somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডিআরইউ মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বিদায়ী ইইউ রাষ্ট্রদূত যুদ্ধাপরাধ বিচারের বর্তমান প্রক্রিয়ার সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একমত নয়

২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

0বিচার হতে হবে আন্তর্জাতিকমানের উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ00
0জাতিসংঘের সংশ্লিষ্টতা ও বিদেশী পর্যবেক্ষক থাকতে হবে00
0মৃত্যুদন্ড সমর্থন করে না ইইউ00
0 ভিকটিমদের পূর্ণাঙ্গ আইনী সহায়তা ও আপিলের সুযোগ থাকতে হবে00
0ওয়ান ইলেভেনের সাথে আমরা ১৬ কূটনীতিকের কেউই জড়িত ছিলাম না00

কূটনৈতিক রিপোর্টার : ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত স্টিফেন ফ্রোয়েন বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার হতে হবে আন্তর্জাতিকমানের। আন্তর্জাতিকমান ছাড়া অন্য কোন প্রক্রিয়ায় যেনতেন বিচার ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমর্থন করে না। এই বিচার প্রক্রিয়ার সাথে জাতিসংঘকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিচার করতে যেয়ে যেন মানবাধিকার এবং সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। যুদ্ধাপরাধের বর্তমান বিচার প্রক্রিয়ার সাথে ইইউ পুরোপুরি একমত নয়। ইইউ রাষ্ট্রদূত গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপরোক্ত কথা বলেন। রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শামীম আহম্মেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক পথিক সাহা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্টিফেন ফ্রোয়েন বলেন, প্রকৃতপক্ষে কেউ যুদ্ধাপরাধ বা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করে থাকলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। তবে বাংলাদেশে মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে যা ইইউ সমর্থন করে না। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার হতে হবে উন্মুক্ত এবং স্বচ্ছ। বাংলাদেশের সংবিধান যে মৌলিক অধিকার দিয়েছে সেটা সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিকমান বজায় রাখতে হবে। যেমন করে নাজীদের বিচার বা অন্যান্য যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল হয়েছে সেরূপ হতে হবে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন। বিদেশী পর্যবেক্ষক থাকতে হবে।
ওয়ান ইলেভেনের সাথে তিনিসহ পশ্চিমা কূটনীতিকদের জড়িত থাকা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে স্টিফেন ফ্রোয়েন বলেন, যারা সরাসরি এই অভিযোগ করেন তারা ননসেন্স। বাংলাদেশের জরুরি অবস্থা জারিতে আমরাও বিস্মিত হয়েছিলাম। তিনি বলেন, আমি, আনোয়ার চৌধুরী বা জার্মানি, ইউকে, ভারতসহ যে ১৬ জন কূটনীতিকে ওয়ান ইলেভেনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়, আসলে তারা কেউই এর সাথে জড়িত ছিলেন না। দেশের রাজনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তার এক পর্যায়ে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয় যাতে জড়িত ছিল সেনাবাহিনী। তিনি আরো বলেন, জরুরি অবস্থা জারির প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা জড়িত। তারা যদি রাজনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে পারতেন তাহলে হয়তো ঘটনা হতো অন্য রকম। এছাড়াও আমরা জরুরি অবস্থাকে নীতিগতভাবে সমর্থন করি না। কারণ, এটা মানুষের অনেক মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়। বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চা ঠিকমত হলে ভবিষ্যতে হয়তো এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর নাও ঘটতে পারে।
ওয়ান ইলেভেনের সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও ইইউ রাষ্ট্রদূত রাজনৈতিক সংকট কাটাতে উদ্যোগ গ্রহণের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমরা চারদলীয় জোট এবং ১৪ দলীয় জোটের সাথে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে কথা বলেছি। তবে তাতে কোন কাজ হয়নি। তিনি আরো স্বীকার করেন যে, ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির ঘোষিত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইইউ। কারণ ঐ নির্বাচন একটি বড় রাজনৈতিক জোট বয়কট করেছিল। ইইউ সদর দফতর থেকে ঐ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ না করার সিদ্ধান্ত আমাদেরকে জানানো হয়েছিল। ২০০৭ সালে মোট ভোটার ছিল ৯ কোটি ৩০ লাখ। ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির পর এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৮ কোটি ১০ লাখ। এতে প্রমাণ হয় যে, বিপুল ভুয়া ভোটার ছিল এবং ঐ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ না করার সিদ্ধান্ত আমাদের সঠিক ছিল।
ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশংসা করে ফ্রোয়েন বলেন, তারা ভাল কিছুই করেনি ঢালাওভাবে এ মন্তব্য সঠিক নয়। তারা বিশ্বের রেকর্ডতম স্বল্প সময়ে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি করেছে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করেছে।
২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে ইইউ রাষ্ট্রদূত হয়ে আসেন জার্মান নাগরিক স্টিফেন ফ্রোয়েন। পাঁচবছর পূর্ণ করে আগামী মাসে তিনি দেশে ফিরে যাবেন। বিদায় নেয়ার একমাস আগে আয়োজিত এই মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বর্ষীয়ান এই রাষ্ট্রদূত তার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের জন্য তিনটি সমস্যাকে বড় হিসেবে তুলে ধরেন। সমস্যা তিনটি হলো জনসংখ্যা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং পানি ব্যবস্থাপনা। হিমালয়ের বরফগলা পানি বাংলাদেশে আসছে নেপাল ও ভারতের ওপর দিয়ে। বাংলাদেশকে তাই পানি ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ বিনিয়োগ। বাংলাদেশ চাইলে ইইউসহ অনেক দেশই এগিয়ে আসবে। তিনি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে নেপাল ও ভুটান থেকে আমদানির পরামর্শ দেন। অন্যদিকে আঞ্চলিক ও ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে তিনি ভারত ও চীন উভয়ের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×