somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেখানে বোকা আমি

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রকৃতি মানুষের আচরণের প্যাটার্ন তৈরি করে দেয়
জন্মের পর থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত গ্রামে বাস করা সত্ত্বেও
প্রকৃতির আলো বাতাসের সাথে খুব একটা সন্ধি করতে পারিনি।

জীবনযাত্রা ছিল কিছুটা বইয়ে আলোচিত শিশুদের জীবন যাত্রার মত,
কয়েকটা চাচা বাসায় ছিল, তারা সবাই পড়াশোনা করত,
এক জনের শাসন শেষ হওয়ার সাথে আর একজনের শাসনের বলি হতে হত,

অনেক গুলা ভাল অভ্যাসের পাশাপাশি কিছু খারাপ দিক বয়ে যেত আমার জীবনে
জীবনের প্রথম ইংরেজি রিডিং পড়া আমি স্কুলে যাওয়ার আগেই শিখি।

খেলার সাথী হিসেবে ছিল কয়েকটা খরগোশ,
কখনও আমার প্রিয় কুকুরটা
কখনও টিয়া পাখি, মাঝে অল্প সময়ের জন্য একটা ছাগলছানাও ছিল।

আমার ব্যস্ততায় ভরা দিনগুলির সমস্ত ভাবনা গুলি ছিল ওই অবলা প্রানিগুলা নিয়ে
কখন বাঘের বাচ্চাগুলার থাবা ফাকি দিয়ে ওদের সাথে মনের সকল কথা শেয়ার করব।

দেখতে দেখতে বেড়ে উঠলাম, চাচারাও চলে গেল পড়াশোনার জন্য শহরে
শুরু হল আমার আনাড়ি জীবনের নতুন অধ্যায়,
সেই সমাজের কাছে আমি এতটাই বোকা ছিলাম যে সামনে অথবা পেছনে অনেকের
হাসির পাত্রও হয়েছি।

আমার বেড়ে ওঠার সমাজটায় মূল্যবোধের চরম ঘাটতি ছিল,
সেখানে যার যার ছেলেমেয়েকে প্রয়োজনে অনৈতিক কাজ ও শেখানো হত
কিন্তু অন্যের ছেলেমেয়েকে সবসময় বিভিন্নভাবে হেয় করা হত।

কিন্তু বাবা মায়ের কাছে এ ইস্যু গুলি নিয়ে ভাবার সময় ছিলনা
তাদের একমাত্র কথা থাকত যেওনা ওদের সাথে,
যেন এই একটা সমাধানই পৃথিবীর বুকে অবশিষ্ট ছিল আমার জন্য।

দিন যায় বেড়ে উঠতে থাকি, আমার আচরণ গুলি যেন সবার থেকে একটু আলাদা,
আমার বন্ধুদের বলাবলি করতেও শুনেছি আমাকে নিয়ে ওরা কনফিউসড আমি আসলে কি??

প্রশ্নটা আমার মনেও মাঝে মধ্যে আসত কিন্তু ভাবতে পারতাম না
কোন কাজ করতে গেলে আশেপাশের মানুষের বিচ্ছিন্ন মনোভাবে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলতাম,
যার প্রভাব এখনও মাঝেমাঝে আমাকে পীড়া দেয়।
নিজের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে কিছু করার জন্য যখন দৃঢ়চেতা হই,
ঠিক সেই সময় যেন অচেনা একটা সত্ত্বা এসে পথ আগলে দেয়।।

আর দশটা বাবা মায়ের কাছে তাদের সন্তান যেন অপরিসীম ম্যাচিউরড
আর আমি ছিলাম কিছুটা বোকা।

আমার বোকা মা টা শুধু তার সন্তানের পাশে ছিল
জানিনা আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য নাকি তার আত্মিক দূরদর্শিতা দিয়ে
ভবিষ্যৎদ্বানী করত ঠিক জানিনা।

