শ্বশুর আর শাশুড়ি বানান দুটো কখনো
ভালো করে খেয়াল করেছেন? কত পার্থক্য!
এই পার্থক্যের কারণে বানান দুটো আমার
খুব ভুল হতো। সেই ভুল থেকে উদ্ধার পাওয়ার
সূত্র বাতলে দিয়েছিলেন আমার এক সহকর্মী।
আমার বন্ধুতালিকায় উপস্থিত মান্যবরদের
কাছে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে সেই সহকর্মীর
সূত্রটি উল্লেখ করতে চাই:
“মনে রাখবেন শ্বশুরের ‘বিচি’ আছে, শাশুড়ির
নাই।” না, প্লিজ অন্যভাবে নেবেন না। তিনি
বোঝাতে চেয়েছেন শ্বশুর শুরু হয়েছে শ এর
নিচে ‘ব’ দিয়ে, শাশুড়ি বানানে সেটা নাই।
এই দুজন সম্পর্কে স্বামী–স্ত্রী হলেও দুজনের
বানানে কত ব্যবধান? সংসার জীবনে
স্বামী–স্ত্রীর মধ্যকার দূরত্বের খবর
বানানরীতি ঠিকই বুঝে গেছে।
দিনে দিনে এই ব্যবধান বাড়তে থাকে। এবং
যখন স্বামী–স্ত্রী দীর্ঘ দাম্পত্যজীবন পার
করে শ্বশুর–শাশুড়ি হন; তখনই ব্যবধান থাকে
সম্ভবত একেবারে সর্বোচ্চ!
প্রেম এবং দাম্পত্যের এই অসহযোগিতামূলক
অবস্থানের আরেকটি হদিস দেবে আপনাকে
এই বানানরীতিই।
বঁধু এবং বধূ শব্দ দুটির মধ্যে পার্থক্য খেয়াল
করুন। প্রথমটির মানে প্রেমিকা, দ্বিতীয়টির
মানে বউ। বঁধু যখন বধূ হন, তখন চন্দ্রবিন্দু বা
চাঁদ উবে যাচ্ছে, খেয়াল করে দেখেছেন?
প্রেমিকের কাছে তার প্রেমিকা অবশ্যই
চাঁদের মতো। বউকে প্রথম প্রথম চাঁদ–চাঁদ
লাগে। পরেও লাগে। তবে পূর্ণিমায় নয়,
অমাবস্যার সময়!
দাম্পত্য জীবনে কেন প্রেম উবে যেতে
থাকে, কেন বউকে প্রেমিকার মতো আর
চাঁদ চাঁদ লাগে না, এতে স্বামীর দায় বেশি
নাকি স্ত্রীর––এইসব দার্শনিক, সামাজিক,
মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্নের উত্তর ভাই আমি দিতে
পারব না। মাফ করবেন।
তবে এতটুকু জানি, প্রেমিকাকে চাঁদ বানিয়ে
কয়েক কোটি কবিতা আর গান আছে। কিন্তু
কখনো শুনি নাই এমন গান: ওগো বউ, তুমি
আমার চাঁদ, ইন্দুর আমি ছুইটা যামু, তুমি হইলা
ফাঁদ!
জয়তু বাংলা বানান!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০১৫ রাত ৮:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



