somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টি২০ বিশ্বকাপের বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচের স্কোরবোর্ড নিয়ে ভুল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অনলাইন নিউজপেপার!!

৩০ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ৮:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ২৩ মার্চ ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বনাম ভারতের মধ্যেকার টি২০ বিশ্বকাপ ম্যাচের স্কোরবোর্ড নিয়ে আজ কিছু অনলাইন পত্রিকায় ১ রান নিয়ে একটি চরম মিথ্যা সংবাদ ভাইরাল হয়েছে। খুব খেয়াল না করলে সেই ব্যাখ্যায় আপনিও ধরা খেতে পারেন। ক্রিকেটে স্কোরবোর্ডের হিসাবটা হলো ব্যাটসম্যানরা যত রান নিবে, তার সঙ্গে এক্সট্রা রান যোগ হয়ে হবে দলীয় স্কোর। সেই হিসাবে প্রথমে ব্যাট করে ভারতের ব্যাটসম্যানরা নিয়েছিলেন ১৪৩ রান। আর অতিরিক্ত ৩ রান মিলে ভারতের টোটাল স্কোর হলো ১৪৬। এবার চলুন ভারতের ব্যাটসম্যানদের রানের হিসাবটা দেখা যাক। রোহিত শর্মা ১৬ বলে ১৮ রান, শেখর ধাওয়ান ২২ বলে ২৩ রান, বিরাট কোহলি ২৪ বলে ২৪ রান, সুরেশ রায়ানা ২৩ বলে ৩০ রান, হার্ডিক পান্ডিয়া ৭ বলে ১৫ রান, এমএস ধোনি ১২ বলে ১৩ রান, যুবরাজ সিং ৬ বলে ৩ রান, রবীন্দ্র জাদেজা ৮ বলে ১২ রান, রবিচন্দ্রন অশ্বিন ২ বলে ৫ রান এবং অতিরিক্ত ৩ রান। তাহলে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় (১৮+২৩+২৪+৩০+১৫+১৩+৩+১২+৫)+৩ = ১৪৬ রান। অতিরিক্ত ৩ রান এসেছে লেগবাই থেকে ২ রান এবং ওয়াইড থেকে ১ রান।

একইভাবে বাংলাদেশের স্কোরটা খেয়াল করুন। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সবাই মিলে করেছে ১৪০ রান এবং অতিরিক্ত হিসাবে এসেছে ৫ রান। তাই বাংলাদেশের মোট স্কোর ১৪৫ রান। এবার বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের রানের হিসাবটা একটু দেখা যাক। তামিম ইকবাল ৩২ বলে ৩৫ রান, মোহাম্মদ মিথুন ৩ বলে ১ রান, সাব্বির রহমান ১৫ বলে ২৬ রান, শাকিব আল-হাসান ১৫ বলে ২২ রান, মাশরাফি মোর্তাজা ৫ বলে ৬ রান, মাহমুদুল্লাহ ২২ বলে ১৮ রান, সৌম্য সরকার ২১ বলে ২১ রান, মুশফিকুর রহিম ৬ বলে ১১ রান, শুভাগত হোম ১ বলে শূন্য রান। মুস্তাফিজুর রহমান ০ বলে ০ রান। অতিরিক্ত রান ৫। তাহলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় (৩৫+১+২৬+২২+৬+১৮+২১+১১+০)+৫= ১৪৫। অতিরিক্ত ৫ রানের মধ্যে ৪টি ছিল লেগবাই এবং ১টি ছিল ওয়াইড। যে কারণে ফলাফলে ভারত ১ রানে বিজয়ী।

আজকে অনলাইন পত্রিকায় যে বিষয়টি ছড়ানো হয়েছে সেখানে দেখানো হচ্ছে বোলার কত রান দিল আর তার সাথে এক্সট্রা রান যোগ করে কত হলো, সেই হিসাবের একটি ভুল ব্যাখ্যা। চলুন তাহলে আগে বাংলাদেশের বোলাররা কত রান দিয়েছিল একটু দেখা যাক। সেদিন বাংলাদেশের মোট ছয়জন বোলার সেদিন বল করেন। মাশরাফি মুর্তাজা ৪ ওভার বল করে ২২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। শুভাগত হোম ৩ ওভার বল করে ২৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ১টি উইকেট। আল-আমিন হোসেন ৪ ওভার বল করে ৩৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ২টি উইকেট। মুস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভার বল করে ৩৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ২টি উইকেট। শাকিব আল-হাসান ৪ ওভার বল করে ২৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ১টি উইকেট। মাহমুদুল্লাহ ১ ওভার বল করে ৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। বাংলাদেশের বোলাররা সেদিন ১টি ওয়াইড ও ২টি লেগবাই দিয়েছেন। মানে অতিরিক্ত রান ৩। তাহলে বোলারের রান দেবার হিসাবে ভারতের রান হবার কথা (২২+২৪+৩৭+৩৪+২৩+৪)+৩ = ১৪৭ !!!

