somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ক্যাপ্টেন জুলিয়াস
আমি তাদের দলের যারা হাজার বার "আমি অমুক, আমি তমুক" বলে চিৎকার করলেও কেউ চিনবেনা, কেউ হয়তো চিনে ফেললেও একবার তাকিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিজের মত ব্যাস্ত হয়ে পড়বে। ব্যাস্ত নগরীর মাঝে পিঁপড়ার মত ক্ষুদ্র যে অসংখ্য মানুষের ভিড় দেখা যায়, আমি তাদের একজন।

সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি নাকি সৃজনশীল ব্যবসা

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃজনশীল পদ্ধতি খুব স্বম্ভবত আমরা মার্কিনীদের থেকে নিয়েছি। যদি ভুল না করি তাহলে যে ভদ্রলোক এই ধারনাটি দেন তার নাম বেঞ্জামিন স্যামুয়েল ব্লুম, আর তার সেই শিক্ষা পদ্ধতির নাম "ব্লুম ট্যাক্সোনোমি (Bloom Taxonomy)"। খুব ভালো কথা! চমৎকার একটা সিদ্ধান্ত! ছাত্র ছাত্রীরা এখন প্রচুর সৃজনশীল হয়ে উঠবে। আফসুসের ব্যপার হলো ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিদেশীদের এই কনসেপ্টটাই শুধু আমরা নিয়েছি, এর জন্য আর কোন গবেষনা আমরা করিনি। কিভাবে এদেশে আমরা এটি ইমপ্লিমেন্ট করবো তার জন্য কিছুই ভাবি নাই। আমাদের যেই সামগ্রিক শিক্ষাযন্ত্র, তাতে এই পদ্ধতি কতটুকু যায়, কিংবা কিভাবে যাওয়ানো যায় তা চিন্তাও করিনি কখনো। সরকার নিজেই একবার স্বপ্রনোদিত হয়ে একটা জরিপ চালিয়েছে। শুধু মাধ্যমিক স্কুলের তথ্যটা দিই, মাশাল্লাহ ৪৩% স্কুল প্রশ্নই বানাতেই পারেনা, ২৭% অন্য স্কুল থেকে এনে মেরে দেয় আর ১৬-১৭% স্কুলতো প্রশ্ন কিনে এনে পরীক্ষা নেয়। এর মাঝখানে যে স্কুল না জেনেও নিজেরা প্রশ্ন বানায় তারা কি ঘোড়ার দিম বানায় বুঝাই যায়। আর ক্লাসে কি পড়ায় তা নাহয় নাই বললাম!

দায়িত্ব নিয়েই বলছি, দেশের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষকরা নিজেরা প্রশ্ন না করে বাজারে চলা গাইড থেকে হুবুহু প্রশ্ন তুলে দিয়ে পরীক্ষা নেয়। তাদের বোর্ড বইয়ের ধারে কাছে না গিয়ে গাইডের থেকে মডেল কোয়েশ্চান পড়ায়। আর শিক্ষকদের স্কুলের মধ্যেই কোচিং বানিজ্যের কথা নাহয় নাই বলি। সারাদিন ক্লাস করার পর টাকার বিনিময়ে বাধ্যতামূলক কোচিং এর ব্যবস্থা করে বাচ্চাগুলোরে আরো কয়েক ঘন্টা স্কুলে বসাই রাখে। অন্ধের মত ছুটতে থাকা আমাদের অভিবাবকেরাও এসব নিয়ে ভাবেনা। খেলাধুলা, অবসর সময়, ঘুরাঘুরি এসব তাদের কাছে প্রোডাক্টিভ না। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় যেভাবে শ্রমিককে চুষে শ্রম নেয়া হয়, বাচ্চাগুলোকেও ঠিক সেভাবে বাধ্যতামূলক পড়ালেখায় আবদ্ধ রেখে প্রোডাক্টিভ বাচ্চায় পরিনত করা হয়, যেন ভবিষ্যতে ভালো প্রোডাক্ট দেয়, টাকা কামায়!

ভাবা হয়েছিল সৃজনশীল হলে গাইডের প্রচলন কমে যাবে, কোচিং ব্যবসা বন্ধ হবে, আর এখন? গাইড ছাড়াতো পাশ করাই অসম্ভব! আর কোচিং? সেটাতো স্বয়ং স্কুলেই শিক্ষকেরা খুলে বসে আছে! সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার নামে খুব একটি সৃজনশীল ব্যবসা পদ্ধতি চালু হয়েছে! সৃজনশীল পদ্ধতি হিসেবে এটি অত্যাধিক কার্যকরী, তবে সেটি শিক্ষার জন্য নয়, ব্যবসার জন্য।

এসব নিয়ে কখনো কাউকে কথা বলতেও শুনিনা, বললেও তা কখনো "সাকিব খানের বিয়ে" কিংবা "সাবিলা নুরের লিংক" এর খবরের সামনে এসে দাড়াতে পারেনা! এই ঘুনে ধরা শিক্ষা পদ্ধতিতে কোয়ান্টিটিতে বিশাল এক শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বের হবে, কিন্তু কোয়ালিটিতে?
শূন্য!
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:৩৮
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×