somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ (৩)

০৭ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্বকথন: নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ (১) | নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ (২)

আমার একটা চিলেকোঠার স্বপ্ন ছিলো। সুন্দর একটা রুম। ছোট্ট একটা পড়ার টেবিল। সাথে লাগোয়া বুক শেলফ। দরজা দিয়ে বের হলেই প্রশস্ত ছাদ। উম্মুক্ত আকাশ। ছাদের এক কোণে থাকবে অল্পকিছু টব; ফুলের বাগান। অপার জোছনায় আমি ছাদে হেঁটে বেড়াবো আপন মনে। বৃষ্টির জলে ভিজবো। গোধূলির রঙে রাঙাবো মন। আমার স্বপ্নের ভুবন হবে আমার ছোট্ট চিলেকোঠায়...। একটা ছোট্ট চিলেকোঠা। তেমন বেশি কিছু নয়। তবুও এই স্বপ্নের কথা কাউকে বলাই হয়নি। মনের অন্তপুরে এই স্বপ্নটিও মূক হয়ে গেছে।


আমি মানুষটা জানি কেমন! অদ্ভুত! আমার মধ্যে উচ্ছ্বাস কম‍! ভিতরের অসম্ভব উচ্ছ্বাসটুকু বাহিরে দেখানোয় আমি অতিশয় কৃপণ। প্রথম সমুদ্র দর্শনের আগে আগে মনে হতো। শহরে নেমেই এক ছুটে সমুদ্রে যাবো... সমুদ্র স্রোতে পা ভিজিয়ে বলবো, হে সমুদ্র! আমি এসেছি! আমাকে বরণ করে নাও! অনেক রাত অব্দি সমুদ্রের গর্জন শুনবো। সমুদ্র বিলাস!
কিন্তু কার্যত দেখা গেলো, হোটেলে নেমে বিছানায় শুয়ে ভাবছি... এসেই তো গেছি। কাছেই সমুদ্র। এত তাড়াহুড়ার কি আছে। ধীরে সুস্থে দেখা যাবে ক্ষণ। এতদিন যখন দেখিনি; আর একটু তর নিশ্চয়ই সইতে পারবো। রাতে সমুদ্র জলে পা ভেজানোর আগে একবার ইতস্তত হলো, আহা! পাটা কি ভিজাবো!!! আর ঠিকমতো সূর্যাস্ত দেখেছি মনে হয় ঠিক দুদিন পর!


আজকাল প্রকৃতির সাথে কথপোকথন খুব একটা হয় না। দূর শহরের নাগরিক জঞ্জালে আমি ব্যস্ত। ছুঁয়ে দেখা হয় না কোন সবুজ। উঠা হয় না কোন পাহাড় চূড়ায়। ভোরের শিশিরে শেষ কবে পা ভিজিয়েছি ভুলে গেছি। সমুদ্র আমায় ডেকে ডেকে হয়রান। অরণ্যের সুর হারিয়ে গেছে। আমার নিশীথ রাতের বাদল ধারায় আজকাল খুব একটা আপ্লুত হই না। বৃষ্টি জল ছোঁয়া গেলেও আজকাল হাত বাড়িয়ে ধরি না। চাঁদের আলো বাঁধ ভেঙেছে? তো কি হয়েছে! রজনীগন্ধা, গন্ধরাজ, শিউলি, বেলী কি আজকাল আর আমার জন্য ফোঁটে?


নির্ঝর প্রকৃতি আর আমার নেই। আমার আছে চক্ষু জল, অফুরান! নির্ঝরের স্বপ্ন হারিয়েছে তারও অনেক আগে!!!





"Woke up, got out of bed.
Looked up at the sky and said :
"Yeah I think I see some blue"
But as I drove the rain began
Walked the path once more again
This time not to the top
The rain fell and would not stop"



*** ৭ই আগস্ট। আজ তোমার জন্মদিন! শুভ জন্মদিন, হে বন্ধুবরেষু।।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ১১:১৫
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×