এখান থেকে পাহাড় খুব কাছে, তুমি স্বপ্নগুলোকে মুক্ত আকাশে উন্মুক্ত কর, দেখবে তা প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে এসেছে বারে বারে।কিসের প্রতিধ্বনি জানিনা, হয়তো নিঃসঙ্গতার, নিস্তব্ধতার, কিংবা নির্ভরতার।ঐ যে দূরে, পাহারের চূড়ায় একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ ঠায় দাড়িয়ে আছে, তার শাখা প্রশাখায় জমে থাকা ফুলের লাল আগুন ভেদ করে একদল অভিমান আর অদৃশ্য কান্না বাস্প হয়ে ছুয়ে ছুয়ে যাবে তোমার অপলক দৃষ্টিকে।তুমি দেখতে পাচ্ছ কি?অনুভব করতে পারছ কি পাহাড় ভেঙ্গে আসা দমকা বাতাসে এততুকুও আলোড়ন নেই,নেই নিস্তব্ধতা ভাঙ্গার গর্জনও।আজ থেকে কিছুকাল আগেও এই পাহাড়ে দাড়িয়ে তুমি বলছিলে এই আকাশটা তোমার ,আমি শুধু আকাশের নিচে শীতল হতে এসেছি।তুমি যতবার বৃষ্টি ঝরাবে আমি ততবার শুধু ভিজবো,আমি ভিজবো আর বলবো তোমার পাঁজরের প্রতিটি ভাঁজে আমি মিশে যেতে চাই, তুমি আরও বেশী শীতল করো আমায়।এখন বিকেল, এরপর সন্ধ্যা, তারপর মাঝরাত ,সকাল অব্দি আমি আমার আমিত্বকে তোমার অস্তিত্তে অবগাহন করতে চাই।ভোর হোক বা না হোক রাতভর বৃষ্টি যেন হয়।আমার অস্তিত্তের শুরু এবং শেষ এই ব্যাবধান টুকু কে জীবন হিসেবে ধরে নিয়েছি,তাই এক মুহূর্তের স্বপ্ন বিচ্যুতি হতে দেবনা,তুমি যতই সাঝবাতি জ্বালিয়ে আধারকে দূর পরবাসে পাঠাওনা কেন।আমার খুব ইছছে এমন একটা জমজ পাহাড় আমি কিনে নেবো, যার মাঝখান দিয়ে বয়ে যাবে তুলতুলে একটা শান্ত নদী,এখানে সারারাত বৃষ্টি নামবে অঝোরে ,আর আমি ছোট্ট একটা রঙ্গিন পানসি নিয়ে অভিসারে যাব, তুমি বসে থাকবে ঠিক শেষ প্রান্তে আর আমি হব সেই খেয়ালি রাজকন্যার বিলাশী ভ্রমণসঙ্গী,অবিরাম দুলতে থাকা পানসি নিয়ে ভেসে যাব দ্বীপ থেকে দ্বীপান্তরে।আমি জানি আমার এ বাউণ্ডুলে ভাবনা স্রোতস্বিনী নদীর মতো ভেসে যাবে সপ্নখেকো জলোচ্ছ্বাসে।আবার কোনও এক শ্রাবণে ঠিক এখানে দাড়িয়ে আমি নিঃসঙ্কোচে অরন্যের বুকে বিদীর্ণ করে প্রতিধ্বনির অপেক্ষা করবো আর তুমি অস্পষ্ট সুখ হয়ে হারিয়ে যাবে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে।শুধু পড়ে রবে প্রানহীন নির্বাক স্বপ্নগুলো সময়ের প্রবাহে তিলে তিলে যার অবিনশ্বর বিয়োজন এই নিস্তব্ধ নিরবতায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



