অনেক দিন ধরে জমানো একটা কথা শেয়ার করতে খুব বেশি ভয় পাচ্ছি,
তবুও ধরে রাখতে পারছিনা। স্বল্প জ্ঞান নিয়ে
মহামনিষীকে নিয়ে আমার কিছু ভাবনা যা হয়ত,
বিখ্যাত কেউ করলে নাম দেওয়া হত গবেষণা।
তিনি আমাদের হুমাউন স্যার,
ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে একজন সাদাসিদে মানের
দার্শনিক হিসেবে মানি।
কিন্তু কোনভাবেই আমার স্বল্পজ্ঞান তাকে সাহিত্যিক হিসেবে
ধনাত্মক যুক্তির আওতায় আনতে পারেনা।
কেন, কি কারনে বা কিভাবে??
আমি সে প্রশ্নের উত্তরে যাবনা,
কারণ আগেই বলেছি এটা আমার একান্তই ব্যাক্তিগত পর্যবেক্ষণ।
তবে তার লেখার থেকে বিশ্লেশায়িত একটা প্রভাব নিয়ে
আজ আমি কিছু বলতে চাই।
অনেকের মতে তিনি হারিয়ে যাওয়া সাহিত্যচর্চার
পুনর্জন্মের ধারক।
নিরস সাহিত্যকে তিনি রস দিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছেন,
বিভিন্নভাবে পাঠককে তিনি টেনে এনেছেন বইয়ের দিকে।
কিন্তু এই টেনে আনাটা কতটা ধনাত্মক হয়েছে সে বিষয়ে আমার উদ্বেগ রয়েছে।
তার লেখাটা সাধারণত সদ্য যৌবনে পা দেওয়া মানুষ গুলাকে বেশি আকৃষ্ট করে,
যেখানে তিনি সেই সমস্ত পাঠকের মনস্তত্ব বিশ্লেষণ করে তাদের ভাললাগার
স্থান গুলাকে লক্ষমাত্রা হিসেবে নিয়েছেন।
তার মধ্যে উল্লেখ্য একটা দিক হচ্ছে ঐদাশিন্য!!!
যারা সাহিত্যের জগতে নতুন প্রবেশ করে, (স্বদ্যোগে)
সময়টা সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক পড়া অবস্থায় বা সম্মান শ্রেনীতে ভর্তি হয়ে।
সাধারণত বাংলাদেশের যুব সমাজ এই সময়টাতে
তাদের জ্ঞানের দ্বার উদার ভাবে খুলে থাকে।
স্বাধীনভাবে জীবন, সমাজ তথা সামগ্রিক পারিপার্শ্বিকতার সাথে নিজেকে
মিলিয়ে নিজের জীবনকে গঠন করার প্রক্রিয়াতে আসে।
ঠিক সে সময়ে তারা পায় এমন এক শ্রেণীর বই,
যার বেশিরভাগ কথাগুলিই এ বয়সের ভাললাগা মন্দলাগার সাথে মিলে যায়,
তখন আগ্রহ বেড়ে একটা সময় নেশায় রুপ নেয়।
বই গুলির উপজীব্য গুলি অনেকটা উদাস কোন মানুষের
কারিস্ম্যাটিক জীবন ধারা,
উদাসী ধারায় জীবন সাজানো বা জীবনের সকল চলক গুলির বহতা।
পড়তে পড়তে কখন যে অনুকরণপ্রিয় মানুষ গুলি
নিজের অজান্তে নিজেকে আলাদা করার আনাড়ি চেষ্টায় জড়িয়ে পড়ে
অনেক সময় নিজেও অজ্ঞাত থাকে সে বিষয়ে।
সঙ্গাহীন কিছু অনুভুতির জন্ম নেয় তার ভেতরে,
হিমু হয়ে কখনও অপ্রকিতিস্থ কিছু আচরন
কখনও বা মিসির আলীর কিছু উদ্ভট চালাকির বাস্তব প্রতিফলনের অপচেষ্টা।
এভাবেই কেটে যায় সময়, কখন কোথায় বা কিভাবে, কেউ ভাবেনা।
অথচ উল্লেখিত সময়টাতেই হয় মানুষের সত্যিকারের নিজেকে খুজে পাওয়ার সময়
যা সে কোন এক অজানা মাদকতার মাঝে ভাবলেসহীনভাবে কাটিয়ে দিচ্ছে।
ফলস্রুতিতে পিছিয়ে পড়ে জীবনের দৌড় থেকে
যা তার পেশাগত জীবনের একটা বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে,
কখনও কখনও তার কিংকর্তব্যবিমূঢ় আচরনে প্রিয় মানুষগুলার প্রত্যাশার
পাহাড় গুলা বালুর স্তুপের ন্যায় ধ্বসে পড়ছে অবলীলায়,
কেউ কেউ হয়ত জীবন থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে আমি যত হুমাউন ভক্ত দেখেছি
তাদের সিংহভাগের মধ্যে কিছু না কিছু সাদৃশ আচরন প্রতিয়মান হতে দেখেছি।
বয়স হয়ত অনেক কম তবুও আমার আশংকা আশাকরি যুক্তির বিচারে বাস্তবসম্মত,
সেক্ষেত্রে কিছু অনন্ত জলিল ছাড়া বাকিদের পক্ষে দুরহ হয়ে যায় নিজেক মানিয়ে নেওয়াতে।
যাইহোক আমার অধিকার নাই কাউকে নিরুতসাহিত করার
বা এই লেখাটা কাউকে নিরুৎসাহিত করার নিমিত্তেও নয়।
বরং পড়ার পর ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ থাকলো
এই স্বল্প তথ্যের বা জ্ঞানের মানুষটির কথার আসলে কোন যৌক্তিকতা আছে কিনা,
আর যদি থাকে তবে অনুরোধ থাকবে অনুগ্রহ করে
বই কে শুধু বিনোদনের দর্শন থেকেই পড়ুন,
জীবনে যেন সুক্ষভাবে তার ক্ষতিকর কোন দিক যেন বিশেষ কোন প্রভাব না ফেলে।।
যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন তবে পছন্দের লেখককে নিয়ে সমালোচনা করার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




