somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুভূতির আলোড়ন

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৩:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার সামান্য দূরেই একটা সাদা মোমবাতি জ্বলছে। সামান্য বাতাসের জাপটা এসে মোমের শিখা টা একটু দুলিয়ে দিয়ে গেল। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। বছরের এই সময়টায় সাধারণত বৃষ্টি হয় না। আজ হচ্ছে।ঝুম বৃষ্টি। টিনের চালে বৃষ্টি পরার শব্দ হচ্ছে। এ শব্দগুচ্ছ যেন আমার সমস্ত আনুভূতি ইন্দ্রিয় কে ছুঁয়ে যাচ্ছে। আমার সামনে রাখা মোমবাতিটা ক্রমেই ফুরিয়ে যাচ্ছে। মানুষের জীবনটা ও যেন মোমের মত। জ্বলেই ফুঁড়িয়ে যায়। থেকে যায় কিছু সৃতি, স্বপ্ন, ভালোবাসা, আর ভালোবাসার মানুষ গুলো।
মোমটা ফুঁড়িয়ে গেল। ঘরটা আঁধারে ঢাকে গেল। হাতের কাছেই সদ্য কেনা মোবাইল নামক বার্তা যন্ত্রটি আছে। চাইলেই আলো জ্বালানো যায়। কিন্তু জ্বালাতে ইচ্ছা করছেনা। কখনো কখনো অন্ধকার ভালো লাগে। অন্ধকার আছে বলেই মানুষ আলোর প্রয়োজনীয়তাটা আনুভব করে। আজ না হয় অন্ধকারেই থাকি।
পাশের পুকুরপাড় থেকে ব্যাঙ ডাকার শব্দ আসছে। বিদ্যুৎ চমাকচ্ছে। একটা কুকুর দরজার সামনে আশ্রয় নিয়েছে। অন্ধকারে সব অদ্ভত সুন্দর লাগছে।
পকুরপাড়ের পাশে একটি কাঁচা রাস্তা। রাস্তা দিয়ে সামান্য একটু এগুলেই রেল লাইন । রেল লাইন ধরে বাঁ দিকে কিছুটা এগুলেই একটা পুল। পুল পার হলেই দেখা যায় একসারি সেগুণ গাছ মাথা উঁচু করে দারিয়ে আছে। তার পেছনর দিকটায় একটি বাড়ি। রূপাদের বাড়ি।
রূপাকে প্রথম কবে দেখেছিলাম? মনে করতে পারছিনা। স্মৃতি গুলো জাপসা হয়ে আসছে।
আজ থেকে সম্ভবত তিন বছর আগে, ফুঁপির হলুদ অনুষ্ঠান চলছে। আমি তথন মাত্র সিগারেট খাওয়া শিখেছি। সিগারেট খাওয়ার জন্য আসর থেকে বের হয়ে পুকুর পাড়ে আসেছি। প্যাকেট থেকে সদ্য উন্মুক্ত হওয়া বেনসন এন্ড হেডস টা মাত্র জ্বালিয়েছি আর বৃষ্টি শুরু হলো। কিছু বুঝে উঠার আগেই ভিজে চুপসে গেলাম। কি করব বুঝতে না পেরে ভেজা বেনসনটা হাতে নিয়ে বসে রইলাম।
একটু দূরে একটা আলোক রেখা দেখা যাচ্ছে। কেউ একজন হাতে হারিকেন নিয়ে এদিকেই আসছে। নূপুরের রিন রিন শব্দও পাচ্ছি। আরেকটু কাছে আসায় অবয়ব টা স্পষ্ট হল। একটা মেয়ে। মেয়েটি আরো কাছে আসলো। হ্যারিকেনের মৃদু আলোতে তাকে দেখলাম। হলুদ একটা শাড়ি পরেছে সে। হাতের কাঁচের চুড়ি গুলো ক্রমাগত বেজেই চলছে। টানাটানা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ঠোঁটের উপর সামান্য বৃষ্টির ছটা পরেছে। মাথায় একটা কালো ছাতা ধরে রেখেছে। মনে হচ্ছে রূপকথার কোনো গল্প থেকে উঠে আসা হলুদ একটা পরী। ও পরী একটা মানুষ এত সুন্দর হয় কি করে?
আমি তাকিয়ে আছি অপলক দৃষ্টি তে।
আমার অনেকটা কাছে আসে অভিমানের সুরে বলল, এই যে এখানে একা বসে ভিজছেন কেন?
ঃ আ আ আম আমি আসলে
কিছুই বলতে পারলাম না। গলা শুকিয়ে গেছে। জল দরকার অনেখানি।
বুজেছি। ভেজার ভুত চেপেছে? আসুন আমার সাথে। উঠুন। বলেই আমার হাত ধরল।
তার হাতের উষ্ণতা আনুভব করলাম। মনে হল এর চেয়ে সুন্দর অনুভূতি কি থাকা সম্ভভ? হয়ত না।
আমি হলুদ পরীকে অনুসরন করছি। সে আমাকে উঠোন পর্যন্ত নিয়ে আসলো। বলল যান এবার ঘরে গিয়ে শুকনো কাপড় পরে নিন। নাহয় ঠাণ্ডা লেগে যাবে।
সে চলে যাচ্ছে আমাকে একা করে। আমি নিঃচুপ দাড়িয়ে আছি। আমার বুক ফেটে যাচ্ছে তাকে বলার জন্য, তুমি আমাকে একা ফেলে যেওনা পরী।তোমাক ছাড়া যে আমি অসহায়। কিন্তু আমি কিছুই বলতে পারলাম না। কথা গুলো বুকেই জমা রইল। কণ্ঠনালী দিয়ে উন্মুক্ত হল না।
আজও সে এসেছিল। জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে অনেকটা সময় জুড়ে। একফোঁটা জল ও গড়িয়ে পরেছিল তার গাল বেয়ে।
আজও আমি কিছুই বলতে পারিনি। আমি বলতে পারিনি তোমার গাল বেয়ে পরা জলকণার মূল্য যে আমার প্রান পাখিটার সমান।
আজও রুপা হলুদ্ শাড়ি পরেছে। আজও বৃষ্টি হচ্ছে। ঠিক সেদিনের মত।
আমার দৃষ্টি যাপসা হয়ে যাচ্ছে। আনুভূতি গুলো মলিন হয়ে আসছে। বলতে ইচ্ছা করছে বিদায় রুপা। তুমি ভালো থেকো।
বি দ্রঃ লেখাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। গল্পের কোন চরিত্র বাস্তবের সাথে মিলে গেলে লেখক দায়ী নহে।
# এই গল্পের লেখক গল্প লিখতে পারে না। এইটি সামান্য প্রয়াস মাত্র।
# বানান জনিত ভুল নিজ গুনে ক্ষমা করবেন।B-)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×