কিন্তু ভারতের রান আসলে ১৪৬। কারণ, মাশরাফি যে বলটি প্রথম ওভারে ওয়াইড দিয়েছিল, ওয়াইড থেকে সেই রানটি এক্সট্রাতে একবার যোগ হয়েছে। আবার সেই রানটি কিন্তু মাশরাফি'র ব্যক্তিগত রান দেবার সঙ্গে এমনিতেই যোগ আছে। সেই ১ রান তো দলীয় স্কোরের সাথে দুইবার যোগ হবে না। এক্সট্রা হিসাবে ভারতের স্কোরের সাথে একবারই যোগ হবে। তাই বোলার কত রান দিল, সেখান থেকে ওয়াইড বা নো বলের রানটি এক্সট্রাতে যখন যোগ হচ্ছে, সেই রান আবার বোলারের রানের সাথেও যোগ হচ্ছে। ফলে বোলারের রানের সাথে এক্সট্রা রান যোগ করলেই হিসাবটা গুলিয়ে যাবে। এখানে যেটি মনে রাখতে হবে একজন বোলারের বল থেকে যখন লেগবাই রান আসে, সেই রানটি বোলারের সঙ্গে যোগ হয় না। কিন্তু ওয়াইড বা নো বল থেকে যে এক্সট্রা রান আসে সেটি কিন্তু বোলারের ফিগারে যোগ হয়। এখন কেউ যদি বোলারের দেওয়া রানের সেই এক্সট্রা রান দুইবার যোগ দেখায়, তাহলেই ভুলটা হবে।

এবার চলুন ভারতীয় বোলাররা কত রান দিল সেটা দেখা যাক। সেদিন বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের মোট ছয়জন বোলার বল করেন। আইসিসি'র স্কোরবোর্ড অনুযায়ী, আশিস নেহারা ৪ ওভার বল করে ২৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ১টি উইকেট। জাসপ্রিট বুমরা ৪ ওভার বল করে ৩২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৪ ওভার বল করে ২০ রান দিয়ে নিয়েছেন ২টি উইকেট। রবীন্দ্র জাদেজা ৪ ওভার বল করে ২২ রান দিয়ে নিয়েছেন ২টি উইকেট। হার্ডিক পান্ডিয়া ৩ ওভার বল করে ২৯ রানে নিয়েছেন ২টি উইকেট। আর সুরেশ রায়ানা ১ ওভার বল করে ৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ১টি উইকেট। সেদিন ভারতের বোলাররা মোট ১টি ওয়াইড ও ৪টি লেগবাই রান দিয়েছেন। মানে অতিরিক্ত রান মোট ৫টি। তাহলে ভুল ব্যাখ্যায় বাংলাদেশের রান হবার কথা (২৯+৩২+২০+২২+২৯+৯)+৫= ১৪৬ !! কারণ এখানে সুরেশ রায়ানার দেওয়া ওয়াইড রানটি কিন্তু স্কোরবোর্ডে একবার এক্সট্রা রান হিসাবে কাউন্ট হয়েছে। আবার সুরেশ রায়ানার ১ ওভারে দেওয়া ৯ রানের মধ্যেও সেই ওয়াইড রানটি আছে। যেটি দুইবার যোগ করা যাবে না। কিন্তু আজ অনলাইন পত্রিকায় যে গুজবটি ছড়ানো হয়েছে, সেখানে এই এক্সট্রা রানটি দুইবার যোগ করে বলঅ হচ্ছে বাংলাদেশের স্কোর ১৪৬। সেই হিসাবে তো মাশরাফি'র ওয়াইড বলটা নিয়ে ভারতের স্কোর হবার কথা ১৪৭, তাই নয় কী? তাহলে বোলারের হিসাব কেন আসছে!!!

মনে রাখতে হবে যে, লেগবাই এক্সট্রা রানটি বোলারের রানের ফিগারে যোগ হয় না। কিন্তু ওয়াইড বা নো বলে থেকে প্রতিপক্ষ যত রান নিক না কেন, তা বোলারের ফিগারে যোগ হবে। এখন ভুল করে বোলারের দেওয়া রান আর এক্সট্রা রান যোগ করলে কিন্তু টোটাল স্কোরটা কিন্তু ভুল হয়ে যাবে। যারা এখনো ব্যাপারটা বুঝতে পারছেন না, দয়া করে আজকে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের ভেতরকার ম্যাচটি একটু খেয়াল করুন। শুভংকরের ফাঁকিটা বুঝতে পারেবন। সোজা কথায় ভারত বিদ্বেষী একটা হৈচৈ ফেলে দেবার জন্যই এই সহজ ভুলটি দেখিয়ে একটি মহল মানুষের মনে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিতে চাইছে।

একটা ম্যাচে কোনো দলের ব্যাটসম্যানরা সবাই মিলে কত রান নিলেন আর এক্সট্রা রান কত হলো, তার টোটাল হলো দলীয় স্কোর। এখন এক্সট্রা রানের মধ্যে ওয়াইড, লেগবাই, বাই, নো, বা পেনাল্টি রান থাকতে পারে। বোলার কত রান দিল তার সঙ্গে সরাসরি এক্সট্রা রান হিসাব করতে গেলেই হিসাবটা গুলিয়ে যাবে। অতএব ক্রিকেট না বুঝে মন্তব্য করতে গেলেই ঝামেলাটা হবে। আমি নিজেও হিসাবটা ভালো মত খেয়াল না করে এই বিষয়ে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম, পরে সেটা মুছে দিয়েছি। কারণ এক্সট্রা রানের হিসাবটা বোলারের সাথে কীভাবে যোগ হবে, সেটা নিয়ে আমার কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। অতএব ভারত বাংলাদেশ ম্যাচ নিয়ে কারো মনে আর কোনো সন্দেহ থাকাটা উচিত নয়। বাংলাদেশ ১ রানে হেরেছে। স্কোরবোর্ডে কোনো সমস্যা নাই।

.......................................
৩০ মার্চ ২০১৬

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ৯:০১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×