somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সিরিয়া থেকে নাগরনো-কারাবাখ: রাশিয়া এবং তুরস্কের জটিল আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা

২২ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিরিয়া থেকে নাগরনো-কারাবাখ: রাশিয়া এবং তুরস্কের জটিল আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
২০ শে অক্টোবর, কোন মিডিয়া প্রচারনা ছাড়াই সিরিয়ার শহর মোরেকে অবস্থান নেওয়া তুর্কি বাহিনী তাদের ঘাঁটি থেকে সরে আসতে শুরু করে।এই ঘাঁটি গুলু সিরিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রিত হামা এবং সিরিয়ার তথাকথিত বিদ্রুহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন সিরিয়ার উত্তর পশ্চিম সীমানায় অবস্থিত ছিল।
এই ঘাঁটিগুলু রাশিয়ার সমর্থিত সামরিক ইউনিট এবং সরকারি মিলিশিয়া দ্বারা বেষ্টিত ছিল।যা সিরিয়ার সরকারী এবং বিদ্রুহিদের মধ্যে বাফার জোন হিসেবে কাজ করছিলো।ওয়াশিংটন পোষ্টের ভাষ্য অনুযায়ী তুর্কি-রাশিয়ার মধ্যে অলিখিত চুক্তি অনুযায়ী তুর্কি এসব ঘাঁটি থেকে তাদের সেনাদের সরিয়ে নিতে শুরু করে। তবে তুর্কি এসব সেনা ঘাঁটি থেকে প্রত্যাহার করা সেনা সদস্যদের সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব প্রদেশে মোতায়েন করে।এখানেই হল ভাইটাল প্রশ্ন।মোরেকের মোট গুরুত্বপুর্ন ঘাঁটি ছেড়ে দিয়ে তুর্কি কেন ইদলিবে সেসব সৈন্য মোতায়েন করলো।
এই প্রশ্নের উত্তর শুধু সিরিয়াতে নিহিত নেই।এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য যেতে ককেশাস অঞ্চলে।ইদলিব প্রদেশ দখল মুক্ত করতে সিরিয়া-রাশিয়ান সৈন্যরা অভিযান পরিচালনার গুঞ্জনের মধ্যেই তুর্কি মোরেক থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে ইদলিবে মোতায়েন করলো।
মোরেক থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের সঙ্গে মুলত নাগরোণো-কারাবাখ এবং লিবিয়ার যুদ্ধের সাথে যুক্ত।সেপ্টেম্বরে সিরিয়া নিয়ে তুর্কি-রাশিয়া আলোচনা কোন সমযোতা ছাড়াই ভেঙ্গে যায়।এটার মুল কারন ছিল ২০১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া,তুর্কিকে ইদলিবের কিছু সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল।কিন্তু তুর্কি সেই চুক্তি মানতে অস্বীকার করে।
১লা সেপ্টেম্বর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোয়া বলেছিলেন যে হায়াত তাহরীর আল-শাম এবং হুরাস আদ-দ্বিনের মতো উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলিকে ইদলিব ছেড়ে যেতে বাধ্য করতে পারেনি।যদিও চুক্তির মুল বিষয় ছিল ইদলিব এসব উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করা।এরপরেও রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান ইদলিবে হামলা শুরু করে।
সর্বশেষ চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছিল চলতি বছর ফেব্রুআরির গোড়ার দিকে সিরিয়ার সরকারী বাহিনীর আক্রমনে প্রায় ৬০ জোন তুর্কি সৈন্য নিহত হবার পর।এরপর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় মার্চের ৫ তারিখ যুদ্ধ বিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।চুক্তি অনুযায়ী তুর্কি ইদলিবের কিছু এলাকা থেকে তার সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিবে এবং তাহরির আল শাম এবং হুরাস আদ দ্বীনের মত চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলুকে ইদলিব থেকে সরিয়ে নিবে।মোরেকের স্ট্র্যাটিজিক অঞ্চল থেকে তুর্কির সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহারের মাধ্যমে বুঝা যাচ্ছে তুর্কি ইদলিব থেকে তার সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহার করবে না।ককেশাস এবং লিবিয়াতে এটা হবে তুর্কির পক্ষে বিশাল এক তুরুপের তাস।
লিবিয়া, সিরিয়া বা নাগর্নো-কারাবাখ উভয়ই আলাদা ঘটনা হিসাবে বিবেচিত হতে পারে কিন্তু তুর্কি রাশিয়া দন্দে একটা আরেকটার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
নাগর্নো-কারাবাখ কনফ্লিক্টঃ
