somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নজরুল ইন্সটিটিউট

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্থান নজরুল ই্ন্সটিটিউট ভবন।দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭২ সালে সরকারিভাবে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। কবিকে বসবাসের জন্য সরকার একটি বাড়ি উপহার দেয়। যেখানে কবি তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো কাটিয়েছেন। কবির মৃত্যুর পর স্মৃতি রক্ষার্থে বাড়িটিকে জাদুঘর করা হয়েছে। বাড়ির সামনের মাঠটিতে গড়ে তোলা হয়েছে নজরুল ইনস্টিটিউট ভবন । যার পঞ্চম তলায় রয়েছে নজরুল ইনস্টিটিউট গ্রন্থাগার। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই গ্রন্থাগারটি।


গ্রন্থাগারে অবাধে প্রবেশ করার মত সুবিধা রয়েছে। পাঠকের খুব বেশি উপস্থিতি চোখে পড়ল না। লাইব্রেরিয়ান কাচে ঘেরা এক রুমে। লাইব্রেরী নিয়ে কথা বলতে তাঁর সাথেই সরাসরি যোগাযোগ করতে হল। তামান্না আনোয়ার নামের লাইব্রেরিয়ান দীর্ঘ ২২ বছর ধরে দায়িত্বে আছেন। লাইব্রেরীর যাবতীয় তথ্য তাঁর নখদর্পণে।


আলাপের শুরুটা হলো পাঠক নিয়েই। পাঠক নেই বললেই চলে। রোজকার দিনের চিত্র, নাকি আজ এমন? ‘এখানে আসলে নিয়মিত পাঠকদের সংখ্যা খুবই কম। গবেষণা ও গবেষকদের আসা যাওয়া বেশি। আর এ কারণেই এই গ্রন্থাগারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থাগার। এখানে যে শুধু বাংলাদেশের মানুষজন আসেন তা কিন্তু নয়। ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসেন। তারা নজরুল নিয়ে গবেষনা করেন। ব্যক্তিগত আগ্রহ থাকে। সেভাবে আসেন। আমরা তাদের নানাভাবে তথ্য দিয়ে সাহায্য করে থাকি। আমাদের কাছে অনেকে অনলাইনেও অনেক তথ্য চেয়ে থাকেন। তাদের মেইল করে থাকি’ বললেন তামান্না।


নজরুল বিষয়ক বইয়ের পাশাপাশি রয়েছে এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকার কপি। আরো রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মুস্তফা সিরাজ, আবুল মনসুর আহম্মদ, আলাওল, কায়কোবাদ, মধুসূদন দত্ত সহ আরো অনেকের বই। রয়েছে বিজ্ঞান, দর্শন, মহাকাব্য,ধর্মীয়, সাম্প্রতিক ইতিহাস ভিত্তিক , মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বই। শিশু একাডেমী ও বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত বই, প্রবন্ধের বই, খেলাধুলা এবং জীবনী গ্রন্থমালা সহ নানা রকম বই।বড়দের পাশাপাশি আছে শিশু-কিশোরদের পাঠযোগ্য বেশ কিছু বই। নজরুলের জন্ম মৃত্যু বার্ষিকীতে দেশের প্রধান দৈনিকগুলোতে নজরুল বিষয়ক যত লেখা প্রকাশ হয়। তা সংগ্রহ করে রাখা হয়।
জানা যায়, সব ধরনের সব বয়সের পাঠকের জন্য উন্মুক্ত এই গ্রন্থাগার। সদস্য হওয়ার কোনো নিয়ম নেই। ব্যবহার করার জন্য টাকা দিয়ে নিবন্ধন করতে হয় না এবং কোনো সদস্য ফিও দিতে হয় না।বিদেশি গবেষক, পিএইচডি গবেষক, এম ফিল গবেষক এবং শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এখানে কাজ করতে পারেন। কেউ চাইলে এখান থেকে বই ক্রয় করতে পারেন।অথবা কপি করার ব্যবস্থা রয়েছে।

গ্রন্থাগারটি শুক্র-শনি সহ বিভিন্ন সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ থাকে। এছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত খোলা থাকে পাঠকের জন্য। একসাথে প্রায় ১০-১২ জন পাঠক পাঠ গ্রহণ করতে পারে।

এতসব তথ্য তামান্না আনোয়ারই দিয়েছেন।কিছু অভিযোগও জানালেন সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় অধীনের এ প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে। এতবছরে তাঁর যে চাওয়াটা ছিল। গ্রন্থাগারটি যেন শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হয়। তাতে বাহিরের ধুলাবালি এসে ভিতরটা নোংরা করবে না। বইগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষিত রাখতে পারবেন। তা আজ্যবধি পূরণ হয়নি। জনবল কম, মাত্র তিনজন মিলে এর দেখভাল করা হয়। তাতে গ্রন্থাগারসহ সর্বক্ষেত্রে পাঠকদের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না

কিছু প্রত্যাশার কথাও জানালেন,বর্তমানে কুমিল্লা,এিশাল,দরিরামপুরে তিনটি নজরুল ইনস্টিটিউট এর গ্রন্থাগার রয়েছে।তবে ঢাকার বাহিরে আরো দুইটি নজরুল ইনস্টিটিউট এর গ্রন্থাগার তৈরি করা হচ্ছে ।কিন্তু পাঠক সংখ্য খুবই কম। ঢাকা সহ অন্যান্য গ্রন্থাগারের এতসব বইয়ের রাজ্যে যদি ভীড় হয়। সেটাই তাদের আনন্দের খোড়াক হবে। সরকারের পৃষ্টপোষকতা ও সুনজরও পড়বে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাবতে পারি না

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১৪


আমি ভাবতে পারি না মধ্য রাতের চাঁদ
আমি ভাবতে পারি না স্নিগ্ধ ভোরের স্নান
মধ্য দুপুরের সূর্য তাপ, সন্ধ্যার ক্লান্তি মুখ!
আমাকে ডেকে নিয়ে যায় ঘাসফড়িং কিংবা
জোনাকির ঘরপোড়া দল- শান্তির সংগ্রামে
দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পতাকার যুদ্ধ অথবা গামছা ও কালিমা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

একটি দেশের পতাকা শুধু কাপড় নয়। এটা একটি চুক্তি—আমরা কে, এই প্রশ্নের সম্মিলিত উত্তর। বাংলাদেশের পতাকার রং লাল-সবুজ। লাল মানে রক্ত, সবুজ মানে মাটি। এই দুটি রঙের পেছনে একটি নির্দিষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের আন্দোলনরত HSC শিক্ষার্থীদের ধিক জানাই

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২০



দেশের কমপক্ষে ৬ টি জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিল ও স্থগিতের জন্যে আন্দোলনে নেমেছে। এরা হল লীগ সরকরারের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা তরুন তরুনী, যারা পড়ালেখা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×