somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনাবাসী জীবনের কড়চা-৩

১৪ ই মার্চ, ২০১৯ ভোর ৬:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
চা


সকালে ঘুম ভাংলো অনেক দেরী করে। বিছানার পাশে রাখা মোবাইলে সময় দেখাচ্ছে বেলা সাড়ে এগারোটা বাজচ্ছে। আমার ছুটির সকাল। দুনিয়ার অলসতা পেয়ে বসেছে। বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছে না। কিছুক্ষন মটকা মেরে শুয়ে থাকি। পেটের ভেতর ক্ষুধার অজগর সাপটা মোচড় দিতে উঠতে হলো।
ল্যাপটপে রবীন্দ্রসংগীত বাজছে। আমার বেলা যে যায় সাঝবেলাতে..! গানটা শুনে নিজে নিজে হাসলাম।দুপুরে কেন সাঝবেলার গান! গান গানই। গানের কথায় সকাল দুপুর কিংবা সাঝবেলাই বা কি! গান শুনতে শুনতে ব্রেডে জেলি, চীজ মেখে আরাম করে বসি লিভিংরুমে। সেদ্ধ ডিমে কামড় দিতে দিতে গতরাতে অর্ধেক পড়া 'আনন্দবেদনার কাব্য' বইয়ের পাতা উল্টাই। হুমায়ুন আহমেদের কবি গল্পটা আমার অসম্ভব প্রিয়। আবারও পড়তে থাকি। প্রেসের মালিক সিরাজ সাহেব রেগে আছেন। ঝড় বাদলের দিন।প্রুফ রিডার আসেননি।মেশিনম্যান অলস হয়ে বসে আছে। সিরাজ সাহেবের ভেতরেও তুমুল ঝড়। আজ রাতটা কাটাবেন বিন্তির বাসায়। কিন্তু প্রুফরিডার জোবেদ আলীর জন্য সব কেমন ওলোট পালোট হয়ে যাচ্ছে। অনেক রাত করে জোবেদ আলী প্রেসে আসেন। রাগী রাগী চেহারা করে রাখা সিরাজ সাহেব তেমন কিছুই বলতে পারলেন না। যতোটা মেঘ করে রেখেছিলেন চেহারায় তার বিন্দুমাত্র বর্ষন করতে পারলেন না। জোবেদ আলী " স্যার " বলতেই সিরাজ সাহেবের রাগ জল হয়ে যায়।খাতির করে বসিয়ে উলটো জোবেদ আলীকে চা খাওয়ান।
পড়তে পড়তে এখানে এসে দুধ চায়ের কথায় আমারও খুব চা খেতে ইচ্ছে হলো। হুমায়ুন আহমেদ তার গল্প- উপন্যাসে সবাইকে চা খাওয়ান। অনাবাসী জীবনে খুব মিসড করি কারওয়ান বাজারে ফুটপাতে শামীমের চা, নারায়ণগঞ্জে আলমকেবিনের চা, কালিরবাজারের স্বর্নপট্টির গুপচিগলিতে পরানবাবুর চা, দুইনাম্বার গেইটের বটতলায় অতুলের চা কিংবা কালেভদ্রে বোস কেবিনের চা । আহা কতদিন প্রিয়সহকর্মী ও বন্ধুদের সাথে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে চা খাই না! এখানে প্রতিদিন অন্তত তিনবেলা কফি খাওয়া হয়। কড়া কফি আমার অপছন্দ। স্টারবাকের লাতে, টিমহর্টনের ফ্রেঞ্চ ভ্যানিলা কফি খুব পছন্দের। ফ্লেভারটা মিস্টি বলেই আয়েশ করে খাই।
চা খাবো বলে আগস্ট মাসে বাসার জন্য টেটলি এবং রেডলেবেল চায়ের দুটো ঢাউশ সাইজের বক্স কিনেছিলাম। দুটোতে ছিল ২০০ প্যাকেট চায়ের পাতা।মনে হয় না সেখান হতে ৮/১০ বার চা খাওয়া হয়েছে। হুমায়ুন আহমেদ আমার অবেলার সকালে চা খাওয়া উস্কে দিয়েছেন। মাইক্রোওভেনে মগে হটওয়াটার ও রেডলেবেলের প্যাকেট দিয়ে ২ মিনিট অপেক্ষা করতে করতে কবি গল্পটা শেষ করার পর মনটা বড় বিষন্ন হয়ে যায়। অভাব অনটনের সংসারে মা মরা মেয়েটা জ্বরে বাবার কাছে কলা খেতে চেয়েছে। মাসের মাঝামাঝি সময় জোবেদ আলীর হাতশুন্য। সিরাজ সাহেবও তাকে সহজে টাকা দিবে না জেনে অনেকরাত পর্যন্ত শুধু ১০টি টাকার জন্য জোবেদ আলী প্রুফ দেখে ঝড় বাদলের মধ্যে যখন রাস্তায় নামেন তখন অতোরাতে দোকানপাট সব কিছু বন্ধ। মন খারাপ করে বাসায় ফেরেন জোবেদ আলী।পকেটে টাকা থাকার পরও অসুস্থ মেয়েটার জন্য কলা কিনতে না পারার বেদনায় একজন অক্ষম বাবার ভেতরের ক্ষরন আমাকেও ছুয়ে যায়।
চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বিছানার পাশে বিশাল উইন্ডোর ভারী পর্দা সরিয়ে আকাশ দেখি। মন্ট্রিয়েলের আকাশটাও আজ কেমন মনমরা, ঘোলা হয়ে আছে। জোবেদ আলীর বেদনা শুধু আমাকে ছুয়ে যায়নি মন্ট্রিয়েলের আকাশকেও যেন ছুয়েছে।

১৩.০৩.২০১৯
মন্ট্রিয়েল
কুইবেক,কানাডা
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০১৯ সকাল ৭:২৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরআন-হাদিস মানতে বলার ওয়াজ একটি ভুল ওয়াজ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×