বাম্পার ফলন এবং কৃষকের দুঃখ
কয়েকদিন আগে গিয়েছিলাম নওগা, বগুড়া ও জয়পুরহাটে। ধানের উৎপাদন বেশ ভাল। শিলাবৃষ্টির যে ক্ষতি হয়েছিল তাও পুষিয়ে গেছে। তারও আগে গেলাম সুনামগঞ্জেএ, সেখানেও ফলন চোখে পড়ার মতো। মাঠ থেকে এই খবরই আসছে যে এবার আরেকটি বাম্পার ফলন হবে।
এই বাম্পার ফলন দেশের জন্য আশীর্বাদ হলেও কৃষকদের শঙ্কার কারণ। বাম্পার ফলন মানে লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন- অর্থ চাহিদার তুলনায় যোগান বেশি। অতএব দাম কম।
এ যাবতকাল কৃষি ব্যবস্থা পরিচালিত হয়েছে ঘাটতি ব্যবস্থাপনার দৃষ্টি থেকে। ঘাটতি ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনকেই উৎসাহিত করা হয়। কারণ যাই হোক না কেন- খাদ্য নিরাপত্ত নিশ্চিত করা জরুরি।
কিন্তু প্রযুক্তির কল্যানে এখন উৎপাদন বাড়ছে। বাড়তি উৎপাদনের কারণে এখন যোগান বাড়ছে চাহিদার তুলনায়- অতএব দামও কমে যাচ্ছে। অতএব এখন কৃষি উৎপাদন উদ্বৃত্ত ব্যবস্থাপনার দিক থেকে পরিচালিত হওয়া উচিত। কিন্তু এই উদ্বৃত্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা আমাদের অর্জিত হয়েছে তা বলা যাবে না।
উদ্বৃত্ত ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন পরিকল্পনা- চাহিদা সৃষ্টি, বাজার সৃষ্টি এবং পণ্য উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকা উচিত। কৃষি মন্ত্রণালয় বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এটি করছে বললে ভুল হবে। সেক্ষেত্রে নীতি নির্ধারকদের সচেতন হওয়া দরকার।
তাই একেকটি বাম্পার ফলন মানে- কৃষকের হতাশা- আরো কিছু দায় দেনা- আবার কিছু জমি হারানো- আর এভাবেই কৃষক পরিণত হয় ভূমিহীনে- । যারা বড় কৃষক তারা দাম বৃদ্ধির জন্য অপেক্ষা করতে পারেন- কিন্তু ক্ষুদ্র কৃষক তো তা পারেন না। অতএব- বাম্পার ফলন এর খবর সরকারের সফলতা হলেও আর কৃষকের জন্য সুসংবাদ নয়। আর যে সফলতায় কৃষক বঞ্চিত সেই সফলতার অর্থ কী?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



