somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বইমেলায় পুলিশের মাস্তানির প্রতি তীব্র ধিক্কার! হোক প্রতিবাদ! অমর একুশে বইমেলার ডায়েরি-১৯-২০!

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বইমেলায় আজ একটু দেরিতে ঢুকেছি। কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা টোকন ঠাকুর আর আমি মানুষের বিশাল মব ঠেলে বইমেলায় ঢুকে প্রথমে যাই লিটলম্যাগ চত্বরে। সেখানে গিয়েই দেখি সবাই ফুঁসছে। সবাই খুব বিক্ষুদ্ধ। সবাই খুব বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। কথাশিল্পী স্বকৃত নোমান আমাদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করলেন। শিল্পী চারু পিন্টু ও পেন্ডুলাম প্রকাশক রুম্মান টার্শফিককে পুলিশ লিটলম্যাগ চত্বরে গায়ে হাত দিয়ে নাজেহাল করেছে!

পুলিশ ওদের তুলে নেবার চেষ্টা করলে, কবি-লেখক-লিটলম্যাগ সম্পাদকদের বাধার মুখের পুলিশ লিটলম্যাগ চত্বরে উল্টো ঘেরাও হয়ে আটকা পড়ে যায়। পরবতীতে লিটলম্যাগ চত্বরের দায়িত্বে থাকা বাংলা একাডেমি কর্মকর্তা সুলতান ভাই পরিস্থিতি সামাল দেন। আমরা সুলতান ভাইয়ের কাছে এই ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ করেছি। এবং পুলিশের এমন ঔদ্বত্বপূর্ণ আচরণের জন্য দুঃখপ্রকাশ করতে বলেছি।

সুলতান ভাই আমাদের কথা দিয়েছিলেন, সন্ধ্যায় এর একটি আনুষ্ঠানিক সমাধান করবেন। পরে আমাদের অনুরোধে টোকন ঠাকুর বাংলা একাডেমি'র মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী সাহেবের সাথে ফোনে কথা বলেন। সিরাজী ভাই বিষয়টি সন্ধ্যায় মিটিয়ে দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন। আমরা শান্ত হয়ে নিয়মিত আড্ডায় মেতে উঠলাম। ঘণ্টা খানেক পর সুলতান ভাই এসে আমাদের জানালেন, আগামীকাল বিকাল তিনটায় অমর একুশে গ্রন্থমেলা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে নিয়ে বসবেন। আমরা সবাইকে আগামীকাল বিকাল তিনটা পর্যন্ত সবাইকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করেছি।

আমরা সুস্পষ্টভাবে বাংলা একাডেমিকে বলতে চাই- অমর একুশে গ্রন্থমেলার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্রীয় পুলিশকে আমরা আর দেখতে চাই না। আগামী বছর থেকে বইমেলায় বাংলা একাডেমি'র নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করুক, এটা আমাদের দাবি। বইমেলায় পুলিশ কবি-লেখক-শিল্পী-প্রকাশকদেরকে সম্পূর্ণ চোর/সন্ত্রাসী হিসেবে ট্রিট করে। যা খুবই দৃষ্টিকটু। পুলিশ থাকবে গোটা বইমেলার বাইরে। ভেতরে সবাইকে চেক করে ঢোকানো হয়। তারপর বইমেলায় পুলিশ এভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সাথে এরকম আচরণ করে কোন যুক্তিতে? এদেশটা কী পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে গেল?

কবি-লেখক-শিল্পী-প্রকাশকদের সাথে ভালো আচরণ করার মত যোগ্যতা রয়েছে এমন পুলিশ কী আমাদের পুলিশ বাহিনীতে নাই? তাহলে বাংলা একাডেমি এমন অসভ্য পুলিশকে এরকম একটি প্রাণের বইমেলায় দায়িত্ব দেয় কী করে? বইমেলায় ঢোকার সময় পুলিশ গায়ে হাত দিয়ে চেক করে। তাহলে গেটের মেটাল ডিটেকটরের কাজটা কী? আজকে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে গেটে পুলিশ কাউকে চেক করেনি কেন? তাহলে অন্য দিনগুলোতে চেক করার কারণ কী? বইমেলায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেটা তো এমন ভিড়েই আশংকা বেশি থাকে। অথচ আমরা দেখেছি, ভিড় বেশি হলে পুলিশ আর চেক করে না। কিন্তু ভিড় না থাকলে পুলিশের এমন বাজে আচরণ?

আমরা পুলিশের থেকে এরকম অপমানকর আচরণ কোনো ভাবেই প্রত্যাশা করি না। এই দেশ আমাদের সবার। এই প্রাণের বইমেলাও আমাদের সবার। পুলিশকে আমাদের সাথে সহযোগিতার মনোভাব নিয়েই বইমেলায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর পুলিশের এমন আচরণের জন্য আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি পুলিশকে এজন্য দুঃখ প্রকাশ করার অনুরোধ করছি।

আশা করি বাংলা একাডেমি বইমেলায় একটি সুন্দর পরিবেশ রাখার জন্য উদ্ভুত পরিস্থিতিকে সুন্দরভাবে সমাধান করবে। বইমেলায় পুলিশের কোনো ধরনের মাস্তানি আমরা সহ্য করবো না। পুলিশ বাহিনীকে আমরা সহযোগিতা করতে চাই, কিন্তু এজন্য তাদেরও সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। লিটলম্যাগ চত্বরে স্থাপিত পুলিশ টাওয়ার নিয়ে আমরা শুরু থেকেই আপত্তি করেছি। বাংলা একাডেমি আমাদের দাবির প্রতি কর্ণপাত করেনি। অথচ শেষ পর্যন্ত আমরা পুলিশের সেই আচরণ দেখলাম।

আগামী দিনের তুর্কী লেখকদের আড্ডা হয় লিটলম্যাগ কর্নারে। বাংলা একাডেমিকে বুঝতে হবে এরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। এদেরকে পুলিশ লেলিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। আমরা এই ঘটনার সুষ্টু সমাধান দাবি করছি। আশা করি, সিরাজী ভাই বিষয়টি অত্যন্তু গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন। বাংলা একাডেমি এবং আমাদের পুলিশ ভাইদের সুচিন্তা উদয় হোক।

-----------------------
বইমেলা থেকে ফিরে

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:৩৮
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম

লিখেছেন অপলক , ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষণময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১


বিশ্বাসগুলো হাবুডুবু খাচ্ছে
ভাগ্যের কম দোষটার হাত
ঝাঁকনি কম নেই তো- তাহলে
বিশ্বাসগুলো মরে যাচ্ছে এই;
মাটির আনন্দটা শুধু ফুল গন্ধ
নাকের সুসংবাদ যে দৌড়াচ্ছে
রাতের ঘুমটা যেনো স্বপ্নবিরল কষ্ট
ভোরের শিশির গড়ে না আর শক্ত;
তবু নিশ্বাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×