somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসার ফুটবল

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখি । সেটা ১৯৮২ সালের কথা ।সেই সময়টাতে দেশের ফুটবল লীগও জমজমাট । সালাহূউদ্দীন,চুন্নু, সালাম,বাদল,গাফফার,আশিস ভদ্র, খোরশেদ বাবুল ,টুটুল, ওয়াসিম তখন দেশের সুপার স্টার ফুটবলার । আবাহনী- মোহামেডান-ব্রার্দাস ঢাকার মাঠ দাবড়িয়ে বেড়ায় । ১৯৮১ সাল থেকেই আমি ঢাকা স্টেডিয়ামে নিয়মিত আবাহনীর খেলা দেখতে যেতাম। স্টেডিয়ামে আমার খেলা দেখার সবচেয়ে বড় উৎসাহ ও প্রেরনা ছিলেন পাশের বাসার বড়ভাই আবু হানিফ । তার সাথেই আবাহনীর খেলা দেখতে যেতাম তার সাইকেল চেপে কিংবা বাসাবো থেকে কিছুটা রিক্সা চেপে আউটার সার্কুলার রোডের আল-হেলাল হোটেলের সামনে এসে রিক্সা ছেড়ে দিতাম । তারপর কিছুটা হেঁটে ফকিরাপুল-আরামবাগের খাল পেরিয়ে স্টেডিয়াম যেতাম । আবাহনীর খেলা থাকলে ঝড়-বৃষ্টি আমাকে আটকে রাখতে পারত না।
আমার বাবাও স্টেডিয়াম গিয়ে নিয়মিত খেলা দেখতেন । তিনি ছিলেন মোহামেডানের ঘোর সমর্থক। আমি আবাহনী, বড়ভাই ও বোন ছিল মোহামেডানের সমর্থক । বাসায় খেলা নিয়ে তিনভাই বোনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া বেঁধে যেত। কিন্তু প্রায় সময় আমি তর্কে হেরে যেতাম। কারন বাসায় আমি ছিলাম সংখালঘধে। আমার ছোটকাকাও ছিলেন মোহামেডানের সমর্থক, তিনি আমার বড়ভাই ও বোনের পক্ষ নিতেন। তারপরেও তিনি আমাকে আবাহনীর খেলার দেখার জন্য টাকা দিতেন । সেই টাকা নিয়ে আমি স্কুল থেকে টিফিনের পর সোজা স্টেডিয়াম চলে যেতাম ।
পরিবারের সবাই খেলা পাগল বলেই বাসায় নিয়মিত রাখা হত পাক্ষিক ক্রীড়াজগত । ম্যাগাজিনটি যখন হকার দিয়ে যেত, তখন কে কার আগে পড়বো- এই নিয়েও কাড়াকাড়ি পড়ে যেত ।
১৯৮২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার আসর হবে স্পেনে। তখনো আমাদের বাসায় রঙিন টেলিভিশন আসেনি ।পাড়ায় হাতে গোনা ২/৪টি বাসায় রংগীন টিভি ছিল। বিটিভি বেশ কয়টি খেলা দেখাবে শুনেই আমাদের তিনভাই বোনের প্রচন্ড মন খারাপ , সাদাকালো টিভিতে খেলা দেখতে হবে বলে !
আমাদের মনের অবস্থা বাবা বুঝতে পেরেছিলেন কিনা জানি না। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর আগের রাতে আমাদের বাসায় চলে আসে ১৭ ইঞ্চি ফিলিপসের রংগীন টিভি । যদ্দুর মনে পড়ে আমরা তিন ভাইবোন পড়া শেষ করে রাতের খাবার খেয়ে ১০টা কি সাড়ে ১০টায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। বাবা টিভি নিয়ে বাসায় এসেছিলেন অনেক রাত করেই। সেই রাতে আমাদের ঘুম থেকে উঠিয়ে বাবা সারপ্রাইজই দিয়েছিলেন।
বাসায় রঙ্গীন টিভি দেখে আমাদের কি আনন্দ, সেটা বলে বোঝানো যাবে না ! সবেমাত্রই তখন বিটিভি রংগীন হতে শুরু করেছে ।
জ্ঞান হবার পর প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল দেখেছি ১৯৮২ সালে, যা স্পে্নে অনুস্টিত হয়েছিল । মনে পড়ে পোল্যান্ডের লেটো, বনিয়েক, ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি, ব্রাজিলের জিকো্‌ ,সক্রেটিস , ইংল্যান্ডের কেভিন কিগান, ইতালীর দিনো জফ, মালদিনির খেলা কিশোর মনে দাগ কেটেছিল । যা আজও স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে আছে । বিশ্বকাপ নিয়েও বাসায় আমাদের তিনভাই-বোনের মধ্যে প্রচন্ড ঝগড়া ঝাটি লেগেই থাকতো। সেইবারো আমি ছিলাম সংখালঘু। কারন বাসায় সবাই আর্জেন্টিনার সমর্থক ছিলেন।
১৯৯০ সালের পর ফুটবল নিয়ে আমার উত্তেজনা কমেছে ।
এখন আর নিয়মিত ঢাকা ফুটবল লীগ দেখা হয় না। এই খেলা দেখা নিয়ে আমার বা হাত ভেঙ্গেছিল । স্টেডিয়ামের মারামারি ছিল প্রায় নিয়মিত ঘটনা । কতদিন গ্যালারীতে পুলিশের ছোঁড়া কাঁদানে গ্যাসের ঝাঁঝে চোখ দিয়ে অবিরাম পানি ঝরেছে ।১৯৮২ সালের সুপারলীগে আবাহনী-মোহামেডান খেলায় মারামারি বাধলে ৩জন দর্শকের মৃত্যু ঘটে । সেই রাতে সুপারস্টার ফুটবলার কাজি সালাহউদ্দীন, চুন্নু, আনোয়ার ও হেলালকে ক্লাব টেন্ট থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় । পরেরদিন সিএমএইচের সংক্ষিপ্ত কোর্ট মার্শাল শেষে ঢাকার বাইরে নিয়ে যাবার জন্য কমলাপুর রেলস্টেশনে হ্যান্ডক্যাপ পড়া অবস্থায় প্রিয় খেলোয়াড়দের নিয়ে এলে চোখের পানি গড়গড়িয়ে পড়েছে । ভালোবাসার ফুটবল , প্রিয়দল , প্রিয় খেলোয়ারদের নিয়ে কত স্মৃতি !
কিন্তু এখন সেই চিত্র উল্টো ।
ফুটবল ছেড়ে সব ভালোবাসা এখন ক্রিকেট নিয়ে ।তারপরও ফুটবলের প্রতি একটা টান রয়েই গেছে হ্রদয়ের গভীরে ।বিশ্বকাপ ফুটবল এলে কিংবা ইউরোপীয়ান লীগের খেলা নিয়ে মাঝে মাঝে সেই উত্তেজনায় গা ভাসিয়ে দেই । বাসায়ও সাপোর্টারদের মাঝে এসেছে পরিবর্তন । এখন বাবা-ভাই-মা আমিসহ সবাই ব্রাজিল সমর্থক।বিশ্বকাপ এলে আমার ছোট বোনটাকেও খুব মিস করি ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৫০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×