স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিটি দেশের কিছু একান্ত নিজস্ব জাতিসত্তা পরিচয় বহনকারী বিভিন্ন প্রতীক, বস্তু, ধারণা থাকে। যেমন জাতীয় পশু, জাতীয় পাখি, জাতীয় ফুল, জাতীয় মাছ, জাতীয় ফল, জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা, জাতীয় ভাষা ইত্যাদি। এগুলো একটি জাতীর সামগ্রিক চেতনাকে লালন করে।
এধরণের জাতীয় কোন কিছু চয়ন করার ক্ষেত্রে একটি দেশের জনগনের কাছে ঐ জিনিসের গ্রহনযোগ্যতা, আবেদন, ভালবাসা, ঐতিহ্য ইত্যাদি প্রধান্য পেয়ে থাকে। যেমন "আমার সোনার বাংলা" গানটিকে জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে এই গানের সাবলীলতা, আবেগ, মাধুর্য,সার্বজনীনতা ও অকপট মাতৃভূমি প্রেমের জন্য। জাতীয় পশু বাঘ, জাতীয় পাখি দোয়েল, জাতীয় ফুল শাপলা, জাতীয় মাছ ইলিশ, জাতীয় ফল কাঠাল, জাতীয় বিভিন্ন দিবস-- এগুলোও নির্বাচনের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য।
যখন আপনি জাতীয় ফল হিসেবে কাঠালকে নির্বাচন করলেন তখন এর মানে এই নয় যে আপনি আর আম বা কলা খেতে পারবেননা। রাষ্ট্র ভাষা বাংলা মনেই এই নয় যে চাকমা, মারমা, সাওতাল বা গারোরা তাদের নিজ নিজ ভাষায় কথা বলতে পারবে না। "রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম" মানে এই নয় যে আপনি একজন হিন্দু কিংবা খৃস্টান হতে পারবেন না। তাহলে শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম থাকতে বাধা কোথায়?
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। বলা হচ্ছে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম করলে নাকি অন্যান্ন ধর্মকে খাটো করা হয়, এটা নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী, অসাম্প্রদায়িকতার পরিপন্থী! সুতরাং তারাতারী সংবিধান থেকে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম কে কেটে "ধর্ম নিরপেক্ষ" লাগাতে হবে!
তাই যদি হয় তা হলেতো সংবিধানে আরো কিছু স্থানে অস্ত্রোপচার চালাতে হবে। প্রথমে "রাষ্ট্র ভাষা বাংলা"র স্থলে লিখুন "ভাষা নিরপেক্ষ"! তা নাহলে উপজাতি সহ অন্যান্য ভাষাকেই যে ছোট করা হয়ে যায়(ফল,পশু, মাছ, সংগীত, দিবস এগুলোর কথা নাহয় বাদ দেন)। এভাবে লিখতে থাকুন আমরা বাংলাদেশীরা "সংগীত নিরপেক্ষ", "ফল নিরপেক্ষ", "মাছ নিরপেক্ষ", "গাছ নিরপেক্ষ", "দিবস নিরপেক্ষ", "ফুল নিরপেক্ষ", -------আর যদি না পারেন তবে নিজেকে অসাম্প্রদায়িক দাবী করেন কোন মুখে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

