somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার খোলা হাওয়াই চাই

০৭ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনটা যার পর নেই খারাপ। ঘুম ভাঙ্গে বিষাদে, কি যেন নাই, কি যেন নাই একটা হাহাকার। নেই ছুটির আনন্দ, ঈদের আমেজ, নির্জীব পরে থাকি, ইতালি, জার্মানির হাই ভোল্টেজ টাই ব্রেকার ও নিঃস্পৃহও চোখে দেখি। নেটে আঁতিপাঁতি খুঁজি! না কোথাও নেই কোন আশা কিংবা আশ্বাস। শুধু কাদা ছোঁড়াছুড়ি কিংবা ঘৃণার ছড়রা। ঘৃণাই ঘৃণার জন্ম দেয়, বিষ বাষ্প ছড়ায়, এ বোধ আমাদের নেই। এ এক অদ্ভুত জাতিতে পরিণত হয়েছি আমরা, সত্য কে সাহসের সাথে স্বীকার করতে চাই না, এড়িয়ে যাওয়া আমাদের জাতিও চরিত্র। এ রাহু থেকে না বের হলে বাঁচার আশাই নিরাশা।
আগেও বহুবার বলেছি, বিচারহিনতা এ কালসাপের আঁতুড় ঘর।
জঙ্গিবাদ শুধু রাজনৈতিক সমস্যা নয়, এ এক সামজিক সমস্যা, যা আমাদের সমাজের মাঝে ঢুকে যাচ্ছে কিংবা গেছে, আমাদের অজান্তেই। আমার কৈশরবেলায় ড্রাগ প্রবলেম মাত্র মাথা চাড়া দিয়ে উঠছিল,তখন আমরা দেখতাম ডাস্টবিনের পাশে বসে নোংরা কালো কালো কিছু লোক ড্রাগ নিচ্ছে, কিংবা শুনতাম বড়লোকদের ছেলে পেলেরা এসব করছে, কিন্তু বছর কয়েকের মাঝে দেখি, এরা ঢুকে গেছে ঘরে ঘরে, জালের মত ঘিরে ফেলেছে, আর এখন ত এ “মায়ার বাঁধন” (লুঙ্গি মায়া তনয়ের যত্নে এ শিল্প এখন ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পরেছে।) ঠিক তেমনি জঙ্গিবাদ ঠিক এমনি চলে এসছে নিঃশব্দ শ্বাপদের মত। মুরগি কবিরের মত শুধু “বিম্পি জামাত” আর বুদ্ধিবারবণিতাদের মত শুধু “কাওমি মাদ্রাসা” “কাওমি মাদ্রাসা” জিকির তুল্লে, এ বিষ-পরগাছা, বিষ বৃক্ষতে পরিণত হবে, ফেরার আর পথ থাকবে না কোন।

নিরপেক্ষ দৃশটিতে পুরো ঘটনাটি আমাদের বিশ্লেষণ করতে হবে, শিক্ষা নিতে হবে, তৈরি হতে হবে, মোকাবিলা করতে হবে, ন্যাকামো করার সময় আর নেই। অনেক প্রশ্নের জবাব আমরা পাবো না জানি, তারপরও প্রশ্ন থেকেই যাবে, এ যেমন সত্যি, একিভাবে আমরা কিছুদিন পর সব ভুলে যাব সেটাও সত্যি। জানিনা অন্যরা কি ভাবে, তবে বাঙ্গালীরা সব সময় ভাবে এসব ঘটনার তাপ উত্তাপ বুঝি তাদের ছোঁবে না। ঢাকার ট্রাফিক যেমন, নিজে গেলেই হল, অন্যর কি এলো না গেলো কিছুই আসে যায় না অনেকটা তেমন। আমরা ভাবি আমাদের রোড এক্সিডেন্ট হবে না, আমাদের বাসায় আগুন লাগবে না, ভূমিকম্প হলে আমাদের বাসা হেলে পরবেনা। এটা মজ্জাগত, তাই কোন কাজেই আমরা মেথডলজি বলতে যে জিনিষটি আছে, সেটা কাজে লাগাই না, এটা শুধু থিসিস পেপারেই থাকে। কিন্তু জঙ্গিবাদের জুজু গুড়ি মারা বাঘের মত কখন যে ঘারে নিঃশ্বাস ফেলছিল কেউ টের পায়নি, যখন কামড়ে ধরল তখন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বসে আছি। দুষ্টু পুলিশ অফিসারও বুঝলেন না, কম্ফোরট জোনে “ক্রস ফায়ার” আর বানিজ্য বাতাসে ভাসতে থাকা অফিসার বেঘোরে প্রান দিলেন। সেই বিডিআর নাটকেরেই আরেক পর্ব দেখলাম। সব গা সোয়া হয়ে গেছে। কিন্তু সময় এসছে গা ঝাড়া দিয়ে উঠার, নিজেদের ভালো মন্দ বুঝে উঠার।
আমি বরাবর একটা কথা বলে এসছি, আমরা (মধ্যবিত্তরা) ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি, বিপন্ন প্রাণিতে পরিণত হয়ে যাচ্ছি, অথচ এই শ্রেণীরাই সমাজ কে ধারণ করে, মুল্যবোধকে জাগ্রত রাখে, এগিয়ে নিয়ে যায় সমাজ, দেশ, গোটা বিশ্ব। আজকের এই জঙ্গিবাদ যতটা বৈশ্বিক রাজনৈতিক ততটাই সামাজিক, ততটাই কালচারাল। মোটা দাগে কিছু জিনিস আগে বিবেচনায় আনতে হবে, যে গুলি নিয়ে আমাদের অতি অবশ্যই কাজ করতে হবে। ধর্মীয় অপশিক্ষার বাইরে যা রয়েছে, সে ইস্যু গুলো মোটামুটি এই রকমঃ
১। প্রপার কমিউনিটি লাইফের অনুপস্থিতি।
২। সুস্থ্য বিনোদনের অভাব।
৩।মানুষের কালচারাল ইনভ্লবমেন্টের অভাব।
৪। উদ্দেশ্য বিহীন শিক্ষা ব্যবস্থা।
৫। নৈতিক শিক্ষার অভাব।
৬। ক্রমশ পরিবর্তনশীল পারিবারিক কাঠামো কিংবা পারিবারিক বন্ধনের অভাব।

