somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকনুজ্জামান খান
মোঃ রোকনুজ্জামান খান রোকন।পেশাঃ মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট।রোগীদের সেবা দানে দৃঢ় প্রত্যয়।অল্পতেই বিশ্বাসী, প্রতিটি মানুষকেই মন উজাড় করে ভালবাসতে চেষ্টা করি?নতুন লেখক।

চীনকে আটকানোর জন্য ট্রাম্পের নজর এখন গ্রিনল্যান্ড !!!

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমেরিকা এবং চীনের মাঝের ব্যাবসায়িক যুদ্ধের মাশুল দিতে হয়েছে আর্কটিক সার্কেলকে! তাই যখন আমেরিকার রাষ্ট্র পতি: যিনি রিয়েল এস্টেটের ব্যবসার মাধ্যমে ডিসি, ম্যানহ্যাটান এবং ভেগাস জুড়ে নিজের সম্পত্তি তৈরী করেন। উনি একটা প্রস্তাব করেন যে উনি আরেক টা জমি কিনতে চায় গ্রিনল্যান্ডে। এবং উনি কথা দেন এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একটুও নষ্ট করবেন না।

তখন অনেকেই এটাকে ক্ষমতা লোভী ট্রাম্পের আরেকটি পাগলামি মনে করে। কিন্তু না : এই বিষয়ে আরকান্সাস রিপাবলিকান সেনাটর টম কটন মন্তব্য করেন ? উনি শিয়ালের মত চালাক।এটি ট্রাম্পের কৌশলগত উদ্দেশ্য। প্রথম আর্কটিকে পৃথিবীর (২২% শতাংশ) প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল এবং খনিজের উৎস রয়েছে। যা তার প্রতিবেশী ভিগ করতে পারে কিন্তু চীন পারে না।

কিন্ত গ্রীনল্যান্ড, যাদের কাছে পৃথিবীর দুর্লভ খনিজের (৩২% শতাংশ) আছে। এবং চীন যাদের কাছেও প্রায় এই পরিমাণে দুর্লভ খনিজ রয়েছে, এদের সাথে টাই-আপ করলে, তারা ভবিষ্যতে ইন্ডািস্ট্রিতে নিয়ন্ত্রন করতে পারবে। যেমন: উন্নত প্রযুক্তি এবং সুরক্ষা, স্মার্টফোন, সুপার-কম্পিউটার, নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম, ইলেকট্রিক গাড়ি,লেসার,উইন্ড টার্বাইন ইত্যাদি।ব্যাবসায় লাভ করার জন্য, চীন ইতিমধ্যেই আমেরিকাকে হুমকি দিয়েছে, যারা তাদের (৮০% শতাংশ) দুর্লভ খনিজ পদার্থ চীনের থেকেই আমদানি করে।

বর্তমানে, গ্রীনল্যান্ডের খনিজ ভান্ডারের অধিকাংশ অংশই নাগালের বাইরে, তার (৮১% শতাংশ) আইল্যান্ডের মোটা বরফের আস্তরণের নীচে লুকানো: কিন্তু গ্লোবাল ওয়ার্মংয়ে বরফ গলে যাওয়ার কারণে, ভবিষ্যতে এই ভান্ডারগুলিতে আ্যাক্সেস করা সহজ হবে। এই বছর পহেলা আগষ্ট শুধু মাত্র একদিনে গ্রীনল্যান্ডে ১২.৫ বিলিয়ন টন বরফ গলে যায়, যা ১৯৫০ সাল অর্থাৎ যখন থেকে ডেটা রাখা হচ্ছে তার থেকে বেশী: যা সমগ্র ফ্লোরিডাকে ডোবানোর জন্য এটা যথেষ্ট।

বরফ গলে যাওয়ার আরো কত গুলি সুবিদা আছে, এর ফলে গ্রীনল্যান্ড এবং আর্কটিকের মাঝে আমেরিকার জন্য কত গুলি বামিজ্য পথ খুলে যাবে, এর পাশাপাশি "পোলার সিল্ক রুটের" মাধ্যমে উত্তর চীন থেকে রেটারডাম পৌছাতে অনেক কম সময় লাগবে।যেখানে সুয়েজ খালের মাধ্যমে যেতে ৪৮ দি সময় লাগত , সেখানে আর্কটিক হয়ে গেলে মাত্র ১৯ দিন সময় লাগবে।

তবে আমেরিকা তাদের বানিজ্য বিরোধী পক্ষকে সরানোর জন্য সক্রিয় ভাবে ডেনমার্কের উপর চাপ সৃষ্টি করে চলছে। চীনের ২০১৬ সালে আমেরিকার প্রাক্তন নৌঘাঁটি গ্রোয়েন্ডেল ক্রয় প্রত্যাখ্যান করা হয়। ১৯৪০ সালে হিটলার ডেনমার্ক দখল করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ফ্রাস্কলিন ডি রুজভেল্টের অধিনে আমেরিকা "রক্ষক" হিসেবে গ্রিনল্যান্ড দখল করে, যা ১৭৭৫ সাল থেকে ড্যানিশ উপনিবেশ ছিল।

চীন এবং রাসিয়া দুজনের বিরোধিতা করার জন্য, বিশেষত রাশিয়া, যারা ২০১৬ সালে আর্কটিকের কোটেলনি দ্বীপ পুঞ্জে তাদের পরিত্যাক্ত সোভিয়েত মিলিটারি বেশ নতুন করে খোলে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা দ্বিতীয় বার গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা করেছিল।
২.৭ বিলিয়ন ডলার জিডিপি এবং ভবিষ্যতের লাভের হিসেব করে ওয়াশিংটন পোষ্ট গ্রিনল্যান্ডের মূল্য নির্ধারণ করেছে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এটি পৃথীবির বৃহত্তম দ্বীপ পুঞ্জ কারন, আস্ট্রেলিয়া মহাদেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি টেক্সাসের আকারের তিন গুন: বা আমেরিকার ১১ টি রাজ্যের সমান।

গ্রিনল্যান্ডারস ১৯৭৯ সালে দেশ শাসনের জন্য গণভোটের পরে নিজেদের পার্লামেন্ট, "ইনাটসিসারটুট" এর প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং নিজেদের প্রধানমন্ত্রী নিজেরাই নির্বাচন করেছিল। এখনও পর্যন্ত, শুধু মাত্র আইসবাগ্রের জন্য পরিচিত, জাকেবসাবন হিমবাহের অংশ, যা ১৯১২ সালে টাইটেনিক ডুবে যাওয়ার জন্য দায়ী, আবারও লাইম লাইটে ফিরে এসেছে:অদ্ভুতভাবে, বিশ্ব উষঃয়নের পরিমান বাড়ার সাথে সাথে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত প্রভাব বাড়ছে।

ইউএস বলে গ্রিনল্যান্ডের উপর নজর আছে তার
বরফের নিচে লুকিয়ে আছে খনিজের ভান্ডার
চীনের আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ করতে
এবং গ্লোবাল ওয়ামিং থেকে উপকৃত হতে
গ্রিনল্যান্ড পাওয়ার চেষ্টা হবে বার বার!!!!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:২৭
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×