

এ কবিতা খানা কার লিখা? অনেকেরই জানা নেই! চলুন কবিতা খানা একটু পড়া যাক।
কায়েদে আজম!
"হে মহান নেতা সাড়া দাও, দাও সাড়া,
তোমারে ভোলেনি, আজিও ডাকিছে বঞ্চিত সবহারা
তোমারে হেরেনি, শুনেছিল শুধু তোমার কন্ঠবাণী;
জেনেছিল তারা, তুলেছে পতাকা তোমার বজ্রপাণি
অবিচল ন্যায়ে, সত্যের আলো ইসলামী ছায়াতল
বহু যুগান্ত আধাঁর অন্তে আবার সমুজ্জ্বল
হয়ে এল, নীল নভ হতে হাসে অর্ধচন্দ্র-তারা
শ্যামা বসুমতী বিছায়ে আচল নিশীথ তন্দ্রাহারা
হেরিল দিনের দীপ্তরবির আলোক বিথারি পথ
ভরে জনতায় তব জয়াগানে পুরাইয়া মনোরথ
দৃপ্ত স্বাধীন বক্ষের বলে লাখো লাখো তাজা প্রাণ-
কায়েদে আযম! তোমারে স্মরিয়া করিয়াছে কোরবান।
এনেছে আযাদী শতাব্দী শেষে, তোমার মহান দান
অঞ্জলী পাতি করেছে গ্রহণ, রাখিয়াছে সন্মান সর্বহারার দল
আর যারা লোভী, ক্রুর শয়তান, তাহারা করেছে ছল।"
নিশ্চয়ই কোন জামতি, নিশ্চয়ই কোন রাজাকার!
ফাঁসি চাই!! ফাঁসি চাই!!!
দুঃখ তিনি আমাদের সুফিয়া কামাল।
সুলাতানা কামালের মাতা! সকল চেতনার শক্তির উৎস। এখন কি হবে!
কিচ্ছু হবার নেই! সবাই পাকিস্তান চেয়েছেন তখন, সব্বাই! এখানে তাই তাঁদের নেতার স্তুতি তিনি করেছেন। অসুবিধা কোথায়! শামসুর রাহমান দৈনিক পাকিস্তানে চাকরি করেননি ’৭১ এ। তাঁর চেয়ে বড় দেশ প্রেমিক আজ রাম সাম জদু মদু আন্ডু বাচ্চু সবাই?
কে কি চাপে তখন ছিলেন সব তো ইতিহাসে পরিষ্কার নেই। যারা কলকাতা গেছেন সবাই কি মুক্তিযোদ্ধা নাকি? সুনীল “পূর্ব পশ্চিমে” কি কোন গবেষণা ছাড়াই “জয় বাংলা শেঠ”-দের কথা লিখেছেন। দুঃখ এদেশে নিরপেক্ষ কোন ইতিহাস লিখার মত কেউ নেই।
এবং নাসির উদ্দিন ইউসুফ মুক্তি যোদ্ধা, নাট্য ব্যাক্তিত্ব, চিত্র পরিচালক, অনেক পরিচয়ে পরিচিত। নিজের উপস্থিতি যথেষ্ট প্রবল শিল্প সাহিত্য অঙ্গনে, রাজনীতির বাইরেও তিনি নন। ইনাদের অনেক অবদান, অস্বীকার করবার অবকাশ নেই, কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে সব কেমন ধারা যেন বদলে যাচ্ছে।বলা নেই কওয়া নেই, খান আতার মত ব্যাক্তিত্বকে বানিয়ে দিলেন রাজাকার। কে জানে কি আছে নেপথ্যে! এ দেশে মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকার খেলা বড় সহজ, মতের অমিল ব্যাস ওমনি ব্যাটা রাজাকার। যে ডকুমেন্টের জোড়ে উনি ঘোষণা দিলেন সেখানে মুনীর চৌধুরীরও সাক্ষর আছে, আছে আরও অনেকে। তারা কি পরিস্থিতির কারনে বাধ্য না অন্য কোন কারণ আছে তা কিন্তু কেউ দেখছেন না, বলা শুরু করে দিলেন রাজাকার! রবি ঠাকুর বলেছিলেন আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ,! এ দেশে এ চেতনা বড় কঠিন জিনিষ! পান্না সবুজ না, যে রং চান তাই হবে। বীর মুক্তি যোদ্ধারা হয়ে যায় রাজাকার। পদকধারী বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যান পাকিস্তানী এজেন্ট! সেলুকাস কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! কি বিচিত্র এ দেশ বলবারও উপায় নেই।
খান আতা পনের আগস্টে শ্যাম্পেন খেয়েছেন? উনার মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তো পান করতেই পারেন।ইউসুফ বাচ্চুও তো খান, কোন কোন দিন খেয়েছেন সে হিসেব নিলে দেখা যাবে কইন্সাইড করে গেছে অনেক কিছু, তাহলে? আর যিনি ট্যাঙ্কে উঠে সাম্বা নেচেছিলেন? তাকে তো কোলে তুলে নিয়েছেন। বাহ চেতনা বাহ!
বলতে মন চাচ্ছে আমারই চেতনার ঠ্যালায় যে কেউ হয় রাজাকার, আর যে কেউ হয় মুক্তিযোদ্ধা!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



