে, বাংলাদেশ থেকে এবার এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন হজযাত্রী হজ উপলক্ষ্যে কমপক্ষে মোট তিন হাজার দুইশো ৩৫ কোটি ১৯ লাখ ৩৬ হাজার ৫২৮ টাকা খরচ করবেন। অর্ধ্যাৎ এবছর বাংলাদেশ থেকে হজ উপলক্ষ্যে কমপক্ষে তিন হাজার দুইশো ৩৫ কোটি ২০ লাখ টাকা খরচ হবে, যার একটা প্রধান অংশ সৌদি সরকারের কোষাগারে জমা হবে। যদি মার্কিন ১ মার্কিন ডলারকে ৮০ টাকা ধরি, (প্রকৃতপক্ষে আজকে ১ ডলার = ৭৭ টাকা ৮৩ পয়সা) তাহলে চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে হজ উপলক্ষ্যে কমপক্ষে খরচ ৪০ কোটি ৪৩ লাখ ৯৯ হাজার ২০৬.৬ মার্কিন ডলার। যার মধ্যে একটা প্রধান অংশ সৌদি সরকারের আয়। অর্থ্যাৎ চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে হজ উপলক্ষ্যে প্রায় ৪১ কোটি মার্কিন ডলারের একটি প্রধান অংশ সৌদি সরকারের আয় হিসাবে যোগ হচ্ছে।

এবার দেখা যাক, চলতি বছরে বৈদেশিক মুদ্রায় আয়ের হিসেবে বাংলাদেশ কত আয় করল? বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর জুলাই থেকে এবছর জুন পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রায় বাংলাদেশের আয় প্রায় ১.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১৪৩ কোটি মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রায় বাংলাদেশের প্রধান আয়ের খাত রেমিটেন্স থেকে। গত বছর বৈদেশিক মুদ্রায় বাংলাদেশের আয় ছিল ১.২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর সেখান থেকে হজ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের কেবল চলতি ৪১ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়, যার একটি প্রধান অংশ হলো সৌদি সরকারের আয়। অর্থ্যাৎ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের শতকরা প্রায় ২৮.৬৭ ভাগ বা এক তৃতীয়াংশ চলতি বছর হজ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ খরচ করছে। যার প্রধান অংশটি হচ্ছে সৌদি সরকারের আয়।

তার মানে হিসাবটা সহজ করলে দাঁড়ায়, প্রতি বছর বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রায় যা আয় করছে, তার অন্তত এক তৃতীয়াংশ হজ উপলক্ষ্যে খরচ হচ্ছে। আর যা সৌদি সরকারের আয়ের একটি প্রধান খাতের অংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছর কত বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রায় আয় করছে, কত মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স হিসেবে আয় করছে, আমরা সারা বছর কেবল সেই হিসাব দেখেই অভ্যস্থ। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হজ উপলক্ষ্যে কত বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হচ্ছে, সেই হিসাব দেখানো হয় না। হজ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সহ গোটা বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো প্রতি বছর যা খরচ করে, তার প্রধান অংশটি মূলত সৌদি সরকারের আয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত এখন থেকে প্রতি বছর বৈদেশিক মুদ্রায় কত আয় হয়, রেমিটেন্স আকারে কত আয় হয়, রপ্তানি হিসেবে কত আয় হয় ইত্যাদির পাশাপাশি হজ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের কত ব্যয় হয়, বিদেশে চিকিৎসা সেবা নিতে বাংলাদেশের কত ব্যয় হয়, বিদেশে শিক্ষা নিতে বাংলাদেশের কত ব্যয় হয়, বিদেশে ভ্রমণজনিত কারণে বাংলাদেশের কত ব্যয় হয়, সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণে কত ব্যয় হয়, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিদেশ সফরে কত ব্যয় হয়, সেই হিসাবগুলো সুস্পষ্টভাবে দেখানো। নইলে সার্বিক বিচারে বৈদেশিক মুদ্রায় আয়ের আসলেই কত ডলার বাংলাদেশে থাকল, সেই হিসাবটি আমরা কেউ জানতে পারি না।

এখন আমরা বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা ও শিক্ষা উপলক্ষ্যে দেশের বাইরে প্রতি বছর কত টাকা খরচ করি, তার যদি সঠিক তথ্য পাওয়া যায়, বিদেশে বাংলাদেশীদের ভ্রমণজনিত কারণে কত ডলার খরচ হয়, সরকারের বিদেশ সফরে বছরে কত ডলার খরচ হয়, তার যদি সঠিক তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে দেশ থেকে কত ডলার বাইরে চলে যাচ্ছে, তার একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। তার সঙ্গে আমাদের রেমিটেন্সের আয়, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক দান থেকে আয় সহ যাবতীয় বৈদেশিক মুদ্রায় আয়ের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রায় যাবতীয় ব্যয়ের একটি তুলনামূলক আলোচনা করা সম্ভব হয়, তাহলে হয়তো দেখা যাবে, বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রায় যত ডলার আয় করছে (যার প্রধান সেক্টর রেমিটেন্স) তার চেয়ে হজ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভ্রমণ বাবদ বিদেশে আমরা বেশি খরচ করছি। অথচ আমাদের গণমাধ্যমে সারা বছর আমরা রেমিটেন্সের আয় নিয়ে অনেক সোরগোল দেখি। কিন্তু দেশের বাইরে আমরা কত ডলার খরচ করি, তার তুলনামূলক কোনো সংবাদ দেখি না। বাংলাদেশের অর্থনীতির ছাত্রছাত্রীদের এই বিষয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু করা দরকার বলে আমি মনে করি। অন্তত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের উচিত এই হিসাবটি প্রতিবছর দেশবাসীকে জানানো। তাহলে হয়তো শুভংকরের এক বিশাল ফাঁকি আমাদের রাজনীতিবিদদের নজরে আসতে পারে।
...............................
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫
ঢাকা


সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:০৩
২০টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই ভাষণ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×