somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিংপং পইং ২

১২ ই আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
পর্ব ১ এখানে


৩.
মোটা মোটা কাঠ জুড়ে দিয়ে মাচা বাঁধা হয়েছে। তাতেই উঠে ছেলেবুড়ো উৎসুক কি যেন দেখছে। হাতের গেঁড়ো থেকে ছেলেটাও ফসকে গিয়ে তাদের দলে ভিড়লো। ছেলেমানুষি কৌতূহল দমাতে না পেরে আমিও পিছু নিলাম। লোকের ভারে মচমচিয়ে দুলে উঠল কাঠের মাচা। কিন্তু কই, তারকাটায় ঘেরা জায়গাটায় ঘন গাছের সারি ছাড়া কিছুই যে দেখছি না। যাকে দেখতে হাঁচড়ে পাঁচড়ে মাচায় ওঠা, সে দিব্যি ডালপালার আড়ালে গা ঢাকা দিয়ে রইল। হতাশ হয়ে নেমে পড়তে হল।

পাশ কাটিয়ে চলেই যাচ্ছি, অমনি ছেলেটা তারস্বরে চ্যাঁচাতে লাগলো, ‘ঐ যে, ঐ যে। মা, দেখো কত্ত বড় কুকুর’। তার দৃষ্টি অনুসরন করে ওয়েরউলফ সাইজের ইয়া বড় এক শিয়াল দেখতে পেলাম দূরে। আরামসে রোদ পোহাচ্ছে শুয়ে।

‘না, বাবা, ওটা শিয়াল মামা। দেখো না ওর লেজটা কত্ত ফুলো ফুলো। কুকুর তো দেখতে আরেক রকম’।

ছেলেকে বুঝ দিয়ে কুলিয়ে ওঠার আগেই গমগমে স্বর ভেসে আসলো, ‘মা-ছেলে মিলে খুব জ্বালাচ্ছো দেখছি। শান্তিতে বইটাও পড়তে দেবে না‘।

সজোরে মলাট বন্ধের শব্দে ইতি উতি চাইলাম। আর আচমকাই লোমশ শিয়ালটা অত বড় শরীর দুলিয়ে ঠিক সামনে এসে হাজির।

বেড়ার ওপাশ থেকে তিরিক্ষে মেজাজে সে অভিযোগ ঠুকে দিল, ‘শিয়াল মানেই মামা, আর তার ফুলো ফুলো লেজ? ব্যস্, আর বলার মত আর কিছু পেলে না। এই শিক্ষা দাও ছেলেপেলেকে? কেন, ‘শিয়াল পন্ডিত’ বললে কি হয় শুনি?’।

কড়া কথাগুলো শুনে একেবারে মিইয়ে গেলাম। এভাবে তো ভাবি নি।
‘দিন-রাত বই নিয়ে পড়ে থাকি, জানো সে কথা? আর তুমি ক’টা পড়েছো এ’মাসে বলো তো দেখি?’।

এ মাসে কি, এ বছরেই তো বই টই ওসব ছুঁই নি। পড়ার ভেতর পড়ি কেবল খটোমটো রিসার্চ পেপার। মিন মিন করে সে কথাই বলতে গিয়ে চোখ আটকে গেল পন্ডিত মশাইয়ের বিশাল থাবায়। এক তাড়া সবুজ পাতা জুড়ে দিয়ে গাছের বাকলের মলাটে বন্দী করা হয়েছে। বাহ্, বইয়ের কি নমুনা। অজান্তেই একটা শেয়াল মার্কা খ্যাক্ খ্যাক্ হাসি হেসে ফেললাম। ‘ওহ্, এই তোমার বই? এগুলোই চিবোয় সারাদিন শুয়ে বসে?’।

