somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

[অণুগল্প] কিছু কথা থাক না গোপন..

১৫ ই আগস্ট, ২০১৬ ভোর ৪:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"দেখুন আপনি শুধু শুধুই আমাকে সবসময় কথা শোনান, আমি যে কাজগুলো করিনি সেগুলোর জন্যেও আমাকে কথা শুনতে হয় আপনার কাছ থেকে; আমার এরকম একদমই পছন্দ নয়। আমার কাছে আপনার আচরণগুলো বড্ড বাড়াবাড়ি রকমেরই মনে হয়..! প্লিজ, দরকার হলে আমার সাথে আপনি যোগাযোগ করাই বন্ধ করে দিন, তবুও এমন করবেন না। আমি এরকম আচরণে অভ্যস্ত নই!"

এক নি:স্বাসে যেন ভিতরে জমিয়ে রাখা সব বিরক্তি,রাগ আর আক্ষেপগুলো প্রকাশ করে দেয় ভোর। কথাগুলো শুনে রাশেদের মাথা নিচু হয়ে যায়। একরকম অদ্ভুত শূন্যতায় ভরে যায় যেন ওর চারপাশ। এরকম শূন্যতাবোধ রাশেদ তার সমগ্র জীবনে খুব কমই অনুভব করেছে। খুব ছোটবেলায় গ্রামের এক বৃদ্ধার কবরে তিন মুঠ মাটি দিতে দিতে ওর ভেতরটায় কেমন যেন একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় যখন রেজাল্ট খুব খারাপ হয়েছিল রাশেদের, তখনও যেন শূন্যতা ওকে গ্রাস করে নিয়েছিল। কিন্তু, আজকের এই শূন্যতাটা একটু বেশিই অদ্ভুত! এই শূন্যতার সাথে বুকের কোথাও সদ্য জন্মানো সুক্ষ্ম চিনচিনে ব্যাথার চমৎকার একটা বন্ধন আছে যেন। এই শূন্যতা আর বুকের কষ্টগুলো দল বেধে যেন রাশেদের শ্বাসপ্রশ্বাসের স্বাভাবিক ক্রিয়াতেও আজ ব্যাঘাত ঘটাতে চাইছে ক্রমশ।

তবে না! রাশেদ চায়না সবার মত ভোরও ওকে ভুল বুঝুক। তাই আর মৌনতা নয়। আজ না হয় ভোরকে বুঝিয়েই বলবে সব! ওতো কিছু ভুল করেনি, শুধু ভোরকে নিজের করে পেতে চেয়েছে! ভোর শুধু শুধুই যে কেন ওকে ভুল বুঝছে সেটাই বরং রাশেদ বুঝে উঠতে পারছে না! ভালোবাসাটা কি অন্যায়? ভালোবাসার মানুষটাকে দেখতে চাওয়াটাও কি অন্যায়? ভালোবাসার পবিত্রতায় ভোরকে বাঁধার মনবাসনাটা কি পাপ? নাহ, আজ রাশেদকে ওর সবগুলো কথা বলতেই হবে। যদি তাতে ওকে আরও অপমান হতে হয় তবে তাই সই! নিজের ভালোবাসার কথাগুলো এতটা দিন ধরে নিজের বুকের মাঝে চেপে রেখেইবা কতটা সুখে আছে ও? এর চাইতে ভালো আজই এসপারওসপার হয়ে যাক। তবুও আজ মনের গহীনে জমিয়ে রাখা স্বপ্নগুলোকে সে আজ পরিপূর্ণতা দেয়ার চেষ্টা করবেই। এরকম শত-শত এলোপাথাড়ি ভাবনাগুলোকে একত্রিত করে কিছুটা শক্তির সঞ্চার করে রাশেদ। মাথা নিচু করেই বলতে শুরু করে,

- দেখ, আমি জানিনা আমি তোমাকে কীভাবে কষ্ট দিয়েছি। তবুও তোমার সবগুলো অভিযোগ আমি মাথা পেতে নিচ্ছি। তবে আজ আমি তোমায় কিছু বলতে চাই। জানি, তোমার ভালো লাগবেনা, তবুও! শোনো..

