somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরষ্কার

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৮:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নিউজ চ্যানেল এ নিজের নাম সবার প্রথমেই দেখে কেমন লাগছে এটা এখন শুধু আমিই বলতে পারবো। আমার বয়স ভিত্তিক হিউম্যান এলিমিনেশন প্রোগ্রাম অবশেষে সরকার গ্রহণ করেছে। যার দারা নির্দিষ্ট বয়সের মানুষ গুলোকে এক সাথে মেরে ফেলা যাবে। এখন আমি পৃথিবীর সব থেকে বেশী আলোচিত ব্যক্তি। আমার দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টা এবার সফল হলো। এখন শুধু সরকারের কাছ থেকে পুরস্কার পাওয়ার অপেক্ষা এবং আমার গোপন পরীক্ষা টা সফল হলেই হয়।
.
টেলিভিশন বন্ধ করে আমি ১৮সি নং রুমে ঢুকলাম। রক্তের স্যাম্পলের বোতল গুলোর উপর লেভেল লাগালাম, ১নং, ২নং, ৩নং, ৪নং। তারপর এ গুলোর উপর তারিখ বসিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য আলাদা একটা শেল্ফে নিয়ে রেখে দিলাম। আমি জানি আমি আমার আমার গবেষণার ফল খুব জলদি পাবো। লিসার রক্ত থেকে কি করে মেয়েটি গোপন শক্তি পাচ্ছে এবং এতদিন বেঁচে আছে, এগুলো জানা রক্তের স্যাম্পল গুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানোর পরে শুধু সময়ের ব্যাপার।
.
কে যেন দরজায় নক করলো।
.
আমি রক্তের স্যাম্পল গুলো ড্রয়ারে তালা মেরে রেখে বললাম "ভীতরে আসো"। দেখলাম আমার সহকারী জ্যাকলিন ভীতরে ঢুকল আমার মেইল বক্স নিয়ে। বক্স টা আমার সামনের টেবিলে রাখতে রাখতে বলল "স্যার, আপনার গার্ড রা তো অতিষ্ঠ করে ফেলছে।" আমি ওর দিকে শক্ত হয়ে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম "এবং কেন অতিষ্ঠ হচ্ছে শুনি?"
.
"আপনি তো জানেন আমাদের পৃথিবী বসবাসের জন্য দিন দিন অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। যার জন্য সরকার মঙ্গল গ্রহে গিয়ে বসবাস এর ব্যবস্থা করেছে কিন্তু পৃথিবীর জনসংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বেশী এবং এত মানুষ মঙ্গল গ্রহে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না তাই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনসংখ্যা কমানোর। যার জন্য ভাইরাস আপনি নিজেই তৈরি করেছেন এবং যখন থেকে সরকার হিউম্যান এলিমিনেশন প্রোগ্রাম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন, তখন থেকে গার্ড রা ভাবছেন যেহেতু তারা আপনার সাথে সম্পর্কিত, তারা চাইছে আপনি যদি আপনার আবিষ্কার সফল হন তাহলে শুধু তাদের কেই আপনি অমরত্ব দিবেন।"
.
জ্যাকলিন এর কথা গুলো আমার কাছে পাগলের প্রলাপের মত লাগছে কারণ যখন জনসংখ্যা হার মাত্রাতিরিক্ত স্থানে চলে যাবে, সরকার মেরে ফেলার জন্য প্রথম টার্গেট করবে ছোট বাচ্চা, কিশোর কিংবা বৃদ্ধদের। আমার মত বয়সী বা মধ্য বয়স্ক মানে যাদের বয়স ২০ থেকে ৪০ এর ভেতর এদের টার্গেট করার সম্ভাবনা একেবারে নাই ই বলা চলে।
.
আমি জ্যাকলিন কে বললাম " সরকার বা সামরিক বাহিনীর কেউ আমার এখানে অপারেশন এর ব্যাপারে জানে না।" আমি আমার সামনের ফাইল গুলোকে নিয়ে এক সাথে করে লোহার ডেস্ক এর ভিতর সোজা করে রাখলাম। তারপর আবার জ্যাকলিনকে বললাম "আর যদি আমি আমার উদ্দেশ্য সফল হই, তাও আমি আমার আবিষ্কারের কথা কাউকে জানাবো না। অবশ্য আমার গার্ডের প্রতি আমার হালকা পাতলা আগ্রহ আছে আমি নিজেও চাই তারাও আমার সাথে অমর হয়ে থাকুক।
.
এখন তুমি যেতে পারো এবং শুনো আজকের পর থেকে তোমার আর এখানে আসার দরকার নেই। এখন থেকে তোমাকে বরখাস্ত করা হলো। আর ভুলেও আমার বর্তমান পরীক্ষার কথা কাউকে জানানোর চেষ্টা করবে না। আর করলে এর ফল তো তুমি জানো" ও কি যেন বলতে চাচ্ছিল কিন্তু আমি ওকে বলতে না দিয়ে বের হয়ে যেতে বললাম এবং ও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘর থেকে বের হয়ে গেলো।
.
ও চলে যাওয়ার পরে আমি জ্যাকলিন এর আনা মেইল বক্স থেকে কলম নিয়ে আমার বুক পকেটে রাখলাম, তারপর খাবারের বিল এবং চারটা ক্রেডিট কার্ড। কিন্তু হঠাৎ আমার চোখে সরকারি স্ট্যাম্প লাগানো খাম চোখে পড়ল। সরকার নিশ্চয়ই আমাকে পুরষ্কার দেওয়ার জন্য ওয়ার্ল্ড হাউসে যাওয়ার ইনভাইটেশন পাঠিয়েছে। এই ইনভাইটেশন টির জন্য আমি গত এক মাস ধরে অপেক্ষা করছি।
.
আমি খাম টা খুললাম। চিঠি ভাজ খুলে চিঠিটা পড়লাম। চিঠির ঠিক ডান পাশে আমার নাম, আইডি কার্ড নাম্বার, জন্ম তারিখ এগুলো লাল কালিতে লেখা ছিল। কিন্তু আমার চোখ চিঠির প্রথম লেখা তে আটকে গেল। লাইন টা দেখে সাথে সাথে চিঠিটা আমার হাত থেকে পড়ে গেলো। শুধু একটি লাইন
.
ডঃ ফ্রাডি! আপনাকেই মৃত্যু দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
.
পুরষ্কার । তাসফিক হোসাইন রেইযা ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৮:২৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×