বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী ১৫ আগস্ট উপলক্ষে বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর অবস্থান জিয়ার অনেক ওপরে। তাঁর সঙ্গে জিয়ার তুলনা মানায় না। যাঁর যাঁর অবদান, তা স্বীকার করা উচিত। এ প্রসঙ্গে একই অনুষ্ঠানে বিএনপির আরও দুই নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ও শাহজাহান সিরাজ বঙ্গবন্ধুর অবস্থান নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেন।
চিরন্তন এ সত্যটি বিএনপির উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতা-কর্মীদের অসিত্বকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। সত্য বলায় দলীয় চাপে দোপের মুখে পড়েছেন মওদুদ আহমেদ।
ব্যারিস্টার মওদুদের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী আহমেদ বলেছেন, দফতরের দায়িত্বে থাকার কারণে তার দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যারিস্টার মওদুদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে এবং দলের ভেতর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, দলের এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে থেকে তার (ব্যারিস্টার মওদুদ) এ ধরনের বক্তব্য দেয়া উচিত হয়নি। জাতীয় ইস্যুতে এ ধরনের বক্তব্যের আগে অবশ্যই দলের শীর্ষ নেতাদের, বিশেষ করে চেয়ারপারসনের সঙ্গে কথা বলে নেয়া উচিত ছিল। রিজভী অহমেদ বলেন, দলের সিনিয়র নেতারা যে বক্তব্য দেবেন তা অবশ্যই দলের শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে দিতে হবে এবং দলীয় নীতির সম্পূরক হতে হবে। যদি শৃঙ্খলা ভেঙে বক্তব্য দেন তবে তিনি যেই হোন না কেন, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সত্য বলা কী দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে হতে পারে? রিজভী আহমেদের এ মন্তব্যকে দেখবেন জাতীর বিবেকবান মানুষ।
রিজভী আহমেদ আশা প্রকাশ করে আরো বলেন, জাতীয় ইস্যুতে নেতাদের বিশেষ করে দলের সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য প্রদানের আগে অবশ্যই চেয়ারপারসন অথবা নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।
এদিকে মওদুদ আহমেদকে বগুড়ায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। বগুড়া জেলা ছাত্রদল গতকাল বুধবার মওদুদের কুশপুত্তলিকা দাহ করে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।
সত্য বলার দায়ে মওদুদ আহমেদের কুশপত্তলিকা দাহ, রিজভী আহমেদসহ অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য কী একথা প্রমাণ করে না, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতানাকে মনে প্রাণে অনুধাবন করে না। কারণ বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতার কথা চিন্তা করাও অবান্তর। সত্য বলতে যদি চেয়ারপার্সনের মতামত নিতে হয় তাহলে কী বিএনপি মিথ্যা কথা তথা অপপ্রচার চালিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এ দাবী সঠিক? দলের চেয়ে যদি দেশ বড় হয় তাহলে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সত্য কথা বলতে কেন চেয়ারপার্সনের মতামত নেওয়ার প্রসঙ্গ আসে?
হায় বিএনপি হায়! হায় জাতীয়তাবাদ হায়! হায় রাজনীতি হায়! আসুন সবাই মওদুদ আহমেদের মতো সত্য বলি। সকলের অবদান স্বীকার করি। দুর্নীতি-অনিয়ম-অসত্যের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


