somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসেন আজ থেকেই শুরু করি

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এ দেশের মানুষ বাজারে গিয়ে কেন দেশি পেয়াজ রেখে ইন্ডিয়ান পেয়াজ কিনে ঘরে ফেরে সেটার যুক্তিযুক্ত কোন কারণ খুজে পাই না! ইন্ডিয়ান পেয়াজ দামে কম এই কারনে? কিন্তু গুনের কথা কি কখনো ভাবেন! কখনো কি বোঝার চেষ্টা করেছেন গুনে ও মানে দেশী পেয়াজের ধারে কাছে নেই ভারতের ওই বেসাইজের পেয়াজ!
কৃষি উন্নয়নে আমাদের প্রতিটা নাগরীকের দায়িত্ব নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখা। কিন্তু সেখানে দেশের বলতে গেলে ৮০ ভাগ মানুষই বাজারে গিয়ে আগে ইন্ডিয়ান পেয়াজের দিকে হাত বাড়ায়। সামান্য দুটাকা কম পাওয়ার আশায় আপনি দেশ এবং দেশের কৃষিকে নিজ হাতে খুন করছেন এটা কি কখনো ভেবে দেখেছেন!
ছোট বেলা থেকেই বই পুস্তকে পড়ে এসেছি বাংলাদেশের উন্নয়নে কৃষি ও কৃষক ৭৫ ভাগ অবদান রাখে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের বুকে কৃষি রফতানিতে ও আমরা সামনের কাতারের দেশ! কিন্তু এখন! আপনি বাজারে গেলেই সব বিদেশী সামগ্রী খুজতে থাকেন। অনেকেই বিদেশী জিনিস কিনে গর্বের সাথে গলা উচিয়ে কথা বলেন! এটা দেশের জন্য কতটুকু লজ্জার সেটা কখনো ভাবার চেষ্টা করেছেন!
আজ শুধুমাত্র আপনাদের এই বিদেশী বাহাদুরির কারনে বাংলাদেশের কৃষির বেহাল দশা। দেশে কোন ঘাটতি হলেই আমরা দেশের সরকারকে দোষ দিয়ে থাকি। কিন্তু আপনি ব্যক্তি মানুষ যে বেসি দোষ করছেন প্রতিনিয়ত সেটা বোঝার সাধ্য আপনার নেই।
বাংলাদেশের পাটকে সোনালি আশ বলা হয়ে থাকে যা বর্তমানে ধংশের মুখে। কৃষির প্রতিটা সেক্টরে ধস নেমেছে। যারা কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো এবং দেশের প্রতিটা মানুষের খাবারের চাহিদা মেটাতো তারা আজ দুবেলা ঠিকমত খেতে পারে না। বিদেশী বিদেশী করতে করতে আজ আমরা নিজেরাই দেশ ও দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করছি। আর কিছু হলেই সরকারের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে থাকি। কিন্তু বাস্তবতা আসলে কি!
একসময় আমরা দেশী পেয়াজ ছাড়া খেতাম না। দেশে ঢুকল ভারতীয় মোটা -তাজা পেয়াজ। আমাদের মা -খালারা 'ঝাঁজ কম' বলে রান্নাঘরে যতই অভিযোগ করত না কেন, 'দাম কম' এই অজুহাতে বাজারে গিয়ে আমাদের বাপ চাচাদের আগ্রহটা সেই ইন্ডিয়ান পেয়াজের দিকেই ঝুকতে থাকলো। 'দশ টাকা' কেজির ভারতীয় পেয়াজের সাথে 'বিশ টাকা' কেজি দেশী পেয়াজ টিকবে কি করে ? ফলে ধীরে ধীরে দখল হয়ে গেল বাজার, দেশী চাষীরা প্রায় বন্ধই করে দিল পেয়াজ উৎপাদন। আর এখন আমরাই সেই দশ টাকার পেয়াজ কিনছি পঞ্চাশ টাকা কেজি দরে।
একবার ভারতের ইংরেজি দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত ‘অ্যান আই ফর অ্যান আই : নো ওনিয়নস ফর ব্যানিং হিলসা’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে এক তথ্য জানানো হয়েছিলো। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ইলিশ মাছ না দিলে পেঁয়াজ ছাড়া তরকারিই হবে বাংলাদেশের ওপর ভারতের ‘প্রতিশোধ’। আমার প্রশ্ন হলো কেন ইলিশ মাছ দিয়ে তাদের কাছ থেকে আমরা পেয়াজ আমদানি করবো! এটার যক্তিটা কি? আমাদের দেশের পেয়াজের গুন খারাপ? আমাদের দেশের মাটি পেয়াজ উৎপাদনে উর্বর নয়!
আমি যখন পেয়াজের উদাহরন টেনে কথা শুরু করেছি তখন আর একটু যুক্তির কথা বলি। ভারতে উৎপাদিত পেয়াজ গুনে ও মানে কোন অংশেই ভালো নয় সেটা আমরা সবাই জানি এবং মানি। আপনি দেখেন ভারতে একটা পেয়াজ অনেক সময় কম তরকারী রান্না করতে গিয়ে দারুন অপচয় হয়। মানে একটা পেয়াজের পুরোটা আপনার কম তরকারীর জন্য প্রয়োজন হয় না। সেক্ষেত্রে আপনি পেয়াজের অর্ধেকটা কেটে ব্যবহার করে বাকি অর্ধেকটা রেখে দিচ্ছেন কাটা অবস্থায়। সেটা পরবর্তীতে কি হচ্ছে! নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বা পচে যাচ্ছে। ফেলে দিতে হচ্ছে কিন্তু আমাদের দেশে উৎপাদিত পেয়াজ কি কেটে ফেলা রাখার সুযোগ থাকে। আমাদের দেশে উৎপাদিত পেয়াজের যে সাইজ হয় তা দিয়ে আপনি কম হোক বা বেসি হোক যেকোন পরিমানে তরকারী রান্না করলে সেটা অপচয় হওয়ার সুজোগ নেই।
আপনি ধরেন পাঁচটাকা কম দিয়ে ভারতের পেয়াজ কিনছেন। কিন্তু দেখেন বাংলাদেশের একশ গ্রাম পেয়াজের যে গুন সেটা ভারতের ৩০০ গ্রাম পেয়াজ দিয়েই সেই স্বাদ বা গুন আাপনি পাচ্ছেন না। এখন টাকার অংক যদি হিসাব করে তাহলে কি বরং বেসি টাকা দিয়ে কম গুনের পেয়াজ বাজার থেকে কিনছেন না!
আমি কাউকে আসলে অংক বোঝানোর চেষ্টা করছি না। আমি শুধু বলতে চাই দেশীয় পণ্য কিনে হন ধন্য। আপনি ধন্য হলে ধন্য হবে দেশ, ধন্য হবে কৃষি উন্নয়ন হবে বাংলাদেশের।
আজ থেকে আপনি শুরু করুন। ভালো হোক মন্দ হোক যা কিনবো সম্ভব হলে দেশে পণ্যই কিনবো।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৮
১০টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×