প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা যুদ্ধে আজারবাইজান প্রায় ৩০ বছর আগে আরমেনিয়া কতৃক দখলকৃত ভুমি উদ্ধার করতে সমর্থ হয়।যদিও এটা সম্ভব হয়েছে রাশিয়ার নিরপক্ষে ভুমিকার কারনে।আজারবাইজানকে তুর্কি যেভাবে সমর্থন দিয়েছে আরমেনিয়া,রাশিয়ার কাছ থেকে সেই সমর্থন পেলে এই ভুমি উদ্ধার করা সম্ভব হত না।যদিও আরমেনিয়ার সাথে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে।কিন্তু অক্টোবরের ৭ তারিখ প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে পরিষ্কার করে আরমেনিয়ার সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি নাগর্নো-কারাবাখকে অন্তর্ভুক্ত করেনা।কারন ইউএসএসআর এর পতনের আগেই নাগর্নো-কারাবাখ অঞ্চলকে আজারবাইজানের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা দিয়েছিল।যার কারনে পুতিন এই কনফ্লিক্টে নিরপেক্ষ ছিল।এছাড়াও দুই দেশের সাথেই রাশিয়া উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং দুই দেশই রাশিয়ার অস্রের ক্রেতা।
১২ ই অক্টোবর এবং ২৩ অক্টোবর মস্কোতে রাশিয়া ও তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের মধ্যে বৈঠক সিরিয়া ও লিবিয়ার পরিস্থিতি সহ কারাবাখের দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এসব ঘটনা থেকে নিশ্চিত করে বলা যায় লিবিয়া, সিরিয়া বা নাগর্নো-কারাবাখকে আলাদা আলাদা ঘটনা হিসাবে বিবেচনা করা যাবে না। বিপরীতে, বর্তমান সময়ে তারা উত্তর আফ্রিকা থেকে ককেশাস পর্যন্ত বিস্তৃত মস্কো এবং আঙ্কারার মধ্যে বিস্তৃত লড়াইয়ের অংশ হিসাবেই ধরতে হবে।
যদিও এই ঘটনাগুলি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে সরাসরি প্রভাবিত করে, তাদের সামরিক ও কূটনৈতিক অনুপস্থিতির পাশাপাশি আলোচনায় অংশ না নেওয়ার বিষয়টি তুরস্ক ও রাশিয়ার কাছে স্পষ্ট সংকেত যে তারা লিবিয়া, সিরিয়া এবং নাগরনো-কারাবাখ সমস্যার সমাধানের বিষয়টি অনেকাংশে এই দুই দেশের উপর ছেড়ে দিয়েছে।যদিও বাইডেন প্রশাসনের ভুমিকা দেখার জন্য আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে।তবে একথা স্পষ্ট করে বলা যায় বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকাতে তুর্কিস হেগিমনিকে তারা মেনে নিবে না।এর মধ্যেই লিবিয়ার জিএনএ সরকারের সাথে ইটালির সামরিক চুক্তি তুর্কির অবস্থানকে আরো শক্তিশালি করবে এবং সৌদি-আমিরাতের ব্যাপারে যদি বাইডেন প্রশাসন কঠোর ভুমিকা নেয় তাহলে এ কথা স্পষ্ট করে বলা যায় লিবিয়াতে তুর্কির অবস্থান পাকাপোক্ত হবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৩:৪৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবননগর

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।



বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে দেশটি নেপালের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির বন্যা আসার আগেই চাকরির বাজারে খরা!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬



জুলাইয়ের পর বলা হয়েছিল দেশে নাকি চাকরির বন্যা বয়ে যাবে। অর্থনীতি ঘুরে দাড়াবে, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাবো। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিও হবে।

দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থানের অবস্থা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি তাহলে গুহা যুগে ফেরত যাচ্ছি?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫০



বিশ্ব যেখানে উন্নতির প্রতিযোগিতা করছে, কীভাবে জীবনমান আরও উন্নত এবং সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে আর আমরা ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটছি। চারদিকে ভয়াবহ অবস্থা!! চাঁদাবাজি, খুন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

।। রাশিয়ার মতো বাংলাদেশে হামলা করুক ভারত।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১২


আমি আজ পর্যন্ত আম্লিগে কোন ভালোমানুষ খুঁজে পাইনি। আম্লিগ মানেই ইয়ের বাচ্চা। আম্লিগ মননে মগজে ধর্ষক, লুন্ঠনকারী, দেশদ্রোহী ও পাচারকারী। এদের মাঝে কোন কালেই কোন ভালোমানুষ ছিলোনা বর্তমানেও নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×