somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অস্ত

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার আর সঞ্জুর ভালোবাসার সম্পর্কটা একেবারে ধর-ফরিয়ে মরে গেলো।তাও ভালো ধুঁকেধুঁকেতো মরতে হয়নি ! বেঁচে উঠার একটা আশা তখন কী বিশ্রী রকম দলা বেঁধে থাকত। সে ভোগান্তি ছাড়া আর অন্য কি ! অবশ্য এর চেয়ে ভালো শুনায় “আমার ভালোবাসা একদিন দুপুরে টুক করে মরে গেল”। টুক করে শব্দটাতে কোন ভয়াবহতা নেই। সহজাত একটা নমনীয়তা থাকুক মেনে নেয়ার শব্দগুলোতে ।
এমন ছুটির হলুদ বিকেলগুলোতে বারান্দায় সঞ্জু আমার পা তার কোলে তুলে নিত । কখনো আমি ওর চুলে বিলি কেটে দিতাম । স্নিগ্ধ কিছু খুনসুটিতে আমাদের বিকেলটা কখন সন্ধ্যা হয়ে যেত টেরই পেতাম না। রাতের খাবার খেয়ে সে যখন যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াতো আমার মনের সমস্ত মমতা দিয়ে আমি তাকে একটা ছোট চুমু খেতাম । সেও নিজের ফ্লাটে যেতে না যেতেই আবার ফোন করে বলতো আমার জন্য তার খারাপ লাগছে ।
ভালোবাসা অনেকটাই কৃতজ্ঞতা ।আমার প্রতি সঞ্জুর এমন উচাটন টান আর নির্ভরতাই আমাকে তার প্রতি অনুরক্ত রেখেছিল। বাড়িয়েছিল প্রেম । এছাড়া অন্য কোন কারণ আমি দেখিনি । দশ-বছরে এই প্রেম গেঁথে গিয়েছিল আমার মজ্জায় ।সঞ্জু ! সঞ্জু আমার পোষ্য, আমার প্রেমিক ,আমার পায়েপায়ে ঘুরা অবোধ শিশু। বাজে শোনালেও আমাদের বয়সের ব্যবধান আর সঞ্জুর প্রতি আমার স্নেহ হয়তো আমাকে সন্তানের আকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল । কিন্তু নির্ভরতা কেন এলো ?না সেটাতো আজন্ম শিখিনি ।
দশ বছরের ধর্মও সমাজের বাইরে একটা অলিখিত সম্পর্কে আমার দীক্ষাই আমি সঞ্জুকে দিয়েছিলাম । তাইতো আপাদমস্তক সে হয়ে উঠেছে একটি সৎমূর্তি । যতটুকু সৎ তা নিয়ে সে আমাকে দশ বছর আগের এক সন্ধ্যায় বলেছিল, আমি তোমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি -রোজারিও। আবার ঠিক ততটুকু সততা নিয়েই কিছুদিন আগের এক-ক্লান্ত দুপুরে সে বলল, আমি তোমাকে আর ভালোবাসি না-রোজ । ভালোবাসি একজন আত্মীয়ের মতো বন্ধুর মতো। প্রেমিকার মতো নয়।
এখন নাকি রুনাকে ওর বেশ ভালোলাগতে শুরু করেছে। রুনার চোখের রঙ নাকি আমার মতোই বাদামী। পঁয়ত্রিশে আমি যেমন দেখতে ছিলাম সে নাকি তারই প্রতিচ্ছবি, আমার মতোই রুনাও নাকি কবিতা লেখে। আর সব চেয়ে বড় মিল হচ্ছে সঞ্জুকে বেশ সজীবতা দিতে জানে।
একটু আসছি বলে আমি পাশের ঘরের আয়নায় দাঁড়িয়েছিলাম । ওর দোষ নেই। এখন আমি পঁয়তাল্লিশ আর সে ত্রিশ। আমাদের দুজনের বর্তমানটুকু আসলে শেষ। আমি অই ঘরে ফিরে গিয়ে সঞ্জুর সততার সমান অসততা নিয়ে উৎফুল্লে ফেটে পড়েছিলাম । বলেছিলাম, “তুমি বরাবর ভাগ্যবান। আশা করছি রুনার সাথে তোমার সময় খুব ভালো যাবে”। যাবার সময় সে আমাকে একটা অপরাধ বোধহীণ স্বচ্ছ ও সাবলীল চুমু খেয়েছিল । আমি আগের মতো মমতা আনতে পারিনি । নিজের ভেতরের স্বার্থপর, ক্ষুদ্র ও প্রাগৈতিহাসিক মানুষটাকে আমি সেদিনই দেখলাম। কি-আশ্চর্য ! যাকে কিনা আমি ধরেধরে আধুনিকতার মন্ত্রগুলো শিখিয়েছিলাম তার কাছেই কিনা আমি গোপনে হেরে গেছি!
এরপর গাজীপুর ফরেস্ট অফিসে আমি বদলী হয়ে আসার পর থেকে আরো নিষঙ্গ হয়ে পড়ি । রুটিন কাজের চাপ নেই । রাত হতে নাহতেই ঝিঁঝিঁ পোঁকার ডাকে স্মৃতি উস্কে উঠে। ঝাপসা ঝাপসা মনে পড়ে বহুকাল আগের আমার ক্ষণস্থায়ী সংসার আর ডেভিডের কথা। যাকে আমি ছেড়ে এসেছিলাম । কিন্তু বিগত দশ বছরই যেন আমার সমগ্র জীবনের স্মৃতি দখল করে থাকে। কখনো প্রেমে ,কখনো স্নেহে ,কখনো ভালোবাসায় মনটা সঞ্জুর জন্য কেঁদে মরে ।
আমি সঞ্জুকে রুনাকে সহই এখানে আসার নিমন্ত্রণ পাঠাই। আবার তার এখানে আসা যাওয়া নিয়মিত হয়।খুশি হই ,তাকে দেখতেতো পাচ্ছি । মাঝেমাঝে সে রুনাকে নিয়ে আসে। মাঝেমাঝে একা ।আমরা তখন হাত ধরে হেঁটেহেঁটে ইউক্যালিপটাস বনের শেষ মাথায় চলে যাই। সে অনর্গল রুনার কথা বলতে থাকে।
আর সবকিছুর মতো ভালোবাসার মৃত্যুও তার পরবর্তী রূপান্তর মেনে নেয়াই সভ্যতা। আমিও একজন প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে শেষ দীক্ষাটা নিয়ে নিয়েছি। মেনে নেয়ার ভান করা।


ডিসকভারী চ্যানেল এর একটা অনুষ্ঠানে দেখানো একটি বাস্তব জবানবন্দি থেকে অনুপ্রাণিত
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:০১
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সদয় আচরণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

১) "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×