তবে শিশু বয়সে দুরারোগ থেকে মুক্তির পর ডাক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী
পরিবারের প্রত্যাশা ছিল শুন্যের কিছুটা কাছাকাছি।

আরেকটা মানুষ কে পাশে পেয়েছি
সে আমার বয়সি ছিল কিন্তু সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত জ্ঞানে সে প্রচলিত সমাজের
সাধারণ মানুষ থেকে জ্ঞ্যানে এবং ধ্যানে কিছুটা এগিয়ে ছিল।
ভাবনার রাজ্যে প্রবেশ হয় তার হাত ধরে,

যখন এসএসসি পাশ করে বাইরে আসি পড়তে
জীবনের সবথেকে কঠিন সময়গুলি তখন পার করতে থাকি,
মাঝে মাঝে মনে হত এই সমাজ কথিত ফ্রিকি দের জন্য
আমার মত সহজ চিন্তা দিয়ে এ সমাজে পথ চলা বোধহয় হবেনা।।

তবুও সহজ পথ ছাড়তে পারিনি,
হেটে চলেছি গন্তব্যহীন, মাঝে মাঝে হোঁচট খেয়েছি আবার উঠে দাঁড়িয়েছি
নিজের প্রশ্নের উত্তর নিজে খোজার চেষ্টা করেছি নিজের মত করে।
কখনও উত্তর পেয়েছি, কখনও অন্য প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে আগের প্রশ্ন ভুলে গিয়েছি
হয়ত সে ভুলে যাওয়াটা নিতান্তই সাময়িক ছিল,
তাইতো মাঝে মাঝে যখন সেই প্রশ্নের উত্তরের সামনে দাঁড়িয়েছি
ঠিক প্রশ্ন গুলি মনে পড়ে গেছে।

প্রস্নগুলির ধারাটা সবসময় একটা বিন্দুকে আবর্তে ঘুরে ফিরেছে
জীবন কি??? পথ চলার সহজ উপায় গুলি কোথায় পাওয়া যায়???

আজ নিজেকে কিছুটা পরিনত মনে হয়
পথ চলতে বিশেষ কষ্ট হয় না।
সেদিন যখন মাকে নিজের আয় করা টাকা থেকে ২০০০ টাকা দিলাম
মা কেদেছিল, কেন কেদেছিল সে প্রশ্নের উত্তর হয়ত সে দেয়নি কিন্তু
এখন আমি বুঝি।।

এখন আমার পথচলার চলকগুলির সমর্থন নিতে শিখেছি
পথের গুরুত্ব অল্পবিস্তর অনুধাবন করতে শিখেছি,
বেশিরভাগ সময় এখন আমার সহজ সমীকরণ মিলে যায়
হয়ত আমার মত করে মেলায়।

ভাল থাকতে আমার খুব বেশি কাঠখড় পোহাতে হয় না
আমার প্রাপ্তিগুলার পাল্লা ভারী হয় এখন,
যদিও তা ক্ষুদ্র তবুও তা আমার সম্পত্তি।।

শুধু মাঝে মাঝে সেই পুরনো কিছু অসামঞ্জস্যতা আমাকে জটিলতায় ফেলে
মানবীয় সত্ত্বার কিছু সীমাবদ্ধতা আমার কাছের মানুষ গুলার সাথে
মাঝে মাঝে কিছুটা দুরত্ব তৈরি করে দেয়।

চেষ্টায় আছি এগুলাকে দূরে ঠেলে মানুষ হওয়ার সত্ত্বায়,
আজ মাঝে মাঝে মনেহয় আমি ওই বোকাতেই পারফেক্ট।

পৃথিবীতে যদি আবার আসার সুযোগ থাকত তবে আমি এমন বোকা
হয়েই জন্ম নেওয়ার প্রার্থনা করতাম সৃষ্টিকর্তার কাছে,
কারণ বোকারা মানুষের কাছে ভুল করতে পারে
সেই সাথে ক্ষমা চাওয়াটাকেও ব্রত হিসেবে নিতে পারে।।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×