
এককালে উত্তরের জনপদ নাটোরের সিংড়ায় দেখা যেতো মাটির দোতলা ঘর। স্থানীয়রা এ ধরণের ঘরগুলোকে বলেন তালা। এখনো রয়েছে তবে একদম কম নয়। পারিবারিক ঐতিহ্য বা দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখনো এর দেখা মেলে উপজেলার স্থাপনদীঘির চৌগ্রাম, হুলহুলিয়া, গোয়ালবাড়ীয়াসহ আশেপাশের গ্রামে। দেখতে হলে আপনাকে চলন বিলের পাশ ঘেষে ইট-শুড়কী আর মাটির রুগ্ন পথ ধরে চলতে হবে ঘন্টা খানিকের পথ।

মাটির সহজলভ্যতা, প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবের কারণে এ জনপদের বাসিন্দারা এ ধরণের বাড়ি নির্মানে আগ্রহী হয়। এছাড়া সে সময় একান্নবর্তী পরিবারের সদস্যদের থাকার জন্য বেশী ঘরের প্রয়োজন দেখা দেয়াও এ রকম দোতলা বাড়ি তৈরীর আরেকটি কারণ। শীত, গরম দুই ঋতুতেই আরামদায়ক এই মাটির ঘর। শীত মৌসুমে বাইরে যখন প্রচন্ড ঠান্ডা ঘরের তখন ভেতর উষ্ণ আর প্রচণ্ড গরমেও ঘরের ভেতর তুলনামূলক শীতল থাকে বলে জানায় এসব গৃহের গৃহাস্থীরা।
বাড়িগুলো একতলা মাটির বাড়ির মত দুর্বল নয়। যথেষ্ট মজবুত। প্রচন্ড ঝড়, বৃষ্টিতেও এগুলোর ক্ষতি হয়না। এ বাড়িগুলোর দেয়ালের প্রশস্ততা বেশি। নির্মান কৌশল ভিন্ন হওয়ায় যুগের পর যুগ সামান্য রক্ষণাবেক্ষণেই থাকে মজবুত।

গ্রীষ্ম বা বর্ষায় বৃষ্টির আশংকা থাকায় সাধারণত শীতকালে এ ধরণের বাড়িগুলো নির্মান শুরু হয়। এটেল বা দোঁআশ মাটির সঙ্গে পানি মিশিয়ে কাদা তৈরী করা হয়। গাঁথুনি দেয়ার সময় কারিগররা মাটিকে ভালোভাবে পিষিয়ে তাতে পাটের আঁশ, খড়, ধানের চিটা, কুঁড়া বা সিমেন্ট মিশিয়ে দিত। ২০ থেকে ৩০ ইঞ্চি মোটা দেয়াল তৈরী করা হয়। সুপারি বা শাল কাঠের মোটা বিম দিয়ে তৈরী হয় পিলার ও ছাদের ভীত। প্রথম তলার উচ্চতা ৮ থেকে ৯ ফুট। তক্তা ও বাঁশ ব্যবহার করা হয় ছাদ তৈরীতে। আর দ্বিতীয় তলার উচ্চতা ৬ থেকে ৭ ফুট। সেটি বেশীরভাগ ক্ষেত্রে পুরোটাই একটা কক্ষ হয়। তাতে রেলিং বারান্দা থাকে। তার উপরে থাকে টিনের চাল। ঘরগুলোর দৈর্ঘ্যের তুলনায় প্রস্থ কম হয়। আয়তাকার আকারের। দরজা-জানালা কাঠের। এভাবেই দেড় থেকে ৬ মাসে তৈরী হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম বাড়িগুলো।

এর কোল ঘেষে থাকে রান্নাঘর। সেটার ছাদ টালির। বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে বাইরে গেলে উঠোন। তার একপাশে বাথরুম, ট্রয়লেট।
প্রতিবছর ঘরগুলোতে নতুন করে মাটির প্রলেপ দেয়া হয়। ফলে সব সময়ই দেখায় ঝকঝকে। অনেকে চুনকামও করেন। সম্ভ্রান্ত পরিবারের ঘরগুলোতে নানা ধরণের নকশাও দেখা যায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০১৭ দুপুর ২:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