দশাসই শিয়ালটা এবার আহত গলায় বললো, ‘গাছের পাতায় ইতিহাস লেখা থাকে জানো? বরফ যুগ থেকে পাথুরে যুগ, কত কাহিনী। এই পৃথিবীর সব রহস্য লেখা পাতায় পাতায় আর তার শিরায়, উপশিরায়। তোমাদের কাগুজে বইয়ে যেমনটা লেখা থাকে। ইদানীং নিজেরাও সেগুলো আর পড়ো না। আর কাউকে পড়তে দেখলেও জ্বলুনি। আর বিরক্ত না করে কেটে পড়ো তো মানে মানে’।

আমাদেরকে আর এক রত্তি পাত্তা দিল না শিয়াল পন্ডিত। ভালো একটা খোড়ল খুঁজে নিয়ে তাতে কুন্ডুলী পাকিয়ে শুয়ে পড়লো। তারপর খুব মনোযোগ দিয়ে পাতা ওল্টাতে লাগলো।

৪.
রেইনট্রির মত আকাশছোঁয়া গাছে ছেয়ে আছে পইং পার্ক। তাদের ফুল-ফল-শিকড়-বাকড়ের বিবরন খুব যত্ন করে লেখা আছে কাঠের ফলকে। তার মানে, পইং একই সাথে একটা বোটানিকাল গার্ডেনও বটে। আর গাছগাছালি মানেই পাখপাখালির আশ্রম। কিচিরমিচির কোলাহলে চারপাশটা ভীষণ রকমের জীবন্ত। সবুজের ফাঁকে ঝিরিঝিরি দখিনা হাওয়া উড়ে ঘুরে মন মাতিয়ে রাখছে। এই সুযোগে পা’দুটো জিরিয়ে নিই খানিকটা। আর দেরি না করে পথের ধারের বেঞ্চিটা দখল করে নিলাম।

তারকাটার ওধারে বনবিড়ালের পরিবার গাদাগাদি করে ঘুমাচ্ছে। দিনে দুপুরের এ অবধি আর কোনো প্রানীকে অমন ঘুমাতে দেখি নি। বাবা-মা-ছানাপোনা সব এক সাথে মোয়া বেঁধেছে। ঘড়ঘড় নাক ডাকার শব্দও মিলছে। তবে ঝোলানো সাইনবোর্ডটা কেমন সন্দেহ হল। তাতে বড় বড় হরফ লেখা, ‘বনমোরগ’। অথচ উঁকিঝুঁকি মেরেও বনমোরগের ঝুঁটি মিললো না। বনবিড়ালের দল আবার মোরগ-পোলাও দিয়ে লাঞ্চ সেরে ভাত ঘুমটা দেয় নি তো?

যাক গে, প্রানীজগতের খাদ্যচক্র নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে সাথের থলে থেকে চিপ্স্-বিস্কুট-কফি বের করে ছোটখাট পিকনিকের আয়োজনে লেগে গেলাম।

‘মাফ করবেন, একটু আস্তে কথা বলা যায় কি? আমার মিসেস ঘুমাচ্ছে কিনা। বেচারার মাইগ্রেনের সমস্যা। ঘুমটা হলে ভাল হত‘। কথাগুলো খুব সহবতের সাথে বললেন বিড়াল পরিবারের বিনয়ী কর্তাবাবু।

কচর মচর শব্দে বিস্কুট কামড়ানোতে আলাব্বু দিতে হল। এত করে যখন বলছেন ভদ্রলোক। নিঃশব্দে কোল্ড কফি গিলে নিয়ে দ্রুত পাততাড়ি গোটালাম। মিস্টার ম্যাঁও ততক্ষনে বাকিদের পাশে ফিরে গিয়ে নাক ডাকা জুড়ে দিয়েছেন। এদের সবার ভরপেট এক দিকে গড়িয়ে পড়েছে। মাইগ্রেন না কচু। পেটের ভেতর বন মোরগগুলো ঘচ্ঘচ্ করেছে নির্ঘাৎ। (চলবে)




সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×