আর কিছু ইস্যু রয়েছে যা সরাসরি রাজনৈতিক ( বৈশ্বিক রাজনীতির বাইরে)।
৭। বিচার বিহীন সমাজ, জবাবদিহি বিহীন সরকার ব্যবস্থা।
৮। গুম খুন এবং গ্রেপ্তার বানিজ্য।
৯। দমন এবং এককেন্দ্রিক শাসন।
১০। সামাজিক বিভক্তি (ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক)।
১১। ভারসাম্য বিহীন সরকারি নীতি।
১২। ধামাচাপা কার্যক্রম।
১৩। ভারত তোষণ নীতি।
প্রথম ছয়টি সরাসরি আমাদের মগজহীন প্রাণিতে পরিণত করছে, যা বন্ধু প্রতিম রাষ্ট্রটি চায়, একচেটিয়া দাদাগিরির পথ সহজ করতে।
পরের সাতটি আমাদের সংকুচিত কিংবা বশীভূত কিংবা পদানত করে রাখার কালচার, যা পাষাণ ভারের মত বুকেচেপে থাকে, আর এমন বিষবাষ্প তৈরি করে।
যদি বিশ্বজিৎ থেকে শুরু করে দুই রূপবান যুবক কিংবা তনু, মিতু থেকে নিরীহ সেবায়েত অথবা মুয়াজ্জিন হত্যার বিচার হত অথবা অন্যায় অন্যায্য লিখা লেখার জন্য থাবা বাবা কিংবা আসিফ মহিউদ্দিনরা যেমন হোক জবাবদিহিতার মাঝে থাকতেন, সাত খুনের আসামিরা হাসিমুখে না ঘুরত, তাহলে শত অভাব অনটনেও আমরা মাথা উচু করে থাকতাম, কেউ একটা অপরাধ করার আগে দশবার ভাবিত হত। বাংলাদেসের সৌন্দর্য বলি কিংবা ঐতিজ্য বলি সে হল সম্প্রীতি, সে হল সহমর্মিতা, আজ তাই পরাভূত, অদৃশ্য। পরস্পর অবিশ্বাস আর সন্দেহের অবকাশে, এ কালো ছায়ায় আমরা আটকে যাচ্ছি ক্রমশ। নৌকা, ধানের শিষের অকথ্য কামড়া কামড়িতে এ রক্তবীজের ঝাড়েরা বেড়েই চলেছে।
আরেকটা বিষয় উল্লেখ না করেলেই নয়, যেমন “মুসা ইব্রাহিম”, হিরো গলায় মালা টালা পরে যা-তা অবস্থা, এই মুহূর্তেই আবার সে বাটপার। “ফারাজ” এই হিরো এই টেররিস্ট। এ কালচার থেকে বেরুতে হবে। সরকার যদি সত্যিকারের আন্তরিক হয় “ আকাশ, বিকাশ”… নাটক থেকে বের হতে হবে। সংখ্যালঘু ( এই শব্দ যুগলেই আমার আপত্তি) অত্যাচারকারীদের দল মত নির্বিশেষে শাস্তির আওতায় আনতে হবে, একই সাথে মুসলিমদের চাওয়া, পাওয়া কেও গুরুত্ব দিতে হবে। কেউ যেন সমাজে বঞ্চিত মনে না করেন। একটা ব্যল্যান্স দরকার সমাজের। একটা খোলা হাওয়ায় বেরে উঠা শিশু, কোন দিনই জংগি হতে পারে না। আমার এই খোলা হাওয়াই চাই।
(ক্রমশ)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১:১১
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×