এই রায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বিস্তারিত ) Click This Link
সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে দৈনিক আমার দেশ-এর প্রকাশনা আবার শুরু হওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। তারা মনে করছেন, সুপ্রিমকোর্টের নিরপেক্ষ ও সাহসী সিদ্ধান্তগুলো দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ রচনায় সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখতে সহায়তা দেবে। তারা মনে করেন, গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী করতে মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা জরুরি হলেও এ দেশের সরকারগুলো বিভিন্ন সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। কিন্তু সুপ্রিমকোর্টের এ ঐতিহাসিক রায় এটাই তুলে ধরেছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্বের দায় সুপ্রিমকোর্ট নিতে রাজি নন এবং সরকারের ইচ্ছাই শেষ কথা নয়। তবে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের পরও সরকার আমার দেশ-এর প্রেস তালাবদ্ধ রেখেছে। এটা বন্ধ রাখার আইনি ও নৈতিক অধিকার সরকারের নেই। তারা অবিলম্বে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করেন।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, আমি মনে করি আপিল বিভাগের অভিনন্দনযোগ্য ও সাহসী এ রায়ের মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সংগ্রাম জয়ী হয়েছে এবং এ রায়ের মাধ্যমে পত্রিকা শঙ্কামুক্ত হয়েছে। কারণ দেশবাসীর কাছে এ রায় গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে বিরোধী দলের অবস্থান সরকার সহজভাবে মেনে নেয়ার মতো উদারতা ও সহিষ্ণুতা দেখাতে পারে না বলেই সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় আঘাত আসে।
শিক্ষাবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য আপিল বিভাগের রায় মাইলস্টোন হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষত এ ধরনের একটি সাহসী রায় ভবিষ্যতে সংবাদপত্র ও বাকস্বাধীনতা হরণ করার ব্যাপারে সরকারের স্বৈরাচারী চিন্তাকে রুখে দিতে পারে। তিনি বলেন, এ রায়ের ফলে দেশের বৃহত্তর সাংবাদিক সমাজ উপকৃত হলো বলে আমি মনে করি। তারা বেশখানিকটা নির্ভয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনুপ্রেরণা পাবে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ হচ্ছে গণতন্ত্রেরই কণ্ঠরোধ। এ দেশে একাধিকবার সংবাদপত্রের ওপর আঘাত এসেছে এবং সাংবাদিকদের ভয়ভীতি ও নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু যুগে যুগে শেষ পর্যন্ত সংবাদপত্রের স্বাধীনতাই বিজয়ী হয়েছে। তাই এ রায় অভিনন্দনযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, দেশে সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তা রক্ষার দায়িত্ব বিচার বিভাগের ওপর বর্তায়। বিচার বিভাগ সরকারের অন্যায্য পদক্ষেপ সংযতকরণে ভূমিকা পালন করেছে। তবে আমি মনে করি, এ রায়ের মাধ্যমে আমার দেশ একেবারে শঙ্কামুক্ত হয়ে গেছে, তা বলার সময় এখনও আসেনি। আমি সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করছি।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বিদেশ থেকে দেশের মাটিতে পা রেখেই আমার দেশ পুনঃপ্রকাশের খবর পেয়ে বেশ আনন্দিত হয়েছি। আমি মনে করি, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবাদপত্র, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। এ যুগান্তকারী রায় গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, এ রায়ের কারণে বিচার বিভাগের প্রতি এ দেশের গণমানুষের আস্থা বেড়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছাড়া কোনো দেশেই গণতন্ত্র নিশ্চিত হতে পারে না। আমরা দেখতে পেলাম, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার রক্ষায় অনুকরণীয় ভূমিকা পালন করেছেন। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দাবি আরও দৃঢ় হয়েছে। তিনি সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি চেয়ে বলেন, আইনের কাছে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানও ন্যায়বিচার পাবে বলে আমার বিশ্বাস।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, এ রায়ে আমি খুশি। কারণ এ রায় গণতন্ত্রের পক্ষে হয়েছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ আপিল বিভাগের রায়কে মাইলস্টোন আখ্যা দিয়ে বলেন, এ রায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকারের পক্ষে গেছে। দ্বিতীয়ত, সরকারের কথা বা ইচ্ছাই যে শেষ কথা নয়, তাও প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে যদি এ রায়কে সহজভাবে নেয়, তাহলে তা সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে আরও সমুন্নত করবে। কিন্তু সংকীর্ণতাবশত এবং অযৌক্তিকভাবে যদি এ রায়কে নিজেদের পরাজয় ভেবে বসে, তাহলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সংগ্রাম আরও লম্বা হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী মনে করেন, আপিল বিভাগের এ রায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি শুভ লক্ষণ এবং এ রায় নিঃসন্দেহে অভিনন্দনযোগ্য। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, আইনের শাসন ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ আদালত যে সাহসী ভূমিকা পালন করেছে, তা আগামীতেও অব্যাহত থেকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমরা তাই বিশ্বাস করি, আপিল বিভাগের এ রায়ের মাধ্যমে অন্যরাও এখন থেকে সুবিচার পাবেন। তিনি আমার দেশ সম্পাদক মাহুমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করে বলেন, মাহমুদুর রহমান মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমার দেশ পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয়। তিনি উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, সরকারই আপিল করেছে। অথচ আপিল বিভাগের রায়ের পরও আমার দেশ-এর প্রেস সরকার খুলে দিচ্ছে না। এটা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নয়।
বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, আমার দেশ পুনঃপ্রকাশের মধ্য দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র ও দুরভিসন্ধিমূলকভাবে আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করেছিল, তা প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী আচরণের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। অন্যদিকে উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি আশা করি, উচ্চ আদালতের এ রায় থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নেবে এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে গণমাধ্যমের ওপর সরকার আর হস্তক্ষেপ করবে না। তারা অবিলম্বে আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি দেবে। আমি তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।
এই রায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
চলতি পথের গল্পঃ দুই

‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।
এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক
‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।