জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। ৮ আগস্ট সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে তাকে তার ‘সরকার আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছেব। এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে ওই বক্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ডিএমপি পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
১৯ জুলাই রাজধানীর বড় মগবাজারের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন জামায়াত নেতা। এ বক্তব্য সর্বোচ্চ আদালতের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করেছে। এ অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. অহিদুজ্জামান চান হাইকোর্টে একটি আবেদন দায়ের করেন। আবেদনের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ ও সরকার পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এবিএম আলতাফ হোসেন শুনানি করেন।
এছাড়াও জামায়াতের এই নেতা গত জুন মাসের শেষ সপ্তাহে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধানের বাংলাদেশ সফরের সময় মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত মুজিব ব্যাটারি নামে খ্যাত দুটি কামান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে উপহার দেয়া হয়। এ রকম ১১টি কামান ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশ গোলন্দাজ ইউনিটকে ব্যবহার করতে দিয়েছিল। মুজিব ব্যাটারি হস্তান্তরের প্রাক্কালে গত ২৯ জুন জামাতের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এটিএম আজহারুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘এ ঘটনা দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, ১৯৭১ সালে ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ অস্ত্রপাতি লুট করে নিয়ে গিয়েছিল, এসব অস্ত্র বাংলাদেশকে ফেরত দিতে হবে।’ চরম ভারত বিদ্বেষী পাকিস্তানী দোসররা সবকিছুতেই মুক্তি যুদ্ধের সবকিছুতেই বিপরীতমুখী এমনকি জীবন্ত ইতিহাসেও। যেখানে ভারত অস্ত্র দিয়ে অন্ন দিয়ে জায়গা দিয়ে সৈন্য দিয়ে সহযোগিতা করেছিলো সেখানে অন্য যায় হোক অস্ত্রপাতি লুট করার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে? আসলে মুজিব ব্যাটারি কিনা তাই গায়ে জ্বালা ধরেছিল ফলে যা তা মন্তব্য করতে দ্বিধাবোধ করেননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. অহিদুজ্জামান চান স্যারকে অভিনন্দন একজন রাজনীতিকের রাষ্ট্রদ্রোহী মন্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করায়। বাংলাদেশের রাজনীতিকরা মুখে যায় আসে তাই বলে প্রতিহিংসার আগুন জ্বেলে দেয় জাতীয় অস্তিত্বে। জাতীয় সংসদে জিহ্বা কেটে নেওয়া, সংবিধান ছুড়ে ফেলা, সংবিধান ডাস্টবিনে ফেলাসহ সকল রাষ্ট্রদ্রোহী মন্তব্যকারী রাজনীতিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হওয়া প্রয়োজন। সে যে দলের, যে মতবাদের লোকই হোক না কেন।
তবে সবার আগে আদালতকে রাজনীতির ছত্রছায়া থেকে বাঁচাতে হবে। আদালতকে হতে হবে সম্পূর্ণ সন্দেহমুক্ত। সেজন্য আইজীবীদের রাজনৈতিক সংগঠন নতুন আইন প্রণয়ের মাধ্যমে চিরতরে বন্ধ করার কোন বিকল্প নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