এটুকু বলেই রাশেদ ভোরের চোখের দিকে মুখ তুলে তাকায়..! মুহুর্তেই সব গুছিয়ে রাখা ভাবনাগুলো যেন এলোমেলো হয়ে যায় রাশেদের।

ভোর কি আজ চোখে কাজল দিয়েছে? এমন অদ্ভুত মায়াবী চোখ মানুষেরও হয় বুঝি? এ যেন ভালোবাসার রাজ্য থেকে নেমে আসা সাক্ষাত অপ্সরী! এতটা কাছ থেকে দেখে যেন ভোরের আসল রঙটা আজ রাশেদের চোখে পরে। বাংলায় একটা বিশেষণ আছে, 'দুধে আলতা'! এই কি সেই রঙ? আর ঠোঁট? লাস্যময়ী ঠোঁট জীবনে রাশেদ অনেকই দেখেছে! কই, কোন ঠোঁট দেখেতো সেই ঠোঁটের কোণে চুমু একে দিতে ইচ্ছে হয়নি কোনদিন! তবে, আজ কেন...? এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ ভোরের কথায় রাশেদের কল্পনার জগতের সুতো ছিঁড়ে যায় যেন..

- বলুন? শোনো বলে চুপ করে আছেন কেন?

রাশেদ মনে মনে হাসে। নাহ, কথাগুলো আর বলার প্রয়োজন মনে করছে না রাশেদ। এতটা কাছ থেকে ও ভোরকে কখনোই দেখেনি আগে। আজ খুব কাছ থেকে দেখে রাশেদের ভ্রম ভেংগে যায়। দূর থেকে দেখে এতদিন ও ভোরকে সুন্দর ভেবেছিল, কল্পনার জালে চমৎকার বুননে বাসাও বেধেছিল। কিন্তু আজ এতটা কাছ থেকে দেখে রাশেদের সকল ভুল ভেঙে গিয়েছে। ছেঁড়া কাথায় শুয়ে শুয়ে ও যে এতদিন লাখ টাকার স্বপ্ন দেখে আসছিলো সেটা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারে ও। ওর ঘরে সর্বোচ্চ ভালোবাসার রাজ্যের সামান্য দাসী বউ হয়ে আসতে পারে, তাও সেটা হলে হবে প্রচন্ড ভাগ্যগুণে! তাই বলে রাশেদ যদি ভালোবাসার দেবি ভেনাসকেই চেয়ে বসে তবে সেটা নিশ্চয়ই বাড়াবাড়িই হয়ে যাবে? এটা যে স্বপ্নেও দু:সাহস করার মত কিছু..!! তাই নিজের ভাবনাগুলোকে নিজেই নাকচ করে দিয়ে মাথা নাড়ায় রাশেদ, ভোরের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে..

- আমি এমনই! সবাই বলে..! আমি খারাপ। আর খারাপ মানুষরাতো এমনই করবে..! তবে হ্যাঁ, আমি খুবই দু:খিত। কথা দিচ্ছি, এমনটা আর কখোনই হবেনা। ভালো থেকো তুমি ভোর........

কথাগুলো বলেই দরজা দিয়ে বের হয়ে যায় রাশেদ। বিরক্ত চোখে কিছুক্ষণ খোলা দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে ভোর। মনে মনে 'Idiot' গালি দিতে দিতে দরজাটা ভেজিয়ে পড়ার টেবিলের দিকে এগিয়ে যায় ও। কাল কয়েকটা আইটেম আছে ওর, এসব ফালতু মানুষের জন্য সময় নষ্ট করার কোন মানেই হয়না এখন!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০১৬ ভোর ৪:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×