somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বিড়াল পুটুস ও একটি পি.এইচ.ডি ডিগ্রী............!!!!

১৫ ই জুলাই, ২০১২ রাত ২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার পোষা হুলো বিড়াল 'পুটুস'-আকারে সাধারন বিড়ালের থেকে বড়। দেখতে শুনতেও মাশাল্লাহ্‌ ভালো। এলাকার অন্যান্য হুলো বিড়ালের জন্য মূর্তিমান আতংক-ওর সাথে মারামারিতে আমি এখন পর্যন্ত কোন হুলো বিড়ালকে পারতে দেখি নাই। কিন্তু তারপরও কোন মেনি বিড়াল ওকে পাত্তা দেয় না। কিন্তু এক টেলিভিশন চ্যানেল মালিক যার চেহারা তিনদিন আগের মরা-ফুলকা পঁচা কালবাউস মাছের মত তিনি দিব্যি ৩-৪ টা বিয়া করে ফেলছেন। আরো ২-১ টা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটা নিয়ে আমার আর পুটুস দুইজনেরই আফসোসের কোন শেষ নাই। কারণ-

## আমার বিড়ালের উচ্চতা ওই লোকের চেয়ে ভালো,পার্সোনালিটি ভালো। মিল বলতে এইটুকুই যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পুটুসের কানের পাশের কিছু লোম এক হুলো বিড়াল ( যেটা কিনা ওই একই চ্যানেলের এক স্বনামধন্য বেয়াদব সাংবাদিকের মত) এক থাবা মেরে তুলে নিয়েছে-যে কারণে ওর চুলের কাটিং টা অনেকটা ঐ চ্যানেল মালিকের মতই লাগে।
## আরেকটা মিল হলো আমার বিড়ালের বংশ পরিচয় ও ওনার মতই খুব একটা ভালো না -ওর মা এলাকার শ্রেষ্ঠ সুন্দরী মেনি বিড়াল ছিলো কিন্তু যৌবনের একটা ছোট্ট ভুলের কারণে এলাকার শ্রেষ্ঠ চোরা আর খতরনাক হুলো বিড়ালের প্রেমে পড়ে,যার ফসল এই পুটুস- কিন্তু আমি তারপরো নিশ্চিত খোঁজ নিলে দেখা যাবে বংশ মর্যাদার দিক থেকে পুটুস একটু এগিয়েই থাকবে।
## আমার পুটুস স্বল্পভাষী(ক্ষুধা না লাগলে তেমন মিউ মিউ করে না) কিন্তু ওই লোক দেশ-বিদেশে যেখানেই যাক না কেন,মাইক হাতে পাইলে আর থামতেই চায় না-বেফাঁস কথা বলে ধরা খায়।
## উনি নিজে এবং তার এক স্ত্রী দুজনেই গান করেন।কিন্তু আমি বাঁজি ধরে বলতে পারি আমার পুটুসের আর যে মেনি বিড়ালটার উপর ওর ক্র্যাশ আছে দুজনেরই কন্ঠ ওনার আর ওনার বউ-এর চেয়ে ভালো।

কিছুদিন আগে পুটুস আমাকে বলেছিলো যে- বস!এই ব্যাচেলর জীবন আর ভালো লাগে না,একটা কিছু করেন।

আমি বলেছিলাম-বুঝলি!বিয়ের ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা আর সামাজিক মর্যাদা কোন ব্যাপারই না যদি শিক্ষার জোর থাকে।

ও বলে যে- বস! আমার শিক্ষার দৌড় তো আপনি জানেন ই। স্বাক্ষর করতে পারি না দেখে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট ও খুলতে পারি নাই।আর এই বয়সে লেখা-পড়া করা আমার পক্ষে সম্ভবও না।

আমি বলেছিলাম-আরে লেখা-পড়া এখন আর কোন ব্যাপার না। এক চ্যানেল মালিক আছে-যে কিনা প্রি-টডলারও পাশ করে নাই কিন্তু পি.এইচ.ডি ডিগ্রী নিয়া এখন নামের আগে ডক্টর লাগাইছে।

পুটুস বললো-একটু খোঁজ দ্যা সার্চ দেন তো বস! কোন সাবজেক্ট আর কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই ডিগ্রীটা নিছে। এইরকম একটা ডিগ্রী পাইলে তো আমার বিয়া কোন বিড়ালের বাচ্চা ঠেকাইতে পারবো না। সব সমাজেই শিক্ষার একটা আলাদা মূল্য আছে। আমাদের সমাজ ও তার ব্যতিক্রম না। এই ডিগ্রীটা পাইলে আমি সুশীল বিড়াল সমাজ অথবা সচেতন বিড়াল কমিটি তে একটা জায়গাও পাইতে পারি। তাইলে তো আমার লাইফ পুরাই জিঙ্গা লা লা।

আমিও খোঁজ-খবর নিয়ে ওর জন্য ঐ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “ক্যাটোলজি ও নেংটি ইঁদুর-দমন নীতি” বিষয়ের উপর একটা ডক্টরেট ডিগ্রী এনে ওর খাবারের বাঁটিটার মধ্যে রাখলাম যে খেতে এসে দেখবে-একটা দারুণ সারপ্রাইজ দেয়া যাবে। যথাসময়ে ও আসলো। দেখলো যে-এখন ও আর কোন সাধারন বিড়াল না। একজন পি.এইচ.ডি ডিগ্রীধারী।

আমি বললাম-এখন থেকে তোকে তো আর পুটুস ডাকা যাবে না। আজ থেকে তোকে ডাকবো-ডক্টর পুটুসুর রহমান।
দেখলাম যে-ওর মুখটা গোমড়া হয়ে গেছে।

ও বললো-বস! আপনার ঠাট্টাটা আমি ধরতে পারছি। আমাকে যেকোন গালি দেন কিন্তু ঐ মানুষটার নামে সাথে মিল দিয়ে কিছু ডাকবেন না। শুধু উনি কেন কোন মানুষের নামেই কিছু ডাকবেন না,দয়া করে। আপনারা মানুষ-নিজেদের সৃষ্টির সেরা জীব বলেন,আর আমাদের বলেন অসভ্য,জানোয়ার।
যখন আমি কোন সমগোত্রীয় হুলো বিড়ালের সাথে মারামারি করি তখন আমাকে পেছন দিয়ে ঢিল মেরে ফেরাতে চেষ্টা করেন।আর যখন আপনাদের মধ্যে শিক্ষিত সাংবাদিকেরা যাদের আপনারা জাতির বিবেক বলেন তারা মারামারি করে তখন শুধু বলতে পারেন দেশটা গেলো!!কই ফেরাতে তো পারেন না!!

আমি যখন জামরুল গাছের বুলবুলি পাখি দুটোকে মেরে খেয়েছিলাম তখন আমাকে ধরে কি মারটা ই না মারলেন এই বলে যে এখন ওদের ছোট্ট বাচ্চাটার কি হবে। কিন্তু যখন সাগর-রুনি বা এদের মত আরো হাজারো মানুষ খুন হয় তখন তাদের বাচ্চাদের কথা চিন্তা করেও তো ওদের খুনিদের সামনে এনে বিচার করতে পারেন না।

যখন রান্নাঘর থেকে মাছ চুরি যায়-তা কাজের ছেলেটাই চুরি করুক না কেন,ওখানে কিছুক্ষণ আগে আমার ডাক শোনা গেছে এই অজুহাতেও কখনো আমাকে মারতে ভুল করেন নি-কিন্তু যখন ওই চ্যানেল মালিককে লন্ডনে এত কিছু বলতে শোনা গেল কই তখন তো তাকে ধরে মারা তো দূর,জিজ্ঞাসাবাদের নামে প্রহসন করে ছেড়ে দিলেন!!

আমাদের হুলো বিড়ালদের ঘৃণা করেন এই বলে যে আমরা নাকি নিজেদের বাচ্চা নিজেরাই মেরে খাই। কিন্তু আপনারা কি করেন? যৌতুকের দাবীতে অন্তঃস্বত্তা স্ত্রী কে পুড়িয়ে-পিটিয়ে মারেন। কখনো পারিবারিক ঝগড়ার জের ধরে আর কখনো ধর্মীয় গোঁড়ামির চরম পর্যায়ে আল্লাহ কুরবানী দিতে বলেছে এমন স্বপ্ন দেখাকে কেন্দ্র করে নিজের সন্তান হত্যা করেন-তখন?

আমি একদিন একটা শালিক পাখির বাচ্চা নিচে পড়ে থাকতে দেখে ধরে খেতে নিয়ে ছিলাম। সেদিন শুধু ঐ বাচ্চাটার মা-ই না প্রায় গোটা বিশেক শালিক আমাকে উপর থেকে এসে মাথায় এমন ঠোকরাতে লাগলো যে আমি পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়ে ছিলাম।আর আপনাদের চোখের সামনে খুনীরা খুন করে পালিয়ে যায় আর আপনারা চুপ করে দেখেন।

আরে এক এলাকার কুকুরও অন্য এলাকার ডাস্টবিনের ময়লা পর্যন্ত খেতে যেতে পারে না-ওই এলাকার কুকুর তা প্রতিহত করে।আর আপনারা নিজেরা নিজ দেশের ইলিশ মাছটা পর্যন্ত খেতে পারেন না পাশের দেশের মানুষদের তা খাওয়া নিশ্চিত করতে।

আপনারা শিক্ষার মত জিনিসটাকে পণ্য হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেন নাই। নীতিবোধ,অপরাধবোধ,মানবতাবোধ তো আপনাদের ভাষার একেকটা শব্দ মাত্র,যার অস্তিত্ব যাও এখন একটু-আধটু দেখতে পাওয়া যায়,ভবিষ্যতে তাও যাবে না।

আর এই যে আমার জন্য যে ডিগ্রীটা আনছেন তার আর মূল্যটা কি থাকলো যদি তা এভাবে কিনতেই পাওয়া যায় ? আর সবথেকে বড় কথা যখন এ ডিগ্রী কোন খুনী বা খুনকে প্রশ্রয়দানকারী বকলম মানুষটার কাছেও থাকে। এত বড় একটা সম্মানসূচক ডিগ্রীটার সম্মান টা পর্যন্ত আপনারা রাখতে পারেন নাই,যার অবস্থা কয়েকদিন পর হাতে একটা দামী মোবাইল থাকার মত হবে,আরও কয়েকদিন পরে দেখা যাবে একেকজন ধনী মানুষের কাছে তা এই পরিমানেই থাকবে যে এই সার্টিফিকেটটা ও পুরনো খবরের কাগজের সাথে ফেলে দিবেন যা বাদামে ঠোঙ্গা অথবা বাসার পোষা ছোট্ট বিড়ালের বাচ্চাটার পটি পরিষ্কার করতে ব্যবহার হবে।

সরি,বস!! অনেক কিছু বলে ফেললাম। আপনাদের সমাজে ন্যায্য কথা যতদিন পারো না বলে চুপ করে থাকতে হয়। আমাদের সমাজে এমন নিয়ম নেই।


চুপ করে শুনতে থাকি এই কথা। কথা গুলো আমার বিড়ালের হোক অথবা আমার বিবেকের-এর মোক্ষম জবাব আমার কাছে নেই। আর এসব কিছু ঠিক করতে সমাজ আমাকে শেখায় ও নি,অনুমতিও দেয় নি